জন্মদিন
বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত অভিনেত্রী ববিতার জন্মদিন আজ।
স্ট্রিম ডেস্ক

ববিতাকে অভিনেত্রী ‘ববিতা’ হিসেবে দেখে প্রথম কবে মুগ্ধ হয়েছি ঠিক মনে নেই। ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানে তাঁকে দেখে মনে হয়েছিল, একরঙা কালো জর্জেট শাড়িতেও কাউকে এত অভিজাত লাগতে পারে? আবার ‘চুপি চুপি বল কেউ জেনে যাবে’ ববিতার রাজকীয় সাজ দেখে চোখ আটকে গেছে বারবার। সেই গানে তাঁর পরা সাবেকি গয়নাগুলোও যেন ঝলমল করছিল। এগুলো দেখলে কে বলবে, ‘চকচক করলেই সোনা হয় না’?
সত্তর-আশির দশকের বাংলাদেশের সিনেমায় ববিতা হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাশন আর আভিজাত্যের অন্য নাম। লাখ তরুণের স্বপ্নের নায়িকা, অসংখ্য তরুণীর স্টাইল আইকন তিনি। কখনো গ্রামের চঞ্চল কিশোরী, কখনো শহুরে, কখনো সাহিত্য থেকে উঠে আসা চরিত্র, আবার কখনো মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা—প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে এমনভাবে ভেঙে গড়েছেন যে দর্শক অভিনেত্রীর বদলে চরিত্রকেই দেখছেন। আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। চলচ্চিত্রপাড়ার লোকেরা ভালোবেসে দিয়েছিলেন ‘পুরস্কার কন্যা’ খেতাব। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রেখেছেন পদচারণা।

জহির রায়হানের ‘সংসার’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেও নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘শেষ পর্যন্ত’ ছবিতে। প্রথম ছবিতে যে রাজ্জাকের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, সেই রাজ্জাকের বিপরীতেই নায়িকা হয়ে দর্শকের সামনে আসেন। কখনো ‘মিস লংকা’, কখনো ‘আলো’ আবার কখনো ‘গোলাপী’ হয়ে চুরি করেছেন সবার মন। সাধারণ দর্শক থেকে সমালোচক মহল, সবক্ষেত্রেই কুড়িয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যখন নতুন পরিচয় খুঁজছে, তখন ববিতা হয়ে ওঠেন সেই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ। তাঁর অভিনীত আবার তোরা মানুষ হ, আলোর মিছিল, লাঠিয়াল, বাঁদী থেকে বেগম, সূর্যগ্রহণ, নয়নমণি, অনন্ত প্রেম, বসুন্ধরা, ডুমুরের ফুল, গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই, এখনই সময়—প্রতিটি ছবিতেই ববিতা হাজির হতেন ভিন্ন ভিন্ন রূপে।
সত্তর দশকের ববিতার ফ্যাশনে ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। তাঁতের শাড়ি, চেক শাড়ি, সুতি কাপড়, সিল্ক কিংবা বেনারসি—সব ধরনের শাড়িতেই ছিলেন মানানসই। মাঝখানে সিঁথি, নিচু খোঁপা, ছোট্ট গোল টিপ, কানে ছোট দুল আর হাতে কাচের চুড়ি এই ছিল তাঁর সবচেয়ে পরিচিত লুক। সাজে কোনো কৃত্রিমতা না থাকলেও তাতে তাঁর সৌন্দর্যে ভাটা পড়েনি একবিন্দুও। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে সাধারণ গ্রামের মেয়ের পোশাকে যেমন তিনি বিশ্বাসযোগ্য, তেমনি ‘পিচ ঢালা পথ’-এর আধুনিক মেয়েটির পোশাকেও সমান সাবলীল। আবার ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’তে যুদ্ধবিধ্বস্ত নারীর ক্লান্ত মুখ, এলোমেলো চুল আর সাদামাটা শাড়ি কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট না হলেও তা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় ভিজ্যুয়াল। এখানেই ববিতার সাফল্য।
‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘এই পৃথিবীর পরে’, ‘চুপি চুপি বলো কেউ’, ‘আমি আছি থাকব’, ‘তুমি আমার জীবন’—এই গানগুলোতে একজন মানুষই ‘কমন’, আর তিনি ববিতা। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গানের ইতিহাসে তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে উল্লেখ করার মতো।
এই গানগুলোর বিভিন্ন দৃশ্য দেখলে বোঝা যায়, তিনি প্রতিটি গানের আবহ অনুযায়ী নিজের সাজ বদলে নিতেন। কোথাও শাড়িতে নিখাদ বাঙালি, কোথাও আবার পাশ্চাত্য পোশাকে শহুরে তরুণী। প্রতিটি পোশাকেই ববিতা সমানভাবে আত্মবিশ্বাসী, সাবলীল। এ কারণে চরিত্রগুলোতে ববিতাকে কখনো ‘কৃত্রিম’ মনে হয়নি।

‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানে হেডব্যান্ড, একরঙা পাতলা ধরনের শাড়ি, খোলা চুল, লম্বা নেকলেস আর স্লিভলেস ব্লাউজে তিনি সেই সময়ের আধুনিক মেয়েদের প্রতীক হিসেবে ধরা দেন। আবার ‘আলোর মিছিল’ সিনেমার ‘এই পৃথিবীর পরে’ গানটিতে আধখোলা চুল, অল্প চুড়ি আর কানে ছোট মুক্তোর টপে তাঁকে দেখলে পাশের বাড়ির মেয়েটির মতোই মনে হয়।
ববিতার মেকআপ ছিল পরিমিত। গাঢ় কাজলে আঁকা বড় চোখ, সুন্দরভাবে গড়া ভ্রূ আর উজ্জ্বল ঠোঁট—এই ছিল তাঁর চেনা সৌন্দর্য। অথচ কখনোই একঘেয়ে লাগত না। ভারী প্রসাধনের বদলে তিনি গুরুত্ব দিতেন অভিব্যক্তিকে। ফলে ক্যামেরা যতই ক্লোজআপে যাক না কেন, দর্শকের চোখ আটকে থাকত তাঁর দৃষ্টিতে।
চুলের সাজেও ছিল বৈচিত্র্য। কখনো মাঝখানে সিঁথি করে খোঁপা, কখনো কাঁধ ছোঁয়া খোলা চুল, কখনো আবার ছোট বব কাট। সেই সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এত ঘন ঘন হেয়ারস্টাইল বদলানো খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু ববিতা প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের চুলের ধরন বদলেছেন। এসব এক্সপেরিমেন্ট তাঁকে ফ্যাশনের দিক থেকেও এগিয়ে রেখেছে।
সত্তরের দশকে যেখানে ববিতা ছিলেন সহজ-সরল বাঙালি নারীর প্রতীক, আশির দশকে এসে তাঁর পর্দার উপস্থিতি হয়ে ওঠে আরও রঙিন, আরও আভিজাত্যপূর্ণ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তখন রঙিন যুগে প্রবেশ করেছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যায় ববিতার পর্দার ভাষাও।

