ইউরোপে যেতে মরক্কো থেকে সেউতায় অভিবাসীদের ঢল, নিহত ৯

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১: ৩৬
মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করছেন অভিবাসীরা। ছবি: এপি

মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতায় সীমান্ত ভেঙে প্রবেশের সময় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাজারো অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সেউতা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১০ দিনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষ সেখানে প্রবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবারও আরও কয়েক শ অভিবাসী সেউতায় পৌঁছেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট জেসুস ভিভাস ‘পূর্ণাঙ্গ মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন। সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মাদ্রিদের কাছে সেনা পাঠানোর আহ্বানও জানান তিনি।

তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, অভিবাসন সংকটে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদ ও সহায়তায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্তে প্রবেশের সময় কয়েকজন অভিবাসী ‘ভিভা এস্পানিয়া’ (স্পেনের জয় হোক) বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁদের অনেকেই মরক্কো থেকে ছোট নৌকায় করে জলপথে সেউতায় পৌঁছান।

অভিবাসী অধিকারকর্মী জাকারিয়া জাররোকি রয়টার্সকে বলেন, অভিবাসীদের এই ঢল ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার মতো। সে সময় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মরক্কান ও সাব-সাহারান তরুণ সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন।

জাররোকি বলেন, এই মুহূর্তেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টায় মানুষ এখনো মরক্কোর ফনিদেক শহরে ভিড় করছেন।

সেউতা ও মেলিয়া— উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে যাওয়ার আশায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্ত পার হওয়ার এমন চেষ্টা শহর দুটিতে প্রায়ই দেখা যায়।

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর উদ্দেশে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

গার্দিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে মানুষ আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গেছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসীদের ঢল মোকাবিলায় তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তবে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কাজে লাগিয়ে অনথিভুক্ত অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে।

পরিস্থিতি মূল্যায়নে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সেউতা সফরের কথা রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত