ফার্স্টপোস্ট-এর এক্সপ্লেইনার
ভারতে কি আবারও ফিরছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম সংস্কৃতি? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা জ্বালানি খরচ কমানো, বিদেশ ভ্রমণ পিছিয়ে দেওয়া এবং অন্তত এক বছরের জন্য স্বর্ণ কেনা এড়িয়ে চলেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মোদির এই বার্তা কি আরও বড় অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত?
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে ৭০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করেছে এবং বৈশ্বিক বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে রোববার (১০ মে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশে এক বিশেষ বার্তা দেন। তিনি জনগণকে আবারও ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা, জ্বালানি ব্যবহার কমানো, এমনকি এক বছরের জন্য বিয়ে উপলক্ষ্যে সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান।
হায়দরাবাদে দেওয়া মোদির এই বক্তব্য অনেকের কাছেই কোভিড-১৯ সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। কারণ তখনও একইভাবে মানুষকে ঘরে থেকে কাজ করা, অনলাইন মিটিং এবং সীমিত ভোগব্যবস্থার দিকে যেতে বলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, ভারত কি আবারও এক অঘোষিত লকডাউনের দিকে এগোচ্ছে?
তেলেঙ্গানায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০ কোটি রুপি মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বার্তা দিয়েছেন, তা নিছক কোনো রাজনৈতিক ভাষণ ছিল না। বরং এটিকে আসন্ন এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তিনি দেশবাসীকে সংযত জীবনযাপন ও সীমিত ভোগের অভ্যাস গড়ে তোলার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদির মতে, দেশপ্রেমের সংজ্ঞা এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এই কঠিন সময়ে একজন নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও দেশপ্রেমের সমতুল্য। তার এই বক্তব্যের একেবারে কেন্দ্রে ছিল জ্বালানি ব্যবহারের লাগাম টেনে ধরার বিষয়টি। তিনি যখন সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো ও গণপরিবহণ ব্যবহার করতে, কার-পুলিংয়ে উৎসাহিত হতে এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলপথকে অগ্রাধিকার দিতে বলেন, তখন পরিস্থিতি কতটা সঙ্গিন, তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া, বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের দিকে তার এই তাগিদ স্পষ্টতই ভবিষ্যতের একটি অনিবার্য রূপরেখা।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ভারতের নিজস্ব কোনো বড় তেলের মজুত নেই। দেশের বিশাল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সার— সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, গত দুই মাস ধরে এই মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ চাপ সরকার নিজেই বহন করছে। সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়তে দেয়নি।
কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা যখন দিনের পর দিন চাপের মুখে থাকে, তখন কোনো সরকারের পক্ষেই যে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, সেই চরম সত্যটিও তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন।
দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার যে রূপরেখা তিনি দিয়েছেন, সেটি আমাদের একেবারে করোনাকালের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। মোদি সুস্পষ্টভাবেই বলেছেন, আমাদের কিছু কঠোর অঙ্গীকার করতে হবে। শহরগুলোতে জ্বালানি বাঁচাতে কোভিড সময়ের সেই পরিচিত ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, অনলাইন মিটিং ও ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের অভ্যাস আবারও ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। করোনাকালে আমরা যেমন নিরুপায় হয়ে এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছিলাম এবং পরে তাতে অভ্যস্তও হয়েছিলাম, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে জাতীয় স্বার্থেই সেই চর্চাগুলোকেই আবার অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মোদির এই আহ্বানের নেপথ্যের কারণটি খুঁজতে গেলে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাবের দিকে নজর দিতে হবে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালি গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
