স্টিভ জবস, ল্যারি পেইজ, কিংবা জেফ বেজোস—সবাই যার কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন, তাঁর নাম বিল ক্যাম্পবেল। ফুটবল মাঠের কোচ থেকে সিলিকন ভ্যালির ‘দ্য ট্রিলিয়ন ডলার কোচ’হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিল কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন ট্রিলিয়ন ডলারের টেক সাম্রাজ্যের মেন্টর?
মিনহাজ রহমান পিয়াস

শোনা যায়, একবার গুগলের এক মিটিংয়ে প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ আর সিইও এরিক শ্মিটের মধ্যে তুমুল বিতর্ক বেঁধে গেল। সবাই চুপ। ঠিক তখনই এক ভদ্রলোক শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘তোমরা দুজনেই ঠিক বলছো। এখন নিজেদের ইগোর কথা না ভেবে, কোম্পানির জন্য কোনটা ভালো হবে, সেটা ভাবো।’ এই ঘটনাটি ছিল গুগলের শুরুর দিনগুলোর। আর পরামর্শদাতা সেই ভদ্রলোকের নাম বিল ক্যাম্পবেল।
স্টিভ জবস যখন ১৯৮৫ সালে নিজেরই তৈরি কোম্পানি ‘অ্যাপল’ থেকে বেরিয়ে গেলেন, তখন বিল অ্যাপলে কাজ করছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। সেই ঘটনায় অনেকে নীরব থাকলেও, এই বিল ক্যাম্পবেল জোর গলায় বলেছিলেন, ‘কাজটা ভুল হচ্ছে। কারণ, স্টিভ জবসের মতো প্রতিভাকে ছাড়া অ্যাপল সফলতা পাবে না’। পরে স্টিভ জবস ‘নেক্সট কম্পিউটার’ প্রতিষ্ঠা করলেন।
এর এক যুগ পর ১৯৯৭ সালে স্টিভ জবসকে আবার অ্যাপলে ফিরিয়ে আনা হলো। তখন অনেকেই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে ভয় পেতেন। সেই সময় বিল স্টিভ জবসকে বলেছিলেন, ‘স্টিভ, মানুষ তোমাকে ফলো করবে না, কারণ তুমি স্মার্ট। মানুষ তখনই তোমাকে ফলো করবে, যদি তাঁরা অনুভব করে তুমি তাঁদের যত্ন নিচ্ছ।’ এই কথাটাই পরে সিলিকন ভ্যালির নেতৃত্বদর্শনের অন্যতম মূল শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
বিল ক্যাম্পবেলকে সবাই ‘দ্য হাগিং কোচ’নামেও চিনত। কারণ, তিনি যাকেই দেখতেন, জড়িয়ে ধরতেন। সে জুনিয়র কর্মী হোক, অফিস সহকারী হোক, কিংবা কোনো বড়সড় সিইও। বিলের বিশ্বাস ছিল, নেতৃত্ব মানে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়, মানুষকে অনুভব করানো যে তাঁরাও গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি ঘটনার কথা শোনা যায়। গুগলের এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার একবার নতুন প্রজেক্টে ব্যর্থ হয়ে মন খারাপ করে বসে ছিল। অফিসের করিডোরে বিল তাঁকে দেখে এগিয়ে গিয়ে হেসে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, ‘ভুল করতে ভয় পেয়ো না, সাহসটাই আসল।’ সিলিকন ভ্যালির অনেকের মুখেই শোনা যায়, বিল কখনো ব্যর্থতাকে ভয় হিসেবে দেখাতে চাইতেন না। এই মনোভাবটাই যেন সিলিকন ভ্যালির সাফল্যের সারসংক্ষেপ। আর তাই সবাই বিল ক্যাম্পবেলকে মানতেন ‘দ্য কোচ অব সিলিকন ভ্যালি’ হিসেবে।

