হাসিবুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র প্রধান বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির একক প্রার্থী ঘোষণা এবং জামায়াতেরও স্বতন্ত্রভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে, এটি কি কৌশলগত অবস্থান, নাকি দূরত্বের শুরু।
গত রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল।
এনসিপির অবস্থান
জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনই একক প্রার্থী দিচ্ছে এনসিপি। একইভাবে জাতীয় নির্বাচনের আগেও একক প্রার্থী দিয়েছিল দলটি। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াতসহ ‘১১ দলীয় নির্বাচনী এক্যে’র অংশ হয় দলটি।
১১ দলীয় জোটে থাকার পরও কেন একক প্রার্থী দিচ্ছে এনসিপি? এ বিষয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘এনসিপি গণ-অভ্যুত্থানের দল। বড় কোনো দলের সাথে জোটে থাকলে এনসিপির যে চিন্তা-ভাবনা বা আদর্শ, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করা সহজ হবে না। দল যেভাবে ফাংশন করতে চায়, এককভাবে নির্বাচন ও অন্যান্য কাজ করলে তা বেশি কার্যকর হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত নিজেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে করার কথা বলছে। তাই এনসিপিরও উচিত স্বকীয়তা বজায় রাখা।
১১ দলীয় জোটের অংশ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। এই জোটের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই নেত্রী জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। সামান্তা বলেন, ‘সংসদে জোট থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। তাই চিফ হুইপ হলেই যে সবসময় জামায়াত বা ১১ দলীয় জোটের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
এদিকে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজও একই সুরে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত এনসিপি এককভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে। আমরা পুরো প্রস্তুতি নিচ্ছি, সামনেও এই প্রস্তুতি আমাদের থাকবে। তবে রাজনীতিতে দিন বদলালে অনেককিছুই হতে পারে।’
১১ দলীয় জোটের কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে জোটে কোন আলোচনাই হয়নি। যখন তফসিল হবে তখন হয়তো জোটের সাথে আলোচনা হতে পারে। জোটের কথা অনুযায়ী তো সব কাজ চলতে পারে না, তাহলে তো দলের স্বকীয়তা থাকে না। আমরা আমাদের দলীয় স্বাতন্ত্র্যতা রাখতেই নিজেদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে জামায়াত বা অন্য কোন দলের সাথে এখন পর্যন্ত আলোচনা হচ্ছে কী না জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।’
জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি
এদিকে প্রায় এক বছর আগে থেকেই সিটি নির্বাচনের কাজ শুরু করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে কাউন্সিলর পদে ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও আলোচনায় রয়েছেন হাফডজন নেতা। সূত্রের দাবি, আলোচিত এই নেতারাই মেয়র পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। তবে এরা ছাড়াও নির্বাচন না করা অথবা নির্বাচন করেও জয়ী হতে না পারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও কারো কারো সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্ট্রিমকে জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাকে কোন পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যতটুকু হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে গত রোববার (২৯ মার্চ) জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এনসিপি বলছে, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত কিংবা ১১ দলের সঙ্গে ঐক্য হলেও স্থানীয় নির্বাচনে তারা এককভাবেই লড়বে।
এই জোটের ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার স্ট্রিমকে বলেন, ‘১১ দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সব নির্বাচন হবে স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে। এখনও আমরা এই নীতিতেই আছি। এনসিপি ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমরাও খুব দ্রুতই ঘোষণা করব। কিন্তু সরকারকে দেখে তো মনে হচ্ছে না দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার তাদের ইচ্ছা আছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি আমরা নিয়ে রাখছি। এ জন্যই আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন চেয়েছিলাম।’
বিশ্লেষকদের অভিমত
এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কে এম মহিউদ্দীন মঙ্গলবার ঢাকা স্ট্রিমকে এক ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তার মতে, বাইরে থেকে স্বতন্ত্র অবস্থানের কথা বলা হলেও এই দুই দলের জোট সহজে ভাঙবে না।
ড. মহিউদ্দীন বলেন, ‘পাবলিক পারসেপশন হলো এনসিপি জামায়াতেরই একটি ‘প্রোডাক্ট’। যদিও তারা এটি অস্বীকার করে, কিন্তু তাদের রাজনৈতিক ওরিয়েন্টেশন বা ব্যাকগ্রাউন্ড জামায়াতের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। বর্তমানে এনসিপির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জামায়াত ছাড়া আর কোনো শক্তিশালী মিত্র নেই।’