দূরদেশ, মিস লংকা, প্রেমিক, অবুঝ হৃদয়, নাগপূর্ণিমা কিংবা অর্পণ সিনেমায় তাঁকে দেখা যায় আধুনিক কাটের পোশাক, স্টাইলিশ ব্লাউজ, লেয়ার করা চুল, বড় সানগ্লাস, ওয়েস্টার্ন টপ, ট্রাউজার কিংবা গাউনের মতো পোশাকে।
‘মিস লংকা’ ছবির গানে ববিতার পোশাক, স্টেটমেন্ট জুয়েলারি আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি সেই সময়ের দর্শকদের কাছে ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। আবার ‘অবুঝ হৃদয়’ ছবিতে জাফর ইকবালের বিপরীতে তাঁর সাজে ছিল কোমল রোমান্টিক আবেদন। জনপ্রিয় গান ‘তুমি আমার জীবন’-এ কখনো তাঁকে দেখা গেছে পশ্চিমা পোশাকে, কখনো ঝলমলে জর্জেট ধরনের শাড়িতে। চুলের স্টাইলও ছিল দারুণ আইকনিক। কখনো মাথায় পরছেন রঙিন হ্যাট, কখনো চুল সামনের দিকে ফুলিয়ে তাতে ক্লিপ গুঁজে আলাদা ধরনের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন।
অন্যদিকে দহন, জন্ম থেকে জ্বলছি, রামের সুমতি কিংবা বিরাজ বউ-এর মতো সাহিত্যনির্ভর ও ভিন্নধারার ছবিতে ববিতা আবার ফিরে গেছেন সংযত, চরিত্রনির্ভর পোশাকে। অর্থাৎ আশির দশকের ববিতা কেবল গ্ল্যামারের প্রতীক নন, তিনি জানতেন কখন চরিত্রের জন্য নিজেকে আড়ালে রাখতে হয়।
ববিতা কখনো ট্রেন্ড অনুসরণ করেননি, বরং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেন্ডকে নিজের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। তাঁর স্টাইলের মূল শক্তি ছিল বিশ্বাসযোগ্যতা। আজকের দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রেট্রো’, ‘ভিনটেজ’ বা ‘ক্লাসিক’ ফ্যাশনের যে পুনর্জাগরণ দেখা যাচ্ছে, ববিতার বহু লুক তাঁর সঙ্গে মিলে যায়। মাঝখানে সিঁথি, চেকের শাড়ি, ডিজাইনের ব্লাউজ, বড় কাজল আঁকা চোখ কিংবা ছোট বব কাট—এসবই আবার নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে এসেছে নতুন নামে। পর্দায় ববিতার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের বুঝিয়েছে আভিজাত্য মানেই ভারী অলংকার কিংবা চড়া মেকআপ নয়। বরং তা হলো আত্মবিশ্বাস আর সৌন্দর্যবোধের মেলবন্ধন, যা চরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

ববিতাকে অভিনেত্রী ‘ববিতা’ হিসেবে দেখে প্রথম কবে মুগ্ধ হয়েছি ঠিক মনে নেই। ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানে তাঁকে দেখে মনে হয়েছিল, একরঙা কালো জর্জেট শাড়িতেও কাউকে এত অভিজাত লাগতে পারে? আবার ‘চুপি চুপি বল কেউ জেনে যাবে’ ববিতার রাজকীয় সাজ দেখে চোখ আটকে গেছে বারবার। সেই গানে তাঁর পরা সাবেকি গয়নাগুলোও যেন ঝলমল করছিল। এগুলো দেখলে কে বলবে, ‘চকচক করলেই সোনা হয় না’?
সত্তর-আশির দশকের বাংলাদেশের সিনেমায় ববিতা হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাশন আর আভিজাত্যের অন্য নাম। লাখ তরুণের স্বপ্নের নায়িকা, অসংখ্য তরুণীর স্টাইল আইকন তিনি। কখনো গ্রামের চঞ্চল কিশোরী, কখনো শহুরে, কখনো সাহিত্য থেকে উঠে আসা চরিত্র, আবার কখনো মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা—প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে এমনভাবে ভেঙে গড়েছেন যে দর্শক অভিনেত্রীর বদলে চরিত্রকেই দেখছেন। আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। চলচ্চিত্রপাড়ার লোকেরা ভালোবেসে দিয়েছিলেন ‘পুরস্কার কন্যা’ খেতাব। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রেখেছেন পদচারণা।