অ্যাপলের স্টিভ জবস, গুগলের ল্যারি পেইজ, সের্গেই ব্রিন, এরিক শ্মিট, অ্যামাজনের জেফ বেজোসের মতো মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাও কোনো না কোনোভাবে বিলের পরামর্শ পেয়েছিলেন। একসময় গুগল ও অ্যাপলের নির্বাহীরা তাঁকে কোম্পানির শেয়ার দিতে চেয়েছিলেন। বিল তখন হেসে বলেছিলেন, ‘এটা রাখো। তোমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে বিনিয়োগ করো।’
একবার গুগলের এক ম্যানেজার নিজের টিমের ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েছিল। বিল তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার কাজ টিমের পারফরম্যান্স মাপা নয়, তাঁদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।’পরবর্তী সময়ে সেই ম্যানেজার গুগলের অন্যতম সেরা নেতৃত্বে পরিণত হন। বলাই বাহুল্য, সেই ম্যানেজার বিল দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
বিল ক্যাম্পবেলের পেশাজীবনের শুরুটা কিন্তু প্রযুক্তি জগতে নয়। তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একজন ফুটবল কোচ হিসেবে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফুটবল দলের মূল কোচও ছিলেন। সেখানে তিনি শিখেছিলেন টিম স্পিরিট আর পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। যা তিনি প্রযুক্তি জগতেও প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বলতেন, ‘বিজনেস আসলে আরেকটা টিম গেম।’
শোনা যায় একবার অ্যামাজনের জেফ বেজোস তাঁর কাছে পরামর্শ চাইলেন, ‘আমি কাকে প্রথমে গুরুত্ব দেব? কাস্টমার, ইনভেস্টর না এমপ্লয়ি?’ বিল হেসে বলেছিলেন, ‘তোমার এমপ্লয়িদের ভালো রাখো, তারা বাকিদের যত্ন নেবে’।
অ্যাপল, গুগল, ইনটুইট, অ্যাপল-এর সাবসিডিয়ারি ক্ল্যারিস, নেটস্কেপ, ই-বের মতো সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর গঠনযাত্রায় বিল ক্যাম্পবেলের অবদান ছিল পরামর্শদাতার মতো।
বিলের কাছে সাফল্যের মানে ছিল মানুষকে গড়ে তোলা, তাদের ভেতরের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলা। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্ভাবকদের তিনি মেন্টরশিপ দিয়েছেন। যার ফলাফল আজ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ব্যবসা সাম্রাজ্য। তাই বিলকে বলা হয় ‘দ্য ট্রিলিয়ন ডলার কোচ’।

শোনা যায়, একবার গুগলের এক মিটিংয়ে প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ আর সিইও এরিক শ্মিটের মধ্যে তুমুল বিতর্ক বেঁধে গেল। সবাই চুপ। ঠিক তখনই এক ভদ্রলোক শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘তোমরা দুজনেই ঠিক বলছো। এখন নিজেদের ইগোর কথা না ভেবে, কোম্পানির জন্য কোনটা ভালো হবে, সেটা ভাবো।’ এই ঘটনাটি ছিল গুগলের শুরুর দিনগুলোর। আর পরামর্শদাতা সেই ভদ্রলোকের নাম বিল ক্যাম্পবেল।
স্টিভ জবস যখন ১৯৮৫ সালে নিজেরই তৈরি কোম্পানি ‘অ্যাপল’ থেকে বেরিয়ে গেলেন, তখন বিল অ্যাপলে কাজ করছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। সেই ঘটনায় অনেকে নীরব থাকলেও, এই বিল ক্যাম্পবেল জোর গলায় বলেছিলেন, ‘কাজটা ভুল হচ্ছে। কারণ, স্টিভ জবসের মতো প্রতিভাকে ছাড়া অ্যাপল সফলতা পাবে না’। পরে স্টিভ জবস ‘নেক্সট কম্পিউটার’ প্রতিষ্ঠা করলেন।
এর এক যুগ পর ১৯৯৭ সালে স্টিভ জবসকে আবার অ্যাপলে ফিরিয়ে আনা হলো। তখন অনেকেই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে ভয় পেতেন। সেই সময় বিল স্টিভ জবসকে বলেছিলেন, ‘স্টিভ, মানুষ তোমাকে ফলো করবে না, কারণ তুমি স্মার্ট। মানুষ তখনই তোমাকে ফলো করবে, যদি তাঁরা অনুভব করে তুমি তাঁদের যত্ন নিচ্ছ।’ এই কথাটাই পরে সিলিকন ভ্যালির নেতৃত্বদর্শনের অন্যতম মূল শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
বিল ক্যাম্পবেলকে সবাই ‘দ্য হাগিং কোচ’নামেও চিনত। কারণ, তিনি যাকেই দেখতেন, জড়িয়ে ধরতেন। সে জুনিয়র কর্মী হোক, অফিস সহকারী হোক, কিংবা কোনো বড়সড় সিইও। বিলের বিশ্বাস ছিল, নেতৃত্ব মানে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়, মানুষকে অনুভব করানো যে তাঁরাও গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি ঘটনার কথা শোনা যায়। গুগলের এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার একবার নতুন প্রজেক্টে ব্যর্থ হয়ে মন খারাপ করে বসে ছিল। অফিসের করিডোরে বিল তাঁকে দেখে এগিয়ে গিয়ে হেসে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, ‘ভুল করতে ভয় পেয়ো না, সাহসটাই আসল।’ সিলিকন ভ্যালির অনেকের মুখেই শোনা যায়, বিল কখনো ব্যর্থতাকে ভয় হিসেবে দেখাতে চাইতেন না। এই মনোভাবটাই যেন সিলিকন ভ্যালির সাফল্যের সারসংক্ষেপ। আর তাই সবাই বিল ক্যাম্পবেলকে মানতেন ‘দ্য কোচ অব সিলিকন ভ্যালি’ হিসেবে।

