সত্যিই কি আমাদের পেশির কোনো নিজস্ব স্মৃতিশক্তি আছে? নাকি এর পেছনে কলকাঠি নাড়ে আমাদের মস্তিষ্ক? চলুন, এর পেছনের বিজ্ঞানটি সহজ করে বুঝে নেওয়া যাক।
স্ট্রিম ডেস্ক

সাইকেল চালানো হোক বা সোয়েটার বোনা— এমন কিছু কাজ আছে যা আমরা একদম না ভেবেই অনায়াসে করে ফেলি। সাধারণত একেই আমরা ‘মাসল মেমোরি’বলি। এর মানে হলো, আপনার শরীর কোনো জটিল কাজ করার পদ্ধতি মনে রাখতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে শেখে।
কিন্তু সত্যিই কি আমাদের পেশির কোনো নিজস্ব স্মৃতিশক্তি আছে? নাকি এর পেছনে কলকাঠি নাড়ে আমাদের মস্তিষ্ক? চলুন, এর পেছনের বিজ্ঞানটি সহজ করে বুঝে নেওয়া যাক।
‘মাসল মেমোরি’ বলতে আমরা বুঝি, যেসব কাজ খুব বেশি চিন্তা না করেই করতে পারি। যেমন সাইকেল চালানো, কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা জুতার ফিতা বাঁধা।
তবে বিজ্ঞানীরা একে মাসল মেমোরি না বলে বলেন ‘প্রসিডিউরাল মেমোরি’ বা পদ্ধতিগত স্মৃতি। মজার ব্যাপার হলো, এটা শুধু পেশির কাজ নয়, এর পেছনে আপনার মস্তিষ্কেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।

পেশির ক্ষেত্রে এই শব্দটি অন্য একটি অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যারা আগে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করেছেন, তাঁরা বিরতি দেওয়ার পর আবার শুরু করলে খুব দ্রুত আগের মতো ফিট হয়ে ওঠেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের ট্রেনিং পেশির কোষে এমন কিছু পরিবর্তন আনে যা ভবিষ্যতে দ্রুত পেশি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে পেশিগুলো মস্তিষ্কের মতো করে কোনো তথ্য বা তথ্যভাণ্ডার জমা করে রাখতে পারে না।
বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘নন-ডিক্লারেটিভ মেমোরি’। এর মানে হলো, এটা এমন ধরণের স্মৃতি যা মুখে বলে বোঝানো কঠিন, কিন্তু কাজ করে দেখানো সহজ।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি শিশুকে সাইকেল চালানো শেখাচ্ছেন। আপনি নিজে যখন সাইকেলে ওঠেন, তখন আপনি জানেন কখন হ্যান্ডেল সোজা রাখতে হবে আর কখন প্যাডেল দিতে হবে। কিন্তু এই পুরো বিষয়টি শুধু শব্দ দিয়ে কাউকে বুঝিয়ে বলা বেশ কঠিন। কারণ এই স্মৃতিটি আপনার মাথায় নয়, আপনার ‘কাজে’সেট হয়ে গেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, কোনো দক্ষতা আয়ত্ত করার সেরা উপায় হলো বারবার অনুশীলন করা। নতুন কিছু শেখার শুরুতে আমাদের প্রচুর পরিশ্রম ও মনোযোগ দিতে হয়। কারণ তখন প্রতিটি কাজ আমাদের সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু বারবার অনুশীলনের ফলে একসময় এটি স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়। যেমন আপনি হয়তো গাড়ি চালিয়ে বাড়ি পৌঁছে গেছেন, অথচ মাঝপথে কোন রাস্তা দিয়ে এসেছেন তা আলাদা করে মনেই নেই। কারণ আপনার মস্তিষ্ক ও শরীর তখন ‘অটো-পাইলট’মোডে ছিল।
আমরা যখন নতুন কিছু শিখি, তখন আমাদের মস্তিষ্কের সামনের অংশ (প্রি-ফ্রন্টাল ও ফ্রন্টো-প্যারিয়েটাল) বেশি কাজ করে। এই অংশ গভীর মনোযোগের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু অনুশীলনের মাধ্যমে যখন আমরা দক্ষ হয়ে উঠি, তখন মস্তিষ্ক ‘সেন্সরিমোটর সার্কিট’-এর ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। এটা কম পরিশ্রমে আমাদের জটিল কাজ করতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া হলেও এই ‘প্রসিডিউরাল মেমোরি’সাধারণত নষ্ট হয় না। অনেক সময় ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগী তাঁর প্রিয়জনের নাম ভুলে গেলেও সাবলীলভাবে গান গাইতে পারেন, নাচতে পারেন বা সেলাই করতে পারেন। কারণ এই স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কের এমন গভীরে থাকে যা সহজে মুছে যায় না।
কানাডার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালঝেইমার্সে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণ কথার চেয়ে সুর করে গাওয়া গান বেশি মনে রাখতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯১ বছর বয়সী এক নারী, যিনি কখনও গান শেখেননি এবং যার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল, তিনিও নতুন গান পুরোপুরি শিখে নিয়েছিলেন এবং দুই সপ্তাহ পরেও তা গাইতে পেরেছিলেন।
