জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদের ছুটির রেশ কাটছে না? সহজেই দূর করুন ‘পোস্ট-হলিডে ব্লুজ’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২: ১৬
ঈদের লম্বা ছুটি শেষ। এবার কর্মক্ষেত্রে ফেরার পালা। ছবি: সংগৃহীত

ঈদের লম্বা ছুটি শেষ। আবার বেজে ওঠে সকালের সেই বিরক্তিকর অ্যালার্ম। শুরু হয় প্রতিদিনের যান্ত্রিক জীবন। ছুটির আনন্দময় দিনগুলোর পর হঠাৎ কাজে ফিরতে একদমই মন চায় না। মনের ভেতর কাজ করে একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা। এই পরিচিত অনুভূতিকেই বলা হয় ‘পোস্ট-হলিডে ব্লুজ’ বা ছুটি শেষের বিষণ্ণতা।

সেসময় পরিবারের সঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়গুলো বারবার মনে পড়ে। অফিসের ল্যাপটপ বা ফাইলের দিকে তাকালে একঘেয়েমি লাগে। কিন্তু কী আর করা, জীবনকে চালিয়ে নিতে হয় জীবনের নিয়মে।

তবে একটু সচেতন হলে এই মানসিক ধাক্কা সামলানো অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

চলুন জেনে নিই কাজে ফেরার পর এই বিষণ্ণতা কাটানোর কয়েকটি উপায়-

মনস্তাত্ত্বিকরা কী বলেন

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পোস্ট-হলিডে ব্লুজ খুব স্বাভাবিক একটি মানসিক প্রক্রিয়া। ছুটির সময় আমাদের মস্তিষ্ক খুব চিন্তামুক্ত থাকে। আমরা আনন্দে দিনগুলো পার করি। কিন্তু ছুটি শেষে হঠাৎ করে যখন আবার পুরনো রুটিনে ফিরতে হয়, তখন মস্তিষ্ক এই পরিবর্তনে ধাক্কা খায়।

মনস্তাত্ত্বিকরা বলেন, এই সময় মন খারাপ হওয়াটা কেবল একটি সাময়িক অনুভূতি। ছুটির স্বাধীনতা থেকে হঠাৎ করে অফিসের নিয়মের মাঝে ফিরে আসাটা মেনে নিতে মস্তিষ্কের একটু সময় লাগে। তাই নিজেকে জোর করে খুশি রাখার চেষ্টা করবেন না। প্রথম দিনেই প্রচণ্ড কাজ করার চাপ নেবেন না। বরং এই অনুভূতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিন। নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় দিন।

নিজের কাজের জায়গা পরিপাটি রাখা

দীর্ঘ ছুটির পর অফিসে ফিরে প্রথমেই নিজের কাজের জায়গাটা একটু পরিষ্কার করে নিন। অপরিষ্কার বা অগোছালো ডেস্ক দেখলে মনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। টেবিলটা সুন্দর করে গুছিয়ে রাখুন। গুছিয়ে কাজ শুরু করলে মস্তিষ্কে একটা ইতিবাচক সংকেত যায়। চাইলে একটি ছোট গাছ বা সুন্দর কোনো শোপিস ডেস্কে রাখতে পারেন। পরিপাটি কাজের পরিবেশ মনের বিষণ্ণতা কাটাতে দারুণ সাহায্য করে। গোছানো জায়গা দেখলে এমনিতেই কাজের প্রতি মনোযোগ ফিরে আসে।

কাজের চাপ ভাগ করে নেওয়া

অফিসের প্রথম দিনেই কাজের পাহাড় মাথায় নেবেন না। প্রথম দিনটা একটু হালকা মেজাজে শুরু করুন। একটি ডায়েরিতে সারাদিন কী কী কাজ করবেন তার একটি তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন। কঠিন বা বড় কাজগুলো প্রথম দিনে না ধরাই ভালো। কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। ছোট আর সহজ কাজগুলো আগে শেষ করুন। কাজ শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে টিক চিহ্ন দিয়ে রাখুন। এটি আপনার মস্তিষ্কে এক ধরণের তৃপ্তি দেবে। কাজের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ ফিরে আসবে। একবারে অনেক কাজের কথা ভাবলে মানসিক চাপ বাড়ে। তাই ধাপে ধাপে কাজ এগোলে বিষণ্ণতা অনেকটাই কমে যায়।

