ইরানে আরও দুই-তিন সপ্তাহ কঠোর হামলা হবে, ভাষণে ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ০২
হোয়াইট হাউজ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টায় ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম প্রাইমটাইম ভাষণে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

বিবিসি, আল জাজিরারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ভাষণে নতুন কোনো কথা বলেননি ট্রাম্প। ভাষণে করা অধিকাংশ মন্তব্যই তিনি গত কয়েকদিন ধরে বলে আসছেন।

ভাষণে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানো হবে। এ হামলা এতটাই শক্তিশালী হবে যে এতে ইরান ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরে যাবে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। খুব শিগগরিই সব লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।

তিনি আবারও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কখনোই ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানো ছিল না। যদিও তিনি উল্লেখ করেন, দেশটির পূর্ববর্তী নেতার নিহতের পর সেখানে পরিস্থিতিগত পরিবর্তন ঘটেছে।

এছাড়া ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক সমাধান না এলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র একযোগে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারে।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এ ভাষণের শুরুতেই মিশন ‘আর্টেমিস-২’ চাঁদে সফল উৎক্ষেপনের জন্য নাসাকে ধন্যবাদ জানান। যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসী উল্লেখ করে তাঁদের প্রশংসা করেন। পরে এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, আজ ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বেশির ভাগ নেতারা নিহত হয়েছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।

ভাষণে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ, বিশেষ করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁরা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত না।

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ইরান যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সেটি ব্যাখ্যা করতেই তিনি এ ভাষণ দিচ্ছেন বলে জানান।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ব্যাপারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে তেল আনার প্রয়োজন নেই। যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রয়োজন তাদের নিজেদেরই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ যুদ্ধ ‘সফল বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তাদের পরমাণু আতঙ্কে নেই। যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে।

সম্পর্কিত