ফাবিহা বিনতে হক

ঈদের সকালে অনেকের ঘুম ভাঙে বাবার পাঞ্জাবিতে দেওয়া আতরের গন্ধে। নতুন পাঞ্জাবি পরে, আতর মেখে ঈদের নামাজে যান পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, সবার গায়েই থাকে এই পরিচিত পোশাকটি। পুরুষদের ফ্যাশন ও আভিজাত্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পাঞ্জাবি কি বাঙালির পোশাক ছিল? পাঞ্জাবি কীভাবে উৎসব–অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান পোশাক আর বাঙালির জীবনের অংশ হয়ে উঠল? যদিও দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তাঁর ‘বাঙ্গালীর পোশাক’ নিবন্ধে লিখেছিলেন–
‘বাঙ্গালীর পোশাক অতি আদিম ও আদমিক। বাঙ্গালীর কোনো পোশাক নাই বলিলেই চলে।’
কোনো অঞ্চলের মানুষের পোশাক অনেকটাই নির্ভর করে সেই অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপর। ভারতীয় উপমহাদেশের আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র হওয়ায় এখানকার মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত।
ঐতিহাসিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রাচীন ভারতে বেশিরভাগ মানুষই সেলাইবিহীন কাপড় ব্যবহার করতেন। নারী-পুরুষ উভয়েই ধুতি, শাড়ি বা উত্তরীয়ের মতো কাপড় শরীরে পেঁচিয়ে পরতেন।
প্রাবন্ধিক সোমেন দে ‘রবিচক্রে’ লিখেছেন,
‘প্রাচীন বাংলায় সেলাই-করা কাপড় পরাকে অপবিত্র মনে করা হতো। সেজন্যই নারী-পুরুষেরা শাড়ি ও ধুতির মত পোশাকের চল হয়েছিল। মুসলমানরা এদেশে আসার আগে সেলাই করা কাপড় পরা হতো না। মুসলমানরা ধীরে ধীরে এ রীতি চালু করে এবং সমাজে ‘দর্জি’ নামক এক নতুন পেশার উদ্ভব হয়। এমনকি ১৯০১ সালে ঠাকুর বাড়ির গগনেন্দ্রনাথ যখন তাঁর নয় বছরের মেয়ে সুনন্দিনীকে সম্প্রদান করতে যাচ্ছিলেন তখন বরপক্ষের একজন আপত্তি জানিয়ে বলে সেলাই করা কাপড় পরে কন্যা সম্প্রদান করা যাবে না। গগনেন্দ্রনাথকে দেখিয়ে দিতে হয়েছিল যে তাঁর কন্যা কোনো সেলাই করা কাপড় পরেনি।’
পাঞ্জাবির প্রচলন ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে, এর নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ আজকের পাঞ্জাবি একদিনে তৈরি হয়নি; বিভিন্ন সময়ের কয়েকটি পোশাকের পরিবর্তিত রূপ থেকেই ধীরে ধীরে এর জন্ম হয়েছে। গবেষকদের মতে, বাংলায় ‘পাঞ্জাবি’ নামে যে পোশাকটি পরিচিত, উপমহাদেশের অনেক অঞ্চলে সেটিকে সাধারণত ‘কুর্তা’ বলা হয়। ধারণা করা হয়, পাঞ্জাব অঞ্চলে এই ধরনের পোশাকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে বাংলায় এটি ‘পাঞ্জাবি’ নামে পরিচিতি পায়। ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্য এশিয়া ও পারস্য অঞ্চলে সেলাই করা পোশাকের প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই ছিল। এই ধরনের লম্বা টিউনিক বা কুর্তার দুই পাশে চেরা থাকত, যা আজকের কুর্তারও একটি বৈশিষ্ট্য। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় শতাব্দীতে মধ্য এশিয়ার ইউয়েঝি জনগোষ্ঠী কুষাণ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। তাদের মাধ্যমে মধ্য এশীয় পোশাকধারা ভারতীয় উপমহাদেশে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে গুপ্ত যুগে এসে এই ধরনের সেলাই করা পোশাকের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, পাঞ্জাবি বা কুর্তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে মুঘল আমলে। মুঘল সম্রাট ও তাদের দরবারের লোকেরা পারস্যের ধাঁচে লম্বা, ঢিলেঢালা ও সুন্দর কারুকাজ করা পোশাক পরতেন। এসব পোশাককে তখন জামা, অঙ্গরাখা বা কুর্তা বলা হতো। শুরুতে এই পোশাকগুলো শুধু রাজপরিবার ও অভিজাতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুঘল শাসন বিস্তৃত হলে এই পোশাকের নকশা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সুতি