আসামে বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৮, ভারি বৃষ্টিতে নতুন ভয়

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বসতঘর। কলাগাছের ভেলায় সামান্য শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন এক বন্যার্ত। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো তিন লাখের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত বলে জানিয়েছে রাজ্যটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। এর মধ্যেই শনিবার (১ আগস্ট) পর্যন্ত রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত রাজ্যের তিন লাখ ৩১ জন মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাইদেও জেলা। শুধু এই জেলায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৫৬১ বাসিন্দা বন্যার কবলে পড়েছে। এ ছাড়া শিবসাগরে ৮৪ হাজার ৬০০ এবং জোরহাটে ৪৯ হাজার ৯১১ বাসিন্দা পানিবন্দি অবস্থায় আছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় শিবসাগরে দুইজন ও গোলাঘাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের বন্যায় রাজ্যটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮ জনে পৌঁছেছে।

কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ৩০টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে ৭২ হাজারের বেশি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এএসডিএমএ সতর্ক করে জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি জেলায় আগামী কয়েক দিন ৬ থেকে ১১ সেন্টিমিটার এবং আসাম সীমান্তসংলগ্ন পাপুমপারে জেলায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব অবকাঠামো আরও শক্তিশালী ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে রাজ্যটিতে ২১ হাজার ৫২৩ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে ১১ হাজারের বেশি গবাদিপশু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ১৭ হাজার প্রাণী। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত