সারা মাসের বাজেট করার সময় শুধু ‘এই মাসে কত খরচ হবে’ ভাববেন না। বরং ভাবুন, হাতে আসা প্রতিটি টাকা কীভাবে ব্যবহার করলে প্রয়োজন মিটবে এবং ভবিষ্যতের জন্যও অর্থ রাখা সম্ভব হবে।
স্ট্রিম ডেস্ক

মাসের শুরুতে বেতন হাতে পাওয়ার পর মনে হয়, এবার হিসাব করে খরচ করব। বাসাভাড়া, বাজার, বিল, যাতায়াতসহ সবকিছুর জন্য টাকা আলাদা করে রাখব। কিছু টাকা সঞ্চয়ও করব। কিন্তু মাস যত গড়াতে থাকে, হিসাব তত এলোমেলো হয়ে যায়। কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে, তার হিসাবও অনেক সময় আর মেলে না। মাস শেষে দেখা যায়, আয় শেষ, কিন্তু সঞ্চয়ের লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
এই সমস্যা সামলানোর একটি জনপ্রিয় উপায় হলো ‘জিরো-বেসড বাজেটিং’ বা ‘শূন্যভিত্তিক বাজেটিং’। এই পদ্ধতিতে আয়ের প্রতিটি টাকার জন্য আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট কাজ ঠিক করা হয়। টাকা যাবে বাসাভাড়া, বাজার, বিল, বিনোদন, সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের কোনো আর্থিক লক্ষ্যে।
নামের মধ্যে ‘জিরো’ থাকলেও এর অর্থ মাস শেষে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা থাকবে না, এমন নয়। বরং বাজেট করার পর কোনো টাকা যেন অবরাদ্দ অবস্থায় না থাকে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ‘আয় করলাম, খরচ করলাম, শেষে যা থাকল তা জমালাম’ বদলে করতে হবে ‘আয় করলাম, প্রতিটি টাকার কাজ ঠিক করলাম, তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচ ও সঞ্চয় করলাম’। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো, টাকা কোথায় যাচ্ছে তা আগে থেকেই পরিষ্কার রাখা।
এই পদ্ধতিতে প্রথমে প্রতি মাসে আপনার হাতে আসা মোট আয়ের হিসাব করতে হবে। বেতন ছাড়াও নিয়মিত অন্য কোনো আয় থাকলে সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখা যেতে পারে। এরপর মাসের সম্ভাব্য সব খরচের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।
যেমন বাসাভাড়া, খাবার ও বাজার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, ইন্টারনেট, যাতায়াত, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, ঋণের কিস্তি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ। এরপর সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্যগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট টাকা আলাদা করে রাখতে হবে।
ধরুন, আপনার মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। আপনি ১৫ হাজার টাকা বাসাভাড়া, ১০ হাজার টাকা খাবার ও বাজার, ৪ হাজার টাকা যাতায়াত, ৩ হাজার টাকা বিল, ৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত খরচ এবং ৫ হাজার টাকা সন্তানের পড়াশোনার জন্য, আর ৩ হাজার টাকা সঞ্চয়ের জন্য রাখলেন। মোট হলো ৪৫ হাজার টাকা।
এখন বাকি ৫ হাজার টাকাও কোনো একটি কাজে বরাদ্দ করতে হবে। সেটি জরুরি খরচ, ঋণ পরিশোধ, ভবিষ্যতের কোনো বড় খরচ বা অতিরিক্ত সঞ্চয়ের জন্য রাখা যেতে পারে। ফলে পুরো ৫০ হাজার টাকারই একটি নির্দিষ্ট কাজ থাকবে।
এটাই জিরো-বেসড বাজেটিংয়ের মূল ধারণা। আয় থেকে সব ধরনের বরাদ্দ বাদ দেওয়ার পর অবরাদ্দ টাকা থাকবে শূন্য। এর অর্থ এই নয় যে সব টাকা মাসের মধ্যেই খরচ করে ফেলতে হবে। সঞ্চয় বা ভবিষ্যতের কোনো খরচের জন্য রাখা টাকাও বরাদ্দের অংশ।
এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টাকা খরচ হওয়ার আগে তার গন্তব্য ঠিক করা। এতে মাসের মাঝখানে হঠাৎ কোনো খাতে বেশি টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ধরুন, মাসের শুরুতে আপনি ঠিক করলেন, বাইরে খাওয়া বা বিনোদনের জন্য ৩ হাজার টাকা খরচ করবেন। তাহলে মাসজুড়ে সেই খাতের খরচ ৩ হাজার টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। কোনো সপ্তাহে বেশি খরচ হয়ে গেলে পরের সপ্তাহে তা কমিয়ে আনা যায়।
একইভাবে বাজারের জন্য যদি ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে, তাহলে সেই সীমার মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে। কোনো মাসে বাজারের খরচ কম হলে বেঁচে যাওয়া টাকা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় খাতে দেওয়া যেতে পারে। আবার কোনো খাতে বেশি খরচ হয়ে গেলে অন্য কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে টাকা কমিয়ে বাজেটের ভারসাম্য ঠিক করা যায়।
অর্থাৎ কোনো একটি খাতে বেশি খরচ হয়ে গেলে বাজেট ভেঙে গেছে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে বা বাড়িয়ে বাজেট আবার সমন্বয় করা যায়। জিরো-বেসড বাজেটিংয়ে এই ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
প্রতি মাসে সব খরচ একই থাকে না। কোনো মাসে চিকিৎসার খরচ বাড়তে পারে, কোনো মাসে বাড়ির কোনো জিনিস মেরামত করতে হতে পারে, আবার কোনো মাসে ঈদ বা অন্য কোনো বিশেষ উপলক্ষে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
তাই বাজেট করার সময় শুধু নিয়মিত মাসিক খরচের কথা ভাবলে হবে না। ভবিষ্যতে আসতে পারে এমন বড় বা অনিয়মিত খরচের জন্যও আগে থেকে টাকা বরাদ্দ করা যায়। এতে সেই খরচের সময় হঠাৎ করে পুরো টাকা জোগাড় করতে হয় না।
অপ্রত্যাশিত খরচের জন্যও আলাদা একটি ছোট বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। কোনো মাসে সেটি খরচ না হলে পরের মাসে সেই টাকা অন্য কোনো প্রয়োজন বা সঞ্চয়ের খাতে দেওয়া যায়। তবে জরুরি খরচের জন্য রাখা টাকা আর দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এক জিনিস নয়। তাই কোন টাকা কোন উদ্দেশ্যে রাখা হচ্ছে, সেটি পরিষ্কার করে রাখা ভালো।
জিরো-বেসড বাজেট একবার তৈরি করলেই কাজ শেষ নয়। মাস শেষে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে দেখতে হবে, কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে এবং পরিকল্পনার সঙ্গে তা কতটা মিলেছে।
কোনো একটি খাতে বেশি খরচ হলে অন্য কোনো খাতের বরাদ্দ কমিয়ে আনা যেতে পারে। আবার কোনো খাতে টাকা কম খরচ হলে সেই টাকা সঞ্চয় বা অন্য কোনো আর্থিক লক্ষ্যে দেওয়া যায়। নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনা করলে নিজের প্রকৃত খরচের ধরনও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়।
একই বাজেট প্রতি মাসে হুবহু অনুসরণ করতে হবে, এমন নয়। আয়, প্রয়োজন ও খরচের ধরন বদলালে বাজেটও বদলাবে। বিশেষ করে যাদের আয় অনিয়মিত, তাদের জন্য প্রতি মাসের সম্ভাব্য আয় ও খরচ অনুযায়ী বাজেট নতুন করে সাজানো আরও গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকে মনে করেন, এত হিসাব করে খরচ করলে জীবন কঠিন হয়ে যাবে। আসলে বিষয়টি তার উল্টো। আগে থেকে বাজেট ঠিক করা থাকলে কোন খাতে কত টাকা খরচ করতে পারবেন, তা পরিষ্কার থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজের জন্যও টাকা রাখা সম্ভব হয়।