অ্যাপলের স্টিভ জবস, গুগলের ল্যারি পেইজ, সের্গেই ব্রিন, এরিক শ্মিট, অ্যামাজনের জেফ বেজোসের মতো মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাও কোনো না কোনোভাবে বিলের পরামর্শ পেয়েছিলেন। একসময় গুগল ও অ্যাপলের নির্বাহীরা তাঁকে কোম্পানির শেয়ার দিতে চেয়েছিলেন। বিল তখন হেসে বলেছিলেন, ‘এটা রাখো। তোমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে বিনিয়োগ করো।’
একবার গুগলের এক ম্যানেজার নিজের টিমের ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েছিল। বিল তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার কাজ টিমের পারফরম্যান্স মাপা নয়, তাঁদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।’পরবর্তী সময়ে সেই ম্যানেজার গুগলের অন্যতম সেরা নেতৃত্বে পরিণত হন। বলাই বাহুল্য, সেই ম্যানেজার বিল দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
বিল ক্যাম্পবেলের পেশাজীবনের শুরুটা কিন্তু প্রযুক্তি জগতে নয়। তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একজন ফুটবল কোচ হিসেবে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফুটবল দলের মূল কোচও ছিলেন। সেখানে তিনি শিখেছিলেন টিম স্পিরিট আর পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। যা তিনি প্রযুক্তি জগতেও প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বলতেন, ‘বিজনেস আসলে আরেকটা টিম গেম।’
শোনা যায় একবার অ্যামাজনের জেফ বেজোস তাঁর কাছে পরামর্শ চাইলেন, ‘আমি কাকে প্রথমে গুরুত্ব দেব? কাস্টমার, ইনভেস্টর না এমপ্লয়ি?’ বিল হেসে বলেছিলেন, ‘তোমার এমপ্লয়িদের ভালো রাখো, তারা বাকিদের যত্ন নেবে’।
অ্যাপল, গুগল, ইনটুইট, অ্যাপল-এর সাবসিডিয়ারি ক্ল্যারিস, নেটস্কেপ, ই-বের মতো সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর গঠনযাত্রায় বিল ক্যাম্পবেলের অবদান ছিল পরামর্শদাতার মতো।
বিলের কাছে সাফল্যের মানে ছিল মানুষকে গড়ে তোলা, তাদের ভেতরের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলা। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্ভাবকদের তিনি মেন্টরশিপ দিয়েছেন। যার ফলাফল আজ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ব্যবসা সাম্রাজ্য। তাই বিলকে বলা হয় ‘দ্য ট্রিলিয়ন ডলার কোচ’।

দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১৮ ঘণ্টা আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
২০ ঘণ্টা আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে
হাতে বই কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ পরই চোখ চলে যায় স্মার্টফোনে। সিনেমা দেখতে বসেও কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য কনটেন্টে চলে যাওয়ার অভ্যাস এখন পরিচিত দৃশ্য। এই অস্থির মনোযোগ ও দ্রুত বিষয় বদলের প্রবণতাকেই আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ‘পপকর্ন ব্রেইন’।
২ দিন আগে