কাপড়ে তৈরি সাধারণ কুর্তা আরামদায়ক হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাঙালির পোশাকে পাঞ্জাবি যুক্ত হলেও এটাকে বাঙালি হিন্দু সমাজে জনপ্রিয় করে তুলতে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির ভূমিকা রয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাঞ্জাবির নকশায় কিছু পরিবর্তন আনেন। তাঁরা ঝুল, কলার ও বোতামের অংশে সূক্ষ্ম পরিবর্তন করে পোশাকটিকে আরও মার্জিত করে তোলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে অমিত রায় চরিত্রটিকে নতুন কালের প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন এভাবে-
‘ধুতিসাদা থানের যত্নে কোঁচানো, কেননা ওর বয়সে এরকম ধুতি চলতি নয়। পাঞ্জাবি পরে, তার বাঁ কাঁধ থেকে বোতাম ডান দিকের কোমর অবধি, আস্তিনের সামনের দিকটা কনুইপর্যন্ত দু-ভাগ করা; কোমরে ধুতিটাকে ঘিরে একটা জরি-দেওয়া চওড়া খয়েরি রঙের ফিতে, তারই বাঁ দিকে ঝুলছে বৃন্দাবনী ছিটের এক ছোটো থলি, তার মধ্যে ওর ট্যাঁকঘড়ি;’ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের রুচিতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ধুতি বা চুড়িদার পায়জামার সঙ্গে কুঁচি দেওয়া বা গিলটি বোতামের পাঞ্জাবি পরা তখন শিক্ষিত বাঙালি বাবুদের এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়। পরে ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় বিদেশি কাপড় বর্জনের ডাক দেওয়া হলে খদ্দর বা মোটা সুতির পাঞ্জাবি দেশপ্রেম ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্জাবির নকশা ও কাপড়ের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তবে আজ থেকে পঞ্চাশ–ষাট বছর আগেও পাঞ্জাবির ডিজাইনে এত বৈচিত্র্য ছিল না। তখন সাধারণত কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় কিনে দর্জির কাছে মাপ দিয়ে পাঞ্জাবি সেলাই করানোই বেশি প্রচলিত ছিল। লম্বায় একটু কমবেশি ছাড়া ডিজাইনে তেমন পার্থক্য দেখা যেত না। সত্তরের দশক পর্যন্ত বেশিরভাগ পুরুষই খাদি বা সুতির পাঞ্জাবি পরতেন। বয়স্কদের মধ্যে ঢোলা হাতার পাঞ্জাবি জনপ্রিয় ছিল। আবার পাঞ্জাবি ও শার্টের মিশ্রণে লম্বা ঝুলের এক ধরনের শার্টও একসময় প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে ষাটের দশক পর্যন্ত। বিংশ শতাব্দীতে অনেক বাঙালি বুদ্ধিজীবীর মধ্যে লম্বা ঝুলের পাঞ্জাবির সঙ্গে চওড়া ঘেরের পায়জামা পরার একটি আলাদা ধারা দেখা যেত। এখন অবশ্য পাঞ্জাবির রূপ অনেক বদলে গেছে। আগে যেখানে শুধু সুতির পাঞ্জাবি দেখা যেত, এখন সিল্ক, হাফ–সিল্ক, অ্যান্ডি কটন বা খাদি কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। এগুলোর ওপর ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট বা সূচিকর্মের নানান কারুকাজও করা হয়।
বর্তমানে তরুণদের মধ্যে স্লিম ফিট ও সেমি–লং পাঞ্জাবি বেশ জনপ্রিয়। আর বয়স্করা এখনো ঐতিহ্যবাহী ঢিলেঢালা আরামদায়ক পাঞ্জাবিকেই বেশি পছন্দ করেন।

ঈদের সকালে অনেকের ঘুম ভাঙে বাবার পাঞ্জাবিতে দেওয়া আতরের গন্ধে। নতুন পাঞ্জাবি পরে, আতর মেখে ঈদের নামাজে যান পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, সবার গায়েই থাকে এই পরিচিত পোশাকটি। পুরুষদের ফ্যাশন ও আভিজাত্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পাঞ্জাবি কি বাঙালির পোশাক ছিল? পাঞ্জাবি কীভাবে উৎসব–অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান পোশাক আর বাঙালির জীবনের অংশ হয়ে উঠল? যদিও দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তাঁর ‘বাঙ্গালীর পোশাক’ নিবন্ধে লিখেছিলেন–
‘বাঙ্গালীর পোশাক অতি আদিম ও আদমিক। বাঙ্গালীর কোনো পোশাক নাই বলিলেই চলে।’
কোনো অঞ্চলের মানুষের পোশাক অনেকটাই নির্ভর করে সেই অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপর। ভারতীয় উপমহাদেশের আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র হওয়ায় এখানকার মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত।
ঐতিহাসিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রাচীন ভারতে বেশিরভাগ মানুষই সেলাইবিহীন কাপড় ব্যবহার করতেন। নারী-পুরুষ উভয়েই ধুতি, শাড়ি বা উত্তরীয়ের মতো কাপড় শরীরে পেঁচিয়ে পরতেন।
প্রাবন্ধিক সোমেন দে ‘রবিচক্রে’ লিখেছেন,
‘প্রাচীন বাংলায় সেলাই-করা কাপড় পরাকে অপবিত্র মনে করা হতো। সেজন্যই নারী-পুরুষেরা শাড়ি ও ধুতির মত পোশাকের চল হয়েছিল। মুসলমানরা এদেশে আসার আগে সেলাই করা কাপড় পরা হতো না। মুসলমানরা ধীরে ধীরে এ রীতি চালু করে এবং সমাজে ‘দর্জি’ নামক এক নতুন পেশার উদ্ভব হয়। এমনকি ১৯০১ সালে ঠাকুর বাড়ির গগনেন্দ্রনাথ যখন তাঁর নয় বছরের মেয়ে সুনন্দিনীকে সম্প্রদান করতে যাচ্ছিলেন তখন বরপক্ষের একজন আপত্তি জানিয়ে বলে সেলাই করা কাপড় পরে কন্যা সম্প্রদান করা যাবে না। গগনেন্দ্রনাথকে দেখিয়ে দিতে হয়েছিল যে তাঁর কন্যা কোনো সেলাই করা কাপড় পরেনি।’
পাঞ্জাবির প্রচলন ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে, এর নির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ আজকের পাঞ্জাবি একদিনে তৈরি হয়নি; বিভিন্ন সময়ের কয়েকটি পোশাকের পরিবর্তিত রূপ থেকেই ধীরে ধীরে এর জন্ম হয়েছে। গবেষকদের মতে, বাংলায় ‘পাঞ্জাবি’ নামে যে পোশাকটি পরিচিত, উপমহাদেশের অনেক অঞ্চলে সেটিকে সাধারণত ‘কুর্তা’ বলা হয়। ধারণা করা হয়, পাঞ্জাব অঞ্চলে এই ধরনের পোশাকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে বাংলায় এটি ‘পাঞ্জাবি’ নামে পরিচিতি পায়। ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্য এশিয়া ও পারস্য অঞ্চলে সেলাই করা পোশাকের প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই ছিল। এই ধরনের লম্বা টিউনিক বা কুর্তার দুই পাশে চেরা থাকত, যা আজকের কুর্তারও একটি বৈশিষ্ট্য। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় শতাব্দীতে মধ্য এশিয়ার ইউয়েঝি জনগোষ্ঠী কুষাণ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। তাদের মাধ্যমে মধ্য এশীয় পোশাকধারা ভারতীয় উপমহাদেশে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে গুপ্ত যুগে এসে এই ধরনের সেলাই করা পোশাকের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, পাঞ্জাবি বা কুর্তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে মুঘল আমলে। মুঘল সম্রাট ও তাদের দরবারের লোকেরা পারস্যের ধাঁচে লম্বা, ঢিলেঢালা ও সুন্দর কারুকাজ করা পোশাক পরতেন। এসব পোশাককে তখন জামা, অঙ্গরাখা বা কুর্তা বলা হতো। শুরুতে এই পোশাকগুলো শুধু রাজপরিবার ও অভিজাতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুঘল শাসন বিস্তৃত হলে এই পোশাকের নকশা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সুতি কাপড়ে তৈরি সাধারণ কুর্তা আরামদায়ক হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাঙালির পোশাকে পাঞ্জাবি যুক্ত হলেও এটাকে বাঙালি হিন্দু সমাজে জনপ্রিয় করে তুলতে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির ভূমিকা রয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাঞ্জাবির নকশায় কিছু পরিবর্তন আনেন। তাঁরা ঝুল, কলার ও বোতামের অংশে সূক্ষ্ম পরিবর্তন করে পোশাকটিকে আরও মার্জিত করে তোলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে অমিত রায় চরিত্রটিকে নতুন কালের প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন এভাবে-