আয় কম হলেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়। হয়তো বড় অঙ্কের টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে না, কিন্তু ৫০০ টাকা, ১ হাজার টাকা বা সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো অঙ্কের টাকা সঞ্চয়ের জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের আয় অনুযায়ী বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করা।
তাই বাজেট করার সময় শুধু ‘এই মাসে কত খরচ হবে’ ভাববেন না। বরং ভাবুন, হাতে আসা প্রতিটি টাকা কীভাবে ব্যবহার করলে প্রয়োজন মিটবে, কিছুটা আনন্দ করা যাবে এবং ভবিষ্যতের জন্যও অর্থ রাখা সম্ভব হবে।

মাসের শুরুতে বেতন হাতে পাওয়ার পর মনে হয়, এবার হিসাব করে খরচ করব। বাসাভাড়া, বাজার, বিল, যাতায়াতসহ সবকিছুর জন্য টাকা আলাদা করে রাখব। কিছু টাকা সঞ্চয়ও করব। কিন্তু মাস যত গড়াতে থাকে, হিসাব তত এলোমেলো হয়ে যায়। কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে, তার হিসাবও অনেক সময় আর মেলে না। মাস শেষে দেখা যায়, আয় শেষ, কিন্তু সঞ্চয়ের লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
এই সমস্যা সামলানোর একটি জনপ্রিয় উপায় হলো ‘জিরো-বেসড বাজেটিং’ বা ‘শূন্যভিত্তিক বাজেটিং’। এই পদ্ধতিতে আয়ের প্রতিটি টাকার জন্য আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট কাজ ঠিক করা হয়। টাকা যাবে বাসাভাড়া, বাজার, বিল, বিনোদন, সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের কোনো আর্থিক লক্ষ্যে।
নামের মধ্যে ‘জিরো’ থাকলেও এর অর্থ মাস শেষে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা থাকবে না, এমন নয়। বরং বাজেট করার পর কোনো টাকা যেন অবরাদ্দ অবস্থায় না থাকে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ‘আয় করলাম, খরচ করলাম, শেষে যা থাকল তা জমালাম’ বদলে করতে হবে ‘আয় করলাম, প্রতিটি টাকার কাজ ঠিক করলাম, তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচ ও সঞ্চয় করলাম’। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো, টাকা কোথায় যাচ্ছে তা আগে থেকেই পরিষ্কার রাখা।
এই পদ্ধতিতে প্রথমে প্রতি মাসে আপনার হাতে আসা মোট আয়ের হিসাব করতে হবে। বেতন ছাড়াও নিয়মিত অন্য কোনো আয় থাকলে সেটিও হিসাবের মধ্যে রাখা যেতে পারে। এরপর মাসের সম্ভাব্য সব খরচের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।
যেমন বাসাভাড়া, খাবার ও বাজার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, ইন্টারনেট, যাতায়াত, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, ঋণের কিস্তি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ। এরপর সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্যগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট টাকা আলাদা করে রাখতে হবে।
ধরুন, আপনার মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। আপনি ১৫ হাজার টাকা বাসাভাড়া, ১০ হাজার টাকা খাবার ও বাজার, ৪ হাজার টাকা যাতায়াত, ৩ হাজার টাকা বিল, ৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত খরচ এবং ৫ হাজার টাকা সন্তানের পড়াশোনার জন্য, আর ৩ হাজার টাকা সঞ্চয়ের জন্য রাখলেন। মোট হলো ৪৫ হাজার টাকা।
