বাজার করা, বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা, ঘুরতে যাওয়া, ঘরের কাজ—সবকিছু যেন এই একদিনের জন্য। ফলে শুক্রবার শুরু হওয়ার আগেই দিনটি হয়ে যায় ‘লোডেড’। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক জীবনে সপ্তাহান্তকে মানুষ বিশ্রামের জন্য ভেবে রাখলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার দিন।
মাহজাবিন নাফিসা

প্রতি সপ্তাহেই আমাদের শুরুটা প্রায় একই রকম হয়। সকালে অফিসের তাড়া আর সারাদিনের কাজের বড় এক তালিকা। তারপর রবি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আর আলাদা করে চেনা যায় না। হুট করেই শেষ হয়ে যায় পুরো সপ্তাহ। যেন একটানা চলতে থাকা চক্র।
এই সময়টাতে প্রতিদিন একটু করে ঘুম কমে, নিজের জন্য সময় কমে আর জমতে থাকে অদৃশ্য মানসিক চাপ। অনেকেই বুঝতে পারে না, ঠিক কখন থেকে ক্লান্তিই স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে। এই পুরো সময় মানুষ একটা আশাতেই থাকে—শুক্রবারে একটু বিশ্রাম নেওয়া যাবে। এই আশাই যেন পুরো সপ্তাহ চালিয়ে নেয়।
কিন্তু সপ্তাহজুড়ে যেসব কাজ সময়ের অভাবে করা যায় না, সেগুলো কোথায় যায়? সেগুলো জমা হয় শুক্রবারের জন্য।

বাজার করা, বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা, ঘুরতে যাওয়া, ঘরের কাজ—সবকিছু যেন এই একদিনের জন্য। ফলে শুক্রবার শুরু হওয়ার আগেই দিনটি হয়ে যায় ‘লোডেড’। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক জীবনে সপ্তাহান্তকে মানুষ বিশ্রামের জন্য ভেবে রাখলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার দিন।
এখান থেকেই শুরু হয় আরেক ধরনের চাপ। শুক্রবারকে ‘উপভোগ’ করার চাপ। শুধু বাসায় বসে থাকা যেন যথেষ্ট মনে হয় না। বাইরে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, কোথাও ঘোরা—এই প্রত্যাশা তৈরি হয়। শহরের ক্যাফে, রেস্তোরাঁ বা পার্ক সব জায়গায় ভিড় বাড়ে। কিন্তু এই উপভোগের ভেতরেও থাকে দিনটাকে ‘ম্যাক্সিমাইজ’ করার এক ধরনের তাড়া। ফলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় হয়ে ওঠে না।
এখানে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় প্রভাব আছে। এখন শুক্রবার মানেই শুধু সময় কাটানো নয়, সেই সময়টাকে দেখানোও। ‘সুন্দর ছবি’ যেন দৃশ্যমান জীবনের প্রদর্শনী হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকে আবার সপ্তাহান্তের বড় একটা সময় স্ক্রিনে ব্যয় করে। ফলে বাস্তব অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সেটাকে কীভাবে দেখানো হচ্ছে।
মনে রাখতে হবে, সবকিছুর মাঝেও শরীর নিজস্ব নিয়মেই চলে। সারা সপ্তাহের বিশ্রামহীন কাজের চাপে শরীরে তৈরি হয় ‘স্লিপ ডেট’, অর্থাৎ জমে থাকা ঘুমের ঘাটতি। শুক্রবার এলে মানুষ বেশি ঘুমাতে চায়, শরীরকে বিশ্রাম দিতে চায়। কিন্তু ঘুমবিজ্ঞান বলছে, একদিন বেশি ঘুমিয়ে পুরো সপ্তাহের ঘাটতি পূরণ করা যায় না। সপ্তাহের দিন আর ছুটির দিনের ঘুমের সময় আলাদা হলে শরীরের জৈবঘড়ি বিভ্রান্ত হয়। এটাকে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেটল্যাগ’। এই পরিস্থিতি পরবর্তী সপ্তাহে আরও ক্লান্তি তৈরি করতে পারে।

তবে বিষয়টি একেবারে একপাক্ষিক নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সারা সপ্তাহ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না, তাদের জন্য সপ্তাহান্তে একটু বেশি ঘুম উপকার করতে পারে। এতে শরীরের কিছু ঝুঁকি, যেমন হৃদরোগের ঝুঁকি, কিছুটা কমতে পারে।
অর্থাৎ, শুক্রবারের বেশি ঘুম আসলে শরীরের দরকার থেকেই আসে। কিন্তু এটা পুরো সমস্যার সমাধান না। এটা শুধু অল্প সময়ের জন্য শরীরকে কিছুটা ঠিক করে নেয়।
এভাবে শুক্রবারে একসঙ্গে মিশে যায় তিন চাহিদা—অসমাপ্ত কাজ শেষ করা, বিশ্রাম নেওয়া আর ছুটি উপভোগ করা। বাস্তবে এই তিনটি একসঙ্গে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে দিন শেষে অনেকেই মনে করে, ভালো করে বিশ্রাম নেওয়া হলো না, সব কাজ শেষ হলো না আবার ঠিকমতো উপভোগও করা গেল না। এই অপূর্ণতার অনুভূতি থেকেই এক ধরনের মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে থেকে যায়। তাই সপ্তাহ শেষে ক্লান্তিই বেশি থাকে, তৃপ্তি কম থাকে।

