ইসরায়েলে ১৫০০ বছরের পুরোনো চার্চে হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটের আঘাত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ২৬
১৫০০ বছর পুরোনো একটি বাইজেন্টাইন চার্চের ধ্বংসাবশেষে রকেটের আঘাত। সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাহারিয়ায় প্রায় ১৫০০ বছর পুরোনো একটি বাইজেন্টাইন চার্চের ধ্বংসাবশেষে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ছোঁড়া রকেট আঘাত হেনেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) ইসরায়েল অ্যান্টিকুইটিজ অথরিটি (আইএএ) ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

আইএএ জানায়, চার্চের প্রাচীন মোজাইক মেঝে সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ২০২২ সালে উদ্বোধন করা একটি আধুনিক কাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। প্রায় ৫০০ বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই মোজাইকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোজাইকটি আধুনিক ভবনের ধ্বংসাবশেষে ঢাকা পড়েছে। তবে মোজাইক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানায় আইএএ।

নাহারিয়ার ক্যাটজনেলসন এলাকায় অবস্থিত এই চার্চের ধ্বংসাবশেষ প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৬৪ সালে একটি স্কুল নির্মাণের সময়। আইএএর তথ্য অনুযায়ী, ৬১৪ খ্রিস্টাব্দে পারস্য আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চার্চের অংশ এটি।

প্রাচীন এই মোজাইকের মেঝেতে প্রাণী, উদ্ভিদ এবং মানবচিত্রের নানান দৃশ্য রয়েছে। চারপাশে ১০০টি মেডালিয়নের মধ্যে ৮৭টি এখনও সংরক্ষিত আছে। এর কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ফুলের আকৃতির একটি রোসেট নকশা।

প্রায় ৫০০ বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই মোজাইকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত
প্রায় ৫০০ বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই মোজাইকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত

নাহারিয়ার মেয়র রোনেন মেরেল্লি বলেন, ‘এটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পদ। যা জনগণ ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ হামলায় ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খোমেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হিজবুল্লাহ ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন, রাজধানী বৈরুত এবং বেকা উপত্যকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ লেবাননে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযানও শুরু করে ইসরায়েল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা একটি অন্যতম একটি শর্ত ছিল। তবে, ইসরায়েল প্রথম থেকেই এটি অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধবিরতির পরদিন লেবাননে স্মরণকালের ভয়াবহ হামলাও চালায় দেশটি। বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের হামলা করে যাচ্ছে। জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

সম্পর্কিত