কাজে ফেরার প্রথম দিনটি সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে কাটান। ছবি: সংগৃহীত
কাজে ফেরার প্রথম দিনটি সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে কাটান। ছবি: সংগৃহীত

সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি

কাজে ফেরার প্রথম দিনটি সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে কাটান। কার ঈদ কেমন কাটল, কোথায় ঘুরতে গেলেন, সেই গল্পগুলো করুন। চাইলে ঈদের নতুন জামা পরেও অফিসে আসতে পারেন। এতে ঈদের আনন্দের রেশ একটু হলেও অফিসে ছড়িয়ে পড়বে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে টুকটাক আড্ডা দিতে পারেন। এত করে অফিসের পরিবেশ আগের মতো আপন ও স্বস্তিদায়ক মনে হবে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কর্মক্ষেত্রে ভালো সামাজিক সম্পর্ক আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই কাজের ফাঁকে চা বা কফি খেতে খেতে সহকর্মীদের সাথে গল্প করুন। এতে মন খারাপের অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়। কাজের একঘেয়েমি কাটাতে মানুষের সাথে কথা বলা খুব ভালো কাজ করে।

কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া

দীর্ঘ ছুটির পর টানা কাজ করা বেশ কঠিন। তাই কাজের মাঝে মাঝে ছোট বিরতি বা ব্রেক নেওয়া খুব জরুরি। এক টানা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ ও মস্তিষ্ক দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতি এক ঘণ্টা কাজ করার পর অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য সিট থেকে উঠুন। একটু হেঁটে আসুন বা জানালা দিয়ে বাইরের আকাশ দেখুন। এই ছোট বিরতিগুলো আপনার কাজের গতি বাড়িয়ে দেবে। মনোবিজ্ঞানীরা একে 'মাইক্রো-ব্রেক' বলে থাকেন। এই পদ্ধতি মানসিক চাপ কমিয়ে কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা

ঈদের ছুটিতে আমাদের অনেকেরই রাত জাগা আর দেরিতে ওঠার অভ্যাস হয়ে যায়। কাজে ফেরার পর এই রুটিন দ্রুত বদলাতে হবে। শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। ঘুম কম হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

এছাড়া টানা কয়েকদিন ভারী ও তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর এখন একটু হালকা খাবার খান। বেশি করে পানি ও তাজা ফলের রস পান করুন। হঠাৎ করে চিনি বা অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার বন্ধ হলে শরীরে এক ধরণের ক্লান্তি আসে। তাই পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শরীর সতেজ রাখুন। শরীর ভালো থাকলে কাজে মনোযোগ দেওয়া অনেক সহজ হয়। শারীরিক ক্লান্তি দূর হলে মানসিক বিষণ্ণতাও দ্রুত কেটে যায়।

পরবর্তী ছুটির বা আনন্দের পরিকল্পনা

মনকে চাঙা রাখার এটি একটি চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক উপায়। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেছে ভেবে মন খারাপ না করে, সামনের ছুটির কথা ভাবুন। পরবর্তী ছুটিতে কোথায় ঘুরতে যাবেন বা কী করবেন, তার একটি ছোট্ট পরিকল্পনা করে ফেলুন। সামনে সুন্দর কিছুর অপেক্ষা থাকলে বর্তমানের কাজগুলো করতে আর কষ্ট বা বিরক্তি লাগে না। ছুটির পরিকল্পনা ছাড়াও সপ্তাহান্তে বন্ধুদের সাথে দেখা করার কথা বা ভালো কোনো রেস্তোরাঁয় খাওয়ার কথা ভাবতে পারেন। মস্তিষ্ক যখন ভবিষ্যতের কোনো আনন্দের কথা ভাবে, তখন বর্তমানের বিষণ্ণতা এমনিতেই দূরে সরে যায়।

ছুটির পর কাজে ফেরাটা একটু কষ্টের হলেও, এটিই আমাদের জীবনের বাস্তবতা। হাসিমুখে এই বাস্তবতাকে মেনে নিলে কাজের পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দময়।

সম্পর্কিত