এই চক্র থেকে বের হতে এখন অনেকেই শুক্রবারকে ইচ্ছা করে ফাঁকা রাখছে। কোনো পরিকল্পনা না, কোনো বাধ্যবাধকতা না—শুধু নিজের মতো করে সময় কাটানো। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘আনস্ট্রাকচারড টাইম’। এই সময় মস্তিষ্ক ভালোভাবে বিশ্রাম নিতে পারে, কারণ এখানে কোনো কিছু করা বা না করার ‘প্যারা’ থাকে না।
পুরো সপ্তাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে শুক্রবারকে আলাদা করে বোঝা যায় না। আমরা যেভাবে শনি থেকে বৃহস্পতিবার কাটাই, শুক্রবার সেভাবেই আমাদের সামনে ফিরে আসে। তাই প্রশ্নটা শুধু এই নয় যে শুক্রবারে কী করা উচিত! বরং আমাদের পুরো সপ্তাহটাকেই নতুন করে ভাবতে হবে।
সমাধান হিসেবে শুধু ছুটির দিনের অপেক্ষা না করে, সপ্তাহের মধ্যেই কাজগুলো ভাগ করে নেওয়া দরকার। ছোট ছোট ভাগে কাজ করলে একদিনের ওপর চাপ কমে যায়। অফিসের কাজের ফাঁকে বা দৈনন্দিন কাজের মাঝে প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিলে শুক্রবারে নিজের জন্য সময় রাখা যায়। কেবল তখনই শুক্রবার সত্যিকারের বিশ্রামের দিন হতে পারে।

প্রতি সপ্তাহেই আমাদের শুরুটা প্রায় একই রকম হয়। সকালে অফিসের তাড়া আর সারাদিনের কাজের বড় এক তালিকা। তারপর রবি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আর আলাদা করে চেনা যায় না। হুট করেই শেষ হয়ে যায় পুরো সপ্তাহ। যেন একটানা চলতে থাকা চক্র।
এই সময়টাতে প্রতিদিন একটু করে ঘুম কমে, নিজের জন্য সময় কমে আর জমতে থাকে অদৃশ্য মানসিক চাপ। অনেকেই বুঝতে পারে না, ঠিক কখন থেকে ক্লান্তিই স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে। এই পুরো সময় মানুষ একটা আশাতেই থাকে—শুক্রবারে একটু বিশ্রাম নেওয়া যাবে। এই আশাই যেন পুরো সপ্তাহ চালিয়ে নেয়।
কিন্তু সপ্তাহজুড়ে যেসব কাজ সময়ের অভাবে করা যায় না, সেগুলো কোথায় যায়? সেগুলো জমা হয় শুক্রবারের জন্য।

বাজার করা, বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা, ঘুরতে যাওয়া, ঘরের কাজ—সবকিছু যেন এই একদিনের জন্য। ফলে শুক্রবার শুরু হওয়ার আগেই দিনটি হয়ে যায় ‘লোডেড’। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক জীবনে সপ্তাহান্তকে মানুষ বিশ্রামের জন্য ভেবে রাখলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার দিন।
এখান থেকেই শুরু হয় আরেক ধরনের চাপ। শুক্রবারকে ‘উপভোগ’ করার চাপ। শুধু বাসায় বসে থাকা যেন যথেষ্ট মনে হয় না। বাইরে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, কোথাও ঘোরা—এই প্রত্যাশা তৈরি হয়। শহরের ক্যাফে, রেস্তোরাঁ বা পার্ক সব জায়গায় ভিড় বাড়ে। কিন্তু এই উপভোগের ভেতরেও থাকে দিনটাকে ‘ম্যাক্সিমাইজ’ করার এক ধরনের তাড়া। ফলে বিশ্রাম নেওয়ার সময় হয়ে ওঠে না।
এখানে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় প্রভাব আছে। এখন শুক্রবার মানেই শুধু সময় কাটানো নয়, সেই সময়টাকে দেখানোও। ‘সুন্দর ছবি’ যেন দৃশ্যমান জীবনের প্রদর্শনী হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকে আবার সপ্তাহান্তের বড় একটা সময় স্ক্রিনে ব্যয় করে। ফলে বাস্তব অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সেটাকে কীভাবে দেখানো হচ্ছে।
মনে রাখতে হবে, সবকিছুর মাঝেও শরীর নিজস্ব নিয়মেই চলে। সারা সপ্তাহের বিশ্রামহীন কাজের চাপে শরীরে তৈরি হয় ‘স্লিপ ডেট’, অর্থাৎ জমে থাকা ঘুমের ঘাটতি। শুক্রবার এলে মানুষ বেশি ঘুমাতে চায়, শরীরকে বিশ্রাম দিতে চায়। কিন্তু ঘুমবিজ্ঞান বলছে, একদিন বেশি ঘুমিয়ে পুরো সপ্তাহের ঘাটতি পূরণ করা যায় না। সপ্তাহের দিন আর ছুটির দিনের ঘুমের সময় আলাদা হলে শরীরের জৈবঘড়ি বিভ্রান্ত হয়। এটাকে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেটল্যাগ’। এই পরিস্থিতি পরবর্তী সপ্তাহে আরও ক্লান্তি তৈরি করতে পারে।