মানিকন্ট্রোলের এক প্রতিবেদন যদি আমরা আমলে নিই, তবে দেখা যায়— জ্বালানির এই বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে দেশের ভোক্তাদের বাঁচাতে ভারত সরকারকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলো (আইওসি, বিপিসিএল, এইচপিসিএল) পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপির বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করে জ্বালানি বাঁচানো ছাড়া সরকারের আর্থিক চাপ কমানোর খুব বেশি বিকল্প খোলা নেই। উল্লেখ্য, শুধু ভারত নয়— থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনসহ ৭০টিরও বেশি দেশ কিছুক্ষেত্রে এই পথ অনুসরণ করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান মাথাব্যথা। নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়তি আমদানি ব্যয় ও বৈশ্বিক এই চরম অনিশ্চয়তার কারণে গত মাত্র ১০ সপ্তাহে ভারতের প্রায় ১ লাখ কোটি রুপি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে খরচ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে রয়েছে সোনার প্রতি ভারতীয়দের চিরায়ত আকর্ষণ। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ; প্রতি বছর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল এক অংশ বিদেশে চলে যায়। মানুষ যদি সাময়িকভাবে সোনা কেনা কমায়, তবে এই বিপুল আমদানি ব্যয় অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সচেতন মহলে স্বভাবতই জল্পনা শুরু হয়েছে— সরকার কি অচিরেই আরও কঠোর কোনো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে? ইন্ডিয়া টুডে-এর এক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে যে ইঙ্গিত মিলছে, তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, তাতে খুব শিগগিরই ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৪-৫ রুপি এবং গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪০-৫০ রুপি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া সোনা আমদানিতে বর্তমানে যে ৬ শতাংশ কর রয়েছে, সেটি বাড়িয়ে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চিন্তাভাবনাও চলছে। এমনকি লিবারেলাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (এলআরএস)-এর আওতায় বর্তমানে শিক্ষা, ভ্রমণ বা বিনিয়োগের জন্য বছরে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার বিদেশে পাঠানোর যে সুযোগ রয়েছে, সেই নিয়মেও লাগাম টানা হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সরকার বাস্তবে কতটা কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি যে একটি অত্যন্ত কঠিন মোড়ের দিকে এগোচ্ছে এবং সরকার যে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে জনগণকে আগেভাগেই প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছে— মোদির বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে ৭০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করেছে এবং বৈশ্বিক বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে রোববার (১০ মে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশে এক বিশেষ বার্তা দেন। তিনি জনগণকে আবারও ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা, জ্বালানি ব্যবহার কমানো, এমনকি এক বছরের জন্য বিয়ে উপলক্ষ্যে সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান।
হায়দরাবাদে দেওয়া মোদির এই বক্তব্য অনেকের কাছেই কোভিড-১৯ সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। কারণ তখনও একইভাবে মানুষকে ঘরে থেকে কাজ করা, অনলাইন মিটিং এবং সীমিত ভোগব্যবস্থার দিকে যেতে বলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, ভারত কি আবারও এক অঘোষিত লকডাউনের দিকে এগোচ্ছে?
তেলেঙ্গানায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০ কোটি রুপি মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বার্তা দিয়েছেন, তা নিছক কোনো রাজনৈতিক ভাষণ ছিল না। বরং এটিকে আসন্ন এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তিনি দেশবাসীকে সংযত জীবনযাপন ও সীমিত ভোগের অভ্যাস গড়ে তোলার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদির মতে, দেশপ্রেমের সংজ্ঞা এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এই কঠিন সময়ে একজন নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও দেশপ্রেমের সমতুল্য। তার এই বক্তব্যের একেবারে কেন্দ্রে ছিল জ্বালানি ব্যবহারের লাগাম টেনে ধরার বিষয়টি। তিনি যখন সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো ও গণপরিবহণ ব্যবহার করতে, কার-পুলিংয়ে উৎসাহিত হতে এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলপথকে অগ্রাধিকার দিতে বলেন, তখন পরিস্থিতি কতটা সঙ্গিন, তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া, বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের দিকে তার এই তাগিদ স্পষ্টতই ভবিষ্যতের একটি অনিবার্য রূপরেখা।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ভারতের নিজস্ব কোনো বড় তেলের মজুত নেই। দেশের বিশাল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সার— সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, গত দুই মাস ধরে এই মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ চাপ সরকার নিজেই বহন করছে। সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়তে দেয়নি।
কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা যখন দিনের পর দিন চাপের মুখে থাকে, তখন কোনো সরকারের পক্ষেই যে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, সেই চরম সত্যটিও তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন।
দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার যে রূপরেখা তিনি দিয়েছেন, সেটি আমাদের একেবারে করোনাকালের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। মোদি সুস্পষ্টভাবেই বলেছেন, আমাদের কিছু কঠোর অঙ্গীকার করতে হবে। শহরগুলোতে জ্বালানি বাঁচাতে কোভিড সময়ের সেই পরিচিত ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, অনলাইন মিটিং ও ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের অভ্যাস আবারও ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। করোনাকালে আমরা যেমন নিরুপায় হয়ে এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছিলাম এবং পরে তাতে অভ্যস্তও হয়েছিলাম, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে জাতীয় স্বার্থেই সেই চর্চাগুলোকেই আবার অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মোদির এই আহ্বানের নেপথ্যের কারণটি খুঁজতে গেলে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাবের দিকে নজর দিতে হবে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালি গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
মানিকন্ট্রোলের এক প্রতিবেদন যদি আমরা আমলে নিই, তবে দেখা যায়— জ্বালানির এই বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে দেশের ভোক্তাদের বাঁচাতে ভারত সরকারকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলো (আইওসি, বিপিসিএল, এইচপিসিএল) পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপির বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করে জ্বালানি বাঁচানো ছাড়া সরকারের আর্থিক চাপ কমানোর খুব বেশি বিকল্প খোলা নেই। উল্লেখ্য, শুধু ভারত নয়— থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনসহ ৭০টিরও বেশি দেশ কিছুক্ষেত্রে এই পথ অনুসরণ করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান মাথাব্যথা। নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়তি আমদানি ব্যয় ও বৈশ্বিক এই চরম অনিশ্চয়তার কারণে গত মাত্র ১০ সপ্তাহে ভারতের প্রায় ১ লাখ কোটি রুপি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে খরচ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে রয়েছে সোনার প্রতি ভারতীয়দের চিরায়ত আকর্ষণ। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ; প্রতি বছর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল এক অংশ বিদেশে চলে যায়। মানুষ যদি সাময়িকভাবে সোনা কেনা কমায়, তবে এই বিপুল আমদানি ব্যয় অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সচেতন মহলে স্বভাবতই জল্পনা শুরু হয়েছে— সরকার কি অচিরেই আরও কঠোর কোনো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে? ইন্ডিয়া টুডে-এর এক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে যে ইঙ্গিত মিলছে, তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, তাতে খুব শিগগিরই ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৪-৫ রুপি এবং গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪০-৫০ রুপি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া সোনা আমদানিতে বর্তমানে যে ৬ শতাংশ কর রয়েছে, সেটি বাড়িয়ে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চিন্তাভাবনাও চলছে। এমনকি লিবারেলাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (এলআরএস)-এর আওতায় বর্তমানে শিক্ষা, ভ্রমণ বা বিনিয়োগের জন্য বছরে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার বিদেশে পাঠানোর যে সুযোগ রয়েছে, সেই নিয়মেও লাগাম টানা হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সরকার বাস্তবে কতটা কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি যে একটি অত্যন্ত কঠিন মোড়ের দিকে এগোচ্ছে এবং সরকার যে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে জনগণকে আগেভাগেই প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছে— মোদির বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের চারজন প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর রিজার্ভ বাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদ দেওয়া হয়। তারা যোগ দেন নতুন একটি ইউনিটে, যার নাম ‘ডিট্যাচমেন্ট ২০১’ বা ‘এক্সিকিউটিভ ইনোভেশন কর্পস’।
১ দিন আগে
এই অবস্থায় যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রস্তাব দিয়েছে। ইরান সেই প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার জন্য এখনো সময় নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
২ দিন আগে
‘লাতমিয়া’ শোকগাথাগুলো আশুরার আচারের সঙ্গে যুক্ত। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ইবনে আলীর শাহাদাতের স্মরণে এই আচার পালন করা হয়।
৩ দিন আগে
নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন কীভাবে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তার দারুণ এক উদাহরণ হয়ে থাকবে সদ্য শেষ হওয়া আসামের বিধানসভা নির্বাচন। শুধু সমর্থনের ভিত্তিতে নয়, নতুন এই প্রক্রিয়া বিজেপির পক্ষে ভোট টানতে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা আগে ছিল না।
৫ দিন আগে