দুঃখজনকভাবে, প্রসিডিউরাল মেমোরি শক্তিশালী করার কোনো সহজ বা দ্রুত উপায় নেই। যেকোনো নতুন দক্ষতা শেখার শুরুটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়, কারণ তখন সবটুকু মনোযোগ ও সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে।
তবে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই এই প্রাথমিক বাধা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। যখন আমরা কোনো কাজ বারবার করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই দক্ষতার দায়িত্বটি মনোযোগ-নির্ভর ফ্রন্টাল অংশ থেকে সরিয়ে ধীরে ধীরে চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলোর ওপর ন্যস্ত করে। এভাবেই একটি জটিল কাজ একসময় অনায়াসে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
এই অনুশীলন প্রক্রিয়াকে আরও ফলপ্রসূ করতে হলে একটানা কাজ না করে সময় নিয়ে বা বিভিন্ন সেশনে ভাগ করে করা উচিত। এতে করে মস্তিষ্ক মাঝখানের বিরতির পর স্মৃতিটিকে পুনরায় মনে আনতে বাধ্য হয় এবং সেটাকে আবার নতুন করে গঠন করে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি গঠনে এবং তা ধরে রাখায় বড় ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া প্রতিটি অনুশীলন পর্বের শেষে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম আমাদের নতুন শেখা দক্ষতাগুলোকে মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে গেঁথে দিতে এবং দীর্ঘদিন মনে রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।

সাইকেল চালানো হোক বা সোয়েটার বোনা— এমন কিছু কাজ আছে যা আমরা একদম না ভেবেই অনায়াসে করে ফেলি। সাধারণত একেই আমরা ‘মাসল মেমোরি’বলি। এর মানে হলো, আপনার শরীর কোনো জটিল কাজ করার পদ্ধতি মনে রাখতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে শেখে।
কিন্তু সত্যিই কি আমাদের পেশির কোনো নিজস্ব স্মৃতিশক্তি আছে? নাকি এর পেছনে কলকাঠি নাড়ে আমাদের মস্তিষ্ক? চলুন, এর পেছনের বিজ্ঞানটি সহজ করে বুঝে নেওয়া যাক।
‘মাসল মেমোরি’ বলতে আমরা বুঝি, যেসব কাজ খুব বেশি চিন্তা না করেই করতে পারি। যেমন সাইকেল চালানো, কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা জুতার ফিতা বাঁধা।
তবে বিজ্ঞানীরা একে মাসল মেমোরি না বলে বলেন ‘প্রসিডিউরাল মেমোরি’ বা পদ্ধতিগত স্মৃতি। মজার ব্যাপার হলো, এটা শুধু পেশির কাজ নয়, এর পেছনে আপনার মস্তিষ্কেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।

পেশির ক্ষেত্রে এই শব্দটি অন্য একটি অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যারা আগে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করেছেন, তাঁরা বিরতি দেওয়ার পর আবার শুরু করলে খুব দ্রুত আগের মতো ফিট হয়ে ওঠেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের ট্রেনিং পেশির কোষে এমন কিছু পরিবর্তন আনে যা ভবিষ্যতে দ্রুত পেশি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে পেশিগুলো মস্তিষ্কের মতো করে কোনো তথ্য বা তথ্যভাণ্ডার জমা করে রাখতে পারে না।
বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘নন-ডিক্লারেটিভ মেমোরি’। এর মানে হলো, এটা এমন ধরণের স্মৃতি যা মুখে বলে বোঝানো কঠিন, কিন্তু কাজ করে দেখানো সহজ।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি শিশুকে সাইকেল চালানো শেখাচ্ছেন। আপনি নিজে যখন সাইকেলে ওঠেন, তখন আপনি জানেন কখন হ্যান্ডেল সোজা রাখতে হবে আর কখন প্যাডেল দিতে হবে। কিন্তু এই পুরো বিষয়টি শুধু শব্দ দিয়ে কাউকে বুঝিয়ে বলা বেশ কঠিন। কারণ এই স্মৃতিটি আপনার মাথায় নয়, আপনার ‘কাজে’সেট হয়ে গেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, কোনো দক্ষতা আয়ত্ত করার সেরা উপায় হলো বারবার অনুশীলন করা। নতুন কিছু শেখার শুরুতে আমাদের প্রচুর পরিশ্রম ও মনোযোগ দিতে হয়। কারণ তখন প্রতিটি কাজ আমাদের সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু বারবার অনুশীলনের ফলে একসময় এটি স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়। যেমন আপনি হয়তো গাড়ি চালিয়ে বাড়ি পৌঁছে গেছেন, অথচ মাঝপথে কোন রাস্তা দিয়ে এসেছেন তা আলাদা করে মনেই নেই। কারণ আপনার মস্তিষ্ক ও শরীর তখন ‘অটো-পাইলট’মোডে ছিল।