তবে বিষয়টি একেবারে একপাক্ষিক নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সারা সপ্তাহ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না, তাদের জন্য সপ্তাহান্তে একটু বেশি ঘুম উপকার করতে পারে। এতে শরীরের কিছু ঝুঁকি, যেমন হৃদরোগের ঝুঁকি, কিছুটা কমতে পারে।
অর্থাৎ, শুক্রবারের বেশি ঘুম আসলে শরীরের দরকার থেকেই আসে। কিন্তু এটা পুরো সমস্যার সমাধান না। এটা শুধু অল্প সময়ের জন্য শরীরকে কিছুটা ঠিক করে নেয়।
এভাবে শুক্রবারে একসঙ্গে মিশে যায় তিন চাহিদা—অসমাপ্ত কাজ শেষ করা, বিশ্রাম নেওয়া আর ছুটি উপভোগ করা। বাস্তবে এই তিনটি একসঙ্গে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে দিন শেষে অনেকেই মনে করে, ভালো করে বিশ্রাম নেওয়া হলো না, সব কাজ শেষ হলো না আবার ঠিকমতো উপভোগও করা গেল না। এই অপূর্ণতার অনুভূতি থেকেই এক ধরনের মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে থেকে যায়। তাই সপ্তাহ শেষে ক্লান্তিই বেশি থাকে, তৃপ্তি কম থাকে।

এই চক্র থেকে বের হতে এখন অনেকেই শুক্রবারকে ইচ্ছা করে ফাঁকা রাখছে। কোনো পরিকল্পনা না, কোনো বাধ্যবাধকতা না—শুধু নিজের মতো করে সময় কাটানো। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘আনস্ট্রাকচারড টাইম’। এই সময় মস্তিষ্ক ভালোভাবে বিশ্রাম নিতে পারে, কারণ এখানে কোনো কিছু করা বা না করার ‘প্যারা’ থাকে না।
পুরো সপ্তাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে শুক্রবারকে আলাদা করে বোঝা যায় না। আমরা যেভাবে শনি থেকে বৃহস্পতিবার কাটাই, শুক্রবার সেভাবেই আমাদের সামনে ফিরে আসে। তাই প্রশ্নটা শুধু এই নয় যে শুক্রবারে কী করা উচিত! বরং আমাদের পুরো সপ্তাহটাকেই নতুন করে ভাবতে হবে।
সমাধান হিসেবে শুধু ছুটির দিনের অপেক্ষা না করে, সপ্তাহের মধ্যেই কাজগুলো ভাগ করে নেওয়া দরকার। ছোট ছোট ভাগে কাজ করলে একদিনের ওপর চাপ কমে যায়। অফিসের কাজের ফাঁকে বা দৈনন্দিন কাজের মাঝে প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিলে শুক্রবারে নিজের জন্য সময় রাখা যায়। কেবল তখনই শুক্রবার সত্যিকারের বিশ্রামের দিন হতে পারে।

সকালবেলায় ঘুম ভাঙার পরেই আমাদের হাত চলে যায় স্মার্টফোনে। নিউজফিড খুললেই চোখের সামনে ভেসে আসে একের পর এক খারাপ খবর। কোথাও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কোথাও যুদ্ধ, আবার কোথাও ভয়ংকর কোনো অপরাধের খবর।
১ দিন আগে
তবে এবার সেই রেকর্ড ভেঙেছেন আর্টেমিস ২-এর ক্রু’রা। চাঁদের উল্টো পাশ থেকেও সফলভাবে ঘুরে এসেছেন তাঁরা। সেখান থেকে পাঠিয়েছেন চাঁদের পৃষ্ঠের চমৎকার সব ছবি। এই সাফল্যের পেছনে মহাকাশচারীদের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
১ দিন আগে
ট্রাম্প যখন ইরানের সভ্যতাকে এক রাতের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, ইরানের জনগন তখন নিজ দেশের পতাকা নিয়ে ভীড় করেছে সম্ভাব্য আক্রমণস্থলে—সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধনাগারে। সেই ভয়হীনতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ইরানিদের বিদ্রুপ। এই বিদ্রুপের ঝড়ে যুক্ত হয়েছে শুধু ব্যক্তি নাগরিক নয়, খোদ বিভিন্ন দেশে থ
২ দিন আগে
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর নবম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
২ দিন আগে