‘ধুতিসাদা থানের যত্নে কোঁচানো, কেননা ওর বয়সে এরকম ধুতি চলতি নয়। পাঞ্জাবি পরে, তার বাঁ কাঁধ থেকে বোতাম ডান দিকের কোমর অবধি, আস্তিনের সামনের দিকটা কনুইপর্যন্ত দু-ভাগ করা; কোমরে ধুতিটাকে ঘিরে একটা জরি-দেওয়া চওড়া খয়েরি রঙের ফিতে, তারই বাঁ দিকে ঝুলছে বৃন্দাবনী ছিটের এক ছোটো থলি, তার মধ্যে ওর ট্যাঁকঘড়ি;’ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের রুচিতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ধুতি বা চুড়িদার পায়জামার সঙ্গে কুঁচি দেওয়া বা গিলটি বোতামের পাঞ্জাবি পরা তখন শিক্ষিত বাঙালি বাবুদের এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়। পরে ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় বিদেশি কাপড় বর্জনের ডাক দেওয়া হলে খদ্দর বা মোটা সুতির পাঞ্জাবি দেশপ্রেম ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্জাবির নকশা ও কাপড়ের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তবে আজ থেকে পঞ্চাশ–ষাট বছর আগেও পাঞ্জাবির ডিজাইনে এত বৈচিত্র্য ছিল না। তখন সাধারণত কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় কিনে দর্জির কাছে মাপ দিয়ে পাঞ্জাবি সেলাই করানোই বেশি প্রচলিত ছিল। লম্বায় একটু কমবেশি ছাড়া ডিজাইনে তেমন পার্থক্য দেখা যেত না। সত্তরের দশক পর্যন্ত বেশিরভাগ পুরুষই খাদি বা সুতির পাঞ্জাবি পরতেন। বয়স্কদের মধ্যে ঢোলা হাতার পাঞ্জাবি জনপ্রিয় ছিল। আবার পাঞ্জাবি ও শার্টের মিশ্রণে লম্বা ঝুলের এক ধরনের শার্টও একসময় প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে ষাটের দশক পর্যন্ত। বিংশ শতাব্দীতে অনেক বাঙালি বুদ্ধিজীবীর মধ্যে লম্বা ঝুলের পাঞ্জাবির সঙ্গে চওড়া ঘেরের পায়জামা পরার একটি আলাদা ধারা দেখা যেত। এখন অবশ্য পাঞ্জাবির রূপ অনেক বদলে গেছে। আগে যেখানে শুধু সুতির পাঞ্জাবি দেখা যেত, এখন সিল্ক, হাফ–সিল্ক, অ্যান্ডি কটন বা খাদি কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। এগুলোর ওপর ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট বা সূচিকর্মের নানান কারুকাজও করা হয়।
বর্তমানে তরুণদের মধ্যে স্লিম ফিট ও সেমি–লং পাঞ্জাবি বেশ জনপ্রিয়। আর বয়স্করা এখনো ঐতিহ্যবাহী ঢিলেঢালা আরামদায়ক পাঞ্জাবিকেই বেশি পছন্দ করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ঈদ পালনে পরিবর্তন এসেছে, কতজনের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে কত প্রিয়জনের ভালবাসা। কিন্তু আজও চোখ বুজলে আমরা সেই পুরোনো স্মৃতির গন্ধ পাই। এ কারণে ঈদের সঙ্গে সুগন্ধির সম্পর্কটি ভীষণ পবিত্র। এবারের ঈদে কেমন সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন তা নিয়েই আজকের লেখা।
৬ ঘণ্টা আগে
কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলামের নতুন উপন্যাস ‘বাদলের কারাবাস’ প্রকাশিত হয়েছে। নিছক গল্পের সীমানা ছাড়িয়ে বইটি হয়ে উঠেছে এক নির্দোষ তরুণের দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি বন্দিজীবনের করুণ আলেখ্য।
১ দিন আগে
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশ বেড়েছে। সাধারণ সুতি পোশাক থেকে শুরু করে জরি বা ভারী কাজের জামা—বিভিন্ন ধরনের পাকিস্তানি পোশাক এখন ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, এসব পোশাকের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে?
১ দিন আগে
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশব্যাপী পরিচালিত খাল খনন কর্মসূচিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে মানুষের কায়িক শ্রমকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ‘শ্রমনির্ভর’ পদ্ধতির পুরোনো কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একটি ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই
১ দিন আগে