আমরা যখন নতুন কিছু শিখি, তখন আমাদের মস্তিষ্কের সামনের অংশ (প্রি-ফ্রন্টাল ও ফ্রন্টো-প্যারিয়েটাল) বেশি কাজ করে। এই অংশ গভীর মনোযোগের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু অনুশীলনের মাধ্যমে যখন আমরা দক্ষ হয়ে উঠি, তখন মস্তিষ্ক ‘সেন্সরিমোটর সার্কিট’-এর ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। এটা কম পরিশ্রমে আমাদের জটিল কাজ করতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া হলেও এই ‘প্রসিডিউরাল মেমোরি’সাধারণত নষ্ট হয় না। অনেক সময় ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগী তাঁর প্রিয়জনের নাম ভুলে গেলেও সাবলীলভাবে গান গাইতে পারেন, নাচতে পারেন বা সেলাই করতে পারেন। কারণ এই স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কের এমন গভীরে থাকে যা সহজে মুছে যায় না।
কানাডার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালঝেইমার্সে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণ কথার চেয়ে সুর করে গাওয়া গান বেশি মনে রাখতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯১ বছর বয়সী এক নারী, যিনি কখনও গান শেখেননি এবং যার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল, তিনিও নতুন গান পুরোপুরি শিখে নিয়েছিলেন এবং দুই সপ্তাহ পরেও তা গাইতে পেরেছিলেন।
দুঃখজনকভাবে, প্রসিডিউরাল মেমোরি শক্তিশালী করার কোনো সহজ বা দ্রুত উপায় নেই। যেকোনো নতুন দক্ষতা শেখার শুরুটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়, কারণ তখন সবটুকু মনোযোগ ও সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে।
তবে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই এই প্রাথমিক বাধা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। যখন আমরা কোনো কাজ বারবার করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই দক্ষতার দায়িত্বটি মনোযোগ-নির্ভর ফ্রন্টাল অংশ থেকে সরিয়ে ধীরে ধীরে চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলোর ওপর ন্যস্ত করে। এভাবেই একটি জটিল কাজ একসময় অনায়াসে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
এই অনুশীলন প্রক্রিয়াকে আরও ফলপ্রসূ করতে হলে একটানা কাজ না করে সময় নিয়ে বা বিভিন্ন সেশনে ভাগ করে করা উচিত। এতে করে মস্তিষ্ক মাঝখানের বিরতির পর স্মৃতিটিকে পুনরায় মনে আনতে বাধ্য হয় এবং সেটাকে আবার নতুন করে গঠন করে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি গঠনে এবং তা ধরে রাখায় বড় ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া প্রতিটি অনুশীলন পর্বের শেষে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম আমাদের নতুন শেখা দক্ষতাগুলোকে মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে গেঁথে দিতে এবং দীর্ঘদিন মনে রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফোবিয়া তুলনামূলকভাবে চিকিৎসাযোগ্য মানসিক সমস্যাগুলোর একটি। অর্থাৎ, সঠিক চিকিৎসারমাধ্যমে এই ফোবিয়া কাটিয়ে ওঠা যায়।
১ দিন আগে
সামনেই ভ্যাপসা গরম পড়বে। আর এই গরমে স্টাইল ও আরাম—এই দুইয়ের সমন্বয়ের জন্য ঢোলা বা অভারসাইজড পোশাক খুব ভালো অপশন। এখন আবার এই স্টাইলটাও বেশ ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে।
১ দিন আগে
মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু স্বাস্থ্য উদ্ভাবন রয়েছে, যেগুলো শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিই ঘটায়নি, বরং কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়ে পৃথিবীর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিয়েছে। কখনো একটি টিকার আবিষ্কার মহামারি থামিয়েছে, তো কখনো একটি সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি লাখো মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়েছে।
১ দিন আগে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও দূষণ একসঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। এমনকি জলবায়ুর এই পরিবর্তন শিশুদের জন্মের আগ থেকে শুরু হয়ে শৈশবের প্রতিটি ধাপে বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যসংকট তৈরি করেছে।
১ দিন আগে