দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান অভিযান শেষ করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ১০
ডোনাল্ড ট্রাম্প

দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানযুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। খবর আল জাজিরার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরানে সামরিক অভিযান থেকে সরে আসতে পারে। হয়তো দুই সপ্তাহ বা তিন সপ্তাহ। যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা হারিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান বন্ধ করবে।’

যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একই দিনে গণমাধ্যমকে জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিছু বার্তা আদান-প্রদান হলেও বর্তমানে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পরও কূটনৈতিক অচলাবস্থা বহাল রয়েছে।

ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরান একটি চুক্তির করতে আগ্রহী। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন বলে মনে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পার্সি বলেন, যুদ্ধের সময়সীমা বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকেই ইঙ্গিত করে।

তাঁর মতে, সংঘাতটি ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ফলে দ্রুত সরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না।

পার্সি বলেন, শুরুর দিকে বলা হয়েছিল কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হবে। পরে বলা হলো তিন সপ্তাহ লাগবে। এখন আবার নতুন সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত সমাধান কেবল কার্যকর আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ইরানের উপসাগরীয় তেল স্থাপনায় হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এ প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের সমালোচনা করে বলেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অনীহা দেখাচ্ছে। নিজেদের লড়াই নিজেরাই শিখুন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় পাশে থাকবে না। প্রয়োজনে নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করুন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রধান পিট হেগসেথও একই সুরে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি কাতার সফরকালে বলেন, যুক্তরাজ্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই কাজ করছে।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের উদ্দেশে সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানগুলোকে ফরাসি আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দপ্তর জানায়, ইরানসংক্রান্ত তাঁদের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট এবং এতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। পার্সি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবাহিনী থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং ইরান প্রণালিতে প্রভাব বজায় রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠানোর মতো বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশলে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। দীর্ঘমেয়াদে এমন কৌশল স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হতে পারে।

এদিকে, এক মার্কিন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরান অভিযানে অর্ধেকের বেশি লক্ষ পূরণ হয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের সময়সীমা নিয়ে কিছু বলেননি তিনি।

সম্পর্কিত