এনসিপির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘বিএনপির এখন আর এনসিপিকে প্রয়োজন নেই, আর তারা এনসিপিকে কতটা বিশ্বাস করে তা নিয়েও সন্দেহ আছে। ফলে এনসিপির একমাত্র বন্ধু এখন জামায়াত, আর জামায়াতেরও সংসদীয় ও রাজনৈতিক কৌশলের জন্য এনসিপিকে দরকার।’
সিটি নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেওয়াকে ড. মহিউদ্দীন একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদের জন্য তারা পদ বণ্টনের সমঝোতা করতে পারে, সেটা হয়েছেও। স্থানীয় নির্বাচনে এখন আলাদা প্রার্থী দিলেও নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে হয়তো তারা সমঝোতা করে কোনো এক পক্ষ প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে। আদর্শগতভাবে তারা যা বলে, বাস্তবে তার প্রতিফলন সবসময় ঘটে না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দীন আহমদ মনে করছেন, এনসিপি এবং জামায়াত এখন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে টিকে আছে। রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের স্বকীয়তা জাহির করার জন্য তারা আলাদা প্রার্থী দিলেও, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে এবং বিশেষ করে বিএনপির মতো বড় শক্তির মোকাবিলায় তারা শেষ পর্যন্ত একই সুতোয় বাধা থাকবে।
বর্তমান জাতীয় সংসদে ১১-দলীয় ঐক্যের ৭৭টি আসনের মধ্যে জামায়াতের ৬৮ জন এবং এনসিপির ৬ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদটি এনসিপিকে দিয়ে জামায়াত তাদের সঙ্গে রাখার একটি চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই দুই দলের আলাদা পথ চলা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কেউ কেউ বলছেন, এনসিপির একক প্রার্থী ঘোষণা সম্ভবত তাদের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিজেদের একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং আদর্শিক মিল তাদের পুনরায় একই বিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র প্রধান বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির একক প্রার্থী ঘোষণা এবং জামায়াতেরও স্বতন্ত্রভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে, এটি কি কৌশলগত অবস্থান, নাকি দূরত্বের শুরু।
গত রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল।
এনসিপির অবস্থান
জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনই একক প্রার্থী দিচ্ছে এনসিপি। একইভাবে জাতীয় নির্বাচনের আগেও একক প্রার্থী দিয়েছিল দলটি। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াতসহ ‘১১ দলীয় নির্বাচনী এক্যে’র অংশ হয় দলটি।
১১ দলীয় জোটে থাকার পরও কেন একক প্রার্থী দিচ্ছে এনসিপি? এ বিষয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘এনসিপি গণ-অভ্যুত্থানের দল। বড় কোনো দলের সাথে জোটে থাকলে এনসিপির যে চিন্তা-ভাবনা বা আদর্শ, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করা সহজ হবে না। দল যেভাবে ফাংশন করতে চায়, এককভাবে নির্বাচন ও অন্যান্য কাজ করলে তা বেশি কার্যকর হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত নিজেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে করার কথা বলছে। তাই এনসিপিরও উচিত স্বকীয়তা বজায় রাখা।
১১ দলীয় জোটের অংশ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। এই জোটের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই নেত্রী জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। সামান্তা বলেন, ‘সংসদে জোট থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। তাই চিফ হুইপ হলেই যে সবসময় জামায়াত বা ১১ দলীয় জোটের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
এদিকে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজও একই সুরে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত এনসিপি এককভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে। আমরা পুরো প্রস্তুতি নিচ্ছি, সামনেও এই প্রস্তুতি আমাদের থাকবে। তবে রাজনীতিতে দিন বদলালে অনেককিছুই হতে পারে।’
১১ দলীয় জোটের কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে জোটে কোন আলোচনাই হয়নি। যখন তফসিল হবে তখন হয়তো জোটের সাথে আলোচনা হতে পারে। জোটের কথা অনুযায়ী তো সব কাজ চলতে পারে না, তাহলে তো দলের স্বকীয়তা থাকে না। আমরা আমাদের দলীয় স্বাতন্ত্র্যতা রাখতেই নিজেদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে জামায়াত বা অন্য কোন দলের সাথে এখন পর্যন্ত আলোচনা হচ্ছে কী না জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।’
জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি
এদিকে প্রায় এক বছর আগে থেকেই সিটি নির্বাচনের কাজ শুরু করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে কাউন্সিলর পদে ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও আলোচনায় রয়েছেন হাফডজন নেতা। সূত্রের দাবি, আলোচিত এই নেতারাই মেয়র পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। তবে এরা ছাড়াও নির্বাচন না করা অথবা নির্বাচন করেও জয়ী হতে না পারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও কারো কারো সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্ট্রিমকে জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাকে কোন পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যতটুকু হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে গত রোববার (২৯ মার্চ) জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এনসিপি বলছে, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত কিংবা ১১ দলের সঙ্গে ঐক্য হলেও স্থানীয় নির্বাচনে তারা এককভাবেই লড়বে।
এই জোটের ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার স্ট্রিমকে বলেন, ‘১১ দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সব নির্বাচন হবে স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে। এখনও আমরা এই নীতিতেই আছি। এনসিপি ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমরাও খুব দ্রুতই ঘোষণা করব। কিন্তু সরকারকে দেখে তো মনে হচ্ছে না দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার তাদের ইচ্ছা আছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি আমরা নিয়ে রাখছি। এ জন্যই আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন চেয়েছিলাম।’
বিশ্লেষকদের অভিমত
এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কে এম মহিউদ্দীন মঙ্গলবার ঢাকা স্ট্রিমকে এক ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তার মতে, বাইরে থেকে স্বতন্ত্র অবস্থানের কথা বলা হলেও এই দুই দলের জোট সহজে ভাঙবে না।
ড. মহিউদ্দীন বলেন, ‘পাবলিক পারসেপশন হলো এনসিপি জামায়াতেরই একটি ‘প্রোডাক্ট’। যদিও তারা এটি অস্বীকার করে, কিন্তু তাদের রাজনৈতিক ওরিয়েন্টেশন বা ব্যাকগ্রাউন্ড জামায়াতের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। বর্তমানে এনসিপির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জামায়াত ছাড়া আর কোনো শক্তিশালী মিত্র নেই।’
এনসিপির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘বিএনপির এখন আর এনসিপিকে প্রয়োজন নেই, আর তারা এনসিপিকে কতটা বিশ্বাস করে তা নিয়েও সন্দেহ আছে। ফলে এনসিপির একমাত্র বন্ধু এখন জামায়াত, আর জামায়াতেরও সংসদীয় ও রাজনৈতিক কৌশলের জন্য এনসিপিকে দরকার।’
সিটি নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেওয়াকে ড. মহিউদ্দীন একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদের জন্য তারা পদ বণ্টনের সমঝোতা করতে পারে, সেটা হয়েছেও। স্থানীয় নির্বাচনে এখন আলাদা প্রার্থী দিলেও নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে হয়তো তারা সমঝোতা করে কোনো এক পক্ষ প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে। আদর্শগতভাবে তারা যা বলে, বাস্তবে তার প্রতিফলন সবসময় ঘটে না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দীন আহমদ মনে করছেন, এনসিপি এবং জামায়াত এখন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে টিকে আছে। রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের স্বকীয়তা জাহির করার জন্য তারা আলাদা প্রার্থী দিলেও, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে এবং বিশেষ করে বিএনপির মতো বড় শক্তির মোকাবিলায় তারা শেষ পর্যন্ত একই সুতোয় বাধা থাকবে।
বর্তমান জাতীয় সংসদে ১১-দলীয় ঐক্যের ৭৭টি আসনের মধ্যে জামায়াতের ৬৮ জন এবং এনসিপির ৬ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদটি এনসিপিকে দিয়ে জামায়াত তাদের সঙ্গে রাখার একটি চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই দুই দলের আলাদা পথ চলা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কেউ কেউ বলছেন, এনসিপির একক প্রার্থী ঘোষণা সম্ভবত তাদের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিজেদের একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং আদর্শিক মিল তাদের পুনরায় একই বিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে পথের পাশে রেখে যাওয়া স্টিলের ট্রাংকের ভেতর থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে শ্রীবরদী পৌর শহরের তাতীহাটি নয়াপাড়া এলাকার ঢালিবাড়ি মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ওই ট্রাংকটি রেখে যাওয়া হয়।
১৫ মিনিট আগে
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল) বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১ ঘণ্টা আগে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সঞ্জয় চিসিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
১ ঘণ্টা আগে
জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী জানিয়েছেন, পুরোনো এবং বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে সামনে এনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে