‘যত দ্রুত সম্ভব’ হরমুজ সচল করতে ট্রাম্প ও স্টারমারের ফোনালাপ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সংগৃহীত ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শুরু করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে এ ফোনালাপ হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র। স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে ওই জলপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে একটি ‘টেকসই পরিকল্পনা’ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন।

ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতিতে বলা হয়, “নেতারা একমত হয়েছেন যে, যেহেতু বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তাই আমরা এখন সমাধানের পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছি।”

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, জাহাজ চলাচল আবার শুরু করতে একটি ব্যবহারিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই নেতা কথা বলেছেন। ট্রাম্প ও স্টারমার খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আবার আলোচনা করবেন।

কাতার সফররত স্টারমার বৃহস্পতিবার সেখান থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেন। দুই নেতা একমত হন যে, যেহেতু যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং প্রণালিটি খোলার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তাই এখন স্থায়ী সমাধানের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সময় এসেছে। তাঁরা খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আবার আলোচনার বিষয়েও একমত হন।

তবে এই ফোনালাপের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের বক্তব্যের‘ভাষা’ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন কিয়ার স্টারমার। বিশেষ করে ইরানি সভ্যতা নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের বিপরীতে স্টারমার স্থানীয় আইটিভি-র একটি পডকাস্টে বলেন, 'আমি এই শব্দগুলো কখনোই ব্যবহার করব না, কারণ আমি ব্রিটিশ মূল্যবোধ ও নীতিতে বিশ্বাসী।' এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘ভুল’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন তিনি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা তীব্রতর হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এর মধ্যেই স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের।

এদিকে গত বুধবার লেবাননে যুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন পার হয়েছে; ইসরায়েলি হামলায় সেখানে ৩০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারা ‘কঠোর জবাব’ দেবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি আলোচনায় অনুমোদন দিলেও স্পষ্ট করেছেন যে, লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স, মিরর, আল-জাজিরা

সম্পর্কিত