এখন বাকি ৫ হাজার টাকাও কোনো একটি কাজে বরাদ্দ করতে হবে। সেটি জরুরি খরচ, ঋণ পরিশোধ, ভবিষ্যতের কোনো বড় খরচ বা অতিরিক্ত সঞ্চয়ের জন্য রাখা যেতে পারে। ফলে পুরো ৫০ হাজার টাকারই একটি নির্দিষ্ট কাজ থাকবে।
এটাই জিরো-বেসড বাজেটিংয়ের মূল ধারণা। আয় থেকে সব ধরনের বরাদ্দ বাদ দেওয়ার পর অবরাদ্দ টাকা থাকবে শূন্য। এর অর্থ এই নয় যে সব টাকা মাসের মধ্যেই খরচ করে ফেলতে হবে। সঞ্চয় বা ভবিষ্যতের কোনো খরচের জন্য রাখা টাকাও বরাদ্দের অংশ।
এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টাকা খরচ হওয়ার আগে তার গন্তব্য ঠিক করা। এতে মাসের মাঝখানে হঠাৎ কোনো খাতে বেশি টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ধরুন, মাসের শুরুতে আপনি ঠিক করলেন, বাইরে খাওয়া বা বিনোদনের জন্য ৩ হাজার টাকা খরচ করবেন। তাহলে মাসজুড়ে সেই খাতের খরচ ৩ হাজার টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। কোনো সপ্তাহে বেশি খরচ হয়ে গেলে পরের সপ্তাহে তা কমিয়ে আনা যায়।
একইভাবে বাজারের জন্য যদি ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে, তাহলে সেই সীমার মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে। কোনো মাসে বাজারের খরচ কম হলে বেঁচে যাওয়া টাকা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় খাতে দেওয়া যেতে পারে। আবার কোনো খাতে বেশি খরচ হয়ে গেলে অন্য কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে টাকা কমিয়ে বাজেটের ভারসাম্য ঠিক করা যায়।
অর্থাৎ কোনো একটি খাতে বেশি খরচ হয়ে গেলে বাজেট ভেঙে গেছে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে বা বাড়িয়ে বাজেট আবার সমন্বয় করা যায়। জিরো-বেসড বাজেটিংয়ে এই ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
প্রতি মাসে সব খরচ একই থাকে না। কোনো মাসে চিকিৎসার খরচ বাড়তে পারে, কোনো মাসে বাড়ির কোনো জিনিস মেরামত করতে হতে পারে, আবার কোনো মাসে ঈদ বা অন্য কোনো বিশেষ উপলক্ষে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
তাই বাজেট করার সময় শুধু নিয়মিত মাসিক খরচের কথা ভাবলে হবে না। ভবিষ্যতে আসতে পারে এমন বড় বা অনিয়মিত খরচের জন্যও আগে থেকে টাকা বরাদ্দ করা যায়। এতে সেই খরচের সময় হঠাৎ করে পুরো টাকা জোগাড় করতে হয় না।
অপ্রত্যাশিত খরচের জন্যও আলাদা একটি ছোট বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। কোনো মাসে সেটি খরচ না হলে পরের মাসে সেই টাকা অন্য কোনো প্রয়োজন বা সঞ্চয়ের খাতে দেওয়া যায়। তবে জরুরি খরচের জন্য রাখা টাকা আর দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এক জিনিস নয়। তাই কোন টাকা কোন উদ্দেশ্যে রাখা হচ্ছে, সেটি পরিষ্কার করে রাখা ভালো।
জিরো-বেসড বাজেট একবার তৈরি করলেই কাজ শেষ নয়। মাস শেষে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে দেখতে হবে, কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে এবং পরিকল্পনার সঙ্গে তা কতটা মিলেছে।
কোনো একটি খাতে বেশি খরচ হলে অন্য কোনো খাতের বরাদ্দ কমিয়ে আনা যেতে পারে। আবার কোনো খাতে টাকা কম খরচ হলে সেই টাকা সঞ্চয় বা অন্য কোনো আর্থিক লক্ষ্যে দেওয়া যায়। নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনা করলে নিজের প্রকৃত খরচের ধরনও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়।
একই বাজেট প্রতি মাসে হুবহু অনুসরণ করতে হবে, এমন নয়। আয়, প্রয়োজন ও খরচের ধরন বদলালে বাজেটও বদলাবে। বিশেষ করে যাদের আয় অনিয়মিত, তাদের জন্য প্রতি মাসের সম্ভাব্য আয় ও খরচ অনুযায়ী বাজেট নতুন করে সাজানো আরও গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকে মনে করেন, এত হিসাব করে খরচ করলে জীবন কঠিন হয়ে যাবে। আসলে বিষয়টি তার উল্টো। আগে থেকে বাজেট ঠিক করা থাকলে কোন খাতে কত টাকা খরচ করতে পারবেন, তা পরিষ্কার থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজের জন্যও টাকা রাখা সম্ভব হয়।
আয় কম হলেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়। হয়তো বড় অঙ্কের টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে না, কিন্তু ৫০০ টাকা, ১ হাজার টাকা বা সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো অঙ্কের টাকা সঞ্চয়ের জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের আয় অনুযায়ী বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করা।
তাই বাজেট করার সময় শুধু ‘এই মাসে কত খরচ হবে’ ভাববেন না। বরং ভাবুন, হাতে আসা প্রতিটি টাকা কীভাবে ব্যবহার করলে প্রয়োজন মিটবে, কিছুটা আনন্দ করা যাবে এবং ভবিষ্যতের জন্যও অর্থ রাখা সম্ভব হবে।
.png)

গরমকালে দিনে যেমন হাঁসফাঁস লাগে, রাতে বিছানায় গেলেও যেন স্বস্তি মেলে না। লোডশেডিং থাকলে ঘুমানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন অস্বস্তি থেকে বাঁচতে নানা কৌশল ব্যবহার করেন মানুষ। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে ‘ইজিপশিয়ান স্লিপ মেথড’। এই পদ্ধতিতে রাতে ঘুমানোর সময় চাদর বা তোয়ালে ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে
২৫ আগস্ট ২০২৬
বেতন হাতে পেয়েই মনে হয়, এবার কিছু টাকা ঠিকই জমাব। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় খরচের মিছিল। বাসাভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, যাতায়াত, কেনাকাটা; একে একে টাকা খরচ হতে থাকে। দেখতে দেখতে মাস শেষ, অথচ সঞ্চয়ের খাতায় যোগ হয়নি কিছুই। এভাবেই মাসের পর মাস কেটে যায়, কিন্তু সঞ্চয় আর হয়ে ওঠে না।
২১ আগস্ট ২০২৬
বিয়ের সবচেয়ে পরিচিত রীতিগুলোর একটি হলো বিয়ের আংটি পরানো। সাধারণত সেই আংটি পরানো হয় বাম হাতের অনামিকা আঙুলে। বিশেষ করে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বাগদান বা বিয়ের পর অনেক জুটিই এই আঙুলে আংটি পরেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিয়ের আংটি অন্য কোনো আঙুলে না পরে অনামিকাতেই কেন পরানো হয়? শুধু কি দেখতে সুন্দর লাগে বলে?
২০ আগস্ট ২০২৬
প্রতি মাসের শুরুতেই আমরা অনেকেই ঠিক করি, এবার কিছু টাকা জমাব। বেতন হাতে আসার পর মনে হয়, এই মাসে আর অযথা খরচ নয়। কিন্তু মাস যত গড়াতে থাকে, সেই পরিকল্পনাও ধীরে ধীরে ভুলে যাই। মাস শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পকেটের দিকে তাকিয়ে দেখা যায়, জমার মতো টাকা আর অবশিষ্ট নেই। ফলে সঞ্চয়ের পরিকল্পনা আবারও পিছিয়ে য
১৫ আগস্ট ২০২৬