জহির রায়হানের ‘সংসার’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেও নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘শেষ পর্যন্ত’ ছবিতে। প্রথম ছবিতে যে রাজ্জাকের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, সেই রাজ্জাকের বিপরীতেই নায়িকা হয়ে দর্শকের সামনে আসেন। কখনো ‘মিস লংকা’, কখনো ‘আলো’ আবার কখনো ‘গোলাপী’ হয়ে চুরি করেছেন সবার মন। সাধারণ দর্শক থেকে সমালোচক মহল, সবক্ষেত্রেই কুড়িয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যখন নতুন পরিচয় খুঁজছে, তখন ববিতা হয়ে ওঠেন সেই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ। তাঁর অভিনীত আবার তোরা মানুষ হ, আলোর মিছিল, লাঠিয়াল, বাঁদী থেকে বেগম, সূর্যগ্রহণ, নয়নমণি, অনন্ত প্রেম, বসুন্ধরা, ডুমুরের ফুল, গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই, এখনই সময়—প্রতিটি ছবিতেই ববিতা হাজির হতেন ভিন্ন ভিন্ন রূপে।
সত্তর দশকের ববিতার ফ্যাশনে ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। তাঁতের শাড়ি, চেক শাড়ি, সুতি কাপড়, সিল্ক কিংবা বেনারসি—সব ধরনের শাড়িতেই ছিলেন মানানসই। মাঝখানে সিঁথি, নিচু খোঁপা, ছোট্ট গোল টিপ, কানে ছোট দুল আর হাতে কাচের চুড়ি এই ছিল তাঁর সবচেয়ে পরিচিত লুক। সাজে কোনো কৃত্রিমতা না থাকলেও তাতে তাঁর সৌন্দর্যে ভাটা পড়েনি একবিন্দুও। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে সাধারণ গ্রামের মেয়ের পোশাকে যেমন তিনি বিশ্বাসযোগ্য, তেমনি ‘পিচ ঢালা পথ’-এর আধুনিক মেয়েটির পোশাকেও সমান সাবলীল। আবার ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’তে যুদ্ধবিধ্বস্ত নারীর ক্লান্ত মুখ, এলোমেলো চুল আর সাদামাটা শাড়ি কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট না হলেও তা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় ভিজ্যুয়াল। এখানেই ববিতার সাফল্য।
‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘এই পৃথিবীর পরে’, ‘চুপি চুপি বলো কেউ’, ‘আমি আছি থাকব’, ‘তুমি আমার জীবন’—এই গানগুলোতে একজন মানুষই ‘কমন’, আর তিনি ববিতা। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গানের ইতিহাসে তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে উল্লেখ করার মতো।
এই গানগুলোর বিভিন্ন দৃশ্য দেখলে বোঝা যায়, তিনি প্রতিটি গানের আবহ অনুযায়ী নিজের সাজ বদলে নিতেন। কোথাও শাড়িতে নিখাদ বাঙালি, কোথাও আবার পাশ্চাত্য পোশাকে শহুরে তরুণী। প্রতিটি পোশাকেই ববিতা সমানভাবে আত্মবিশ্বাসী, সাবলীল। এ কারণে চরিত্রগুলোতে ববিতাকে কখনো ‘কৃত্রিম’ মনে হয়নি।

‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানে হেডব্যান্ড, একরঙা পাতলা ধরনের শাড়ি, খোলা চুল, লম্বা নেকলেস আর স্লিভলেস ব্লাউজে তিনি সেই সময়ের আধুনিক মেয়েদের প্রতীক হিসেবে ধরা দেন। আবার ‘আলোর মিছিল’ সিনেমার ‘এই পৃথিবীর পরে’ গানটিতে আধখোলা চুল, অল্প চুড়ি আর কানে ছোট মুক্তোর টপে তাঁকে দেখলে পাশের বাড়ির মেয়েটির মতোই মনে হয়।
ববিতার মেকআপ ছিল পরিমিত। গাঢ় কাজলে আঁকা বড় চোখ, সুন্দরভাবে গড়া ভ্রূ আর উজ্জ্বল ঠোঁট—এই ছিল তাঁর চেনা সৌন্দর্য। অথচ কখনোই একঘেয়ে লাগত না। ভারী প্রসাধনের বদলে তিনি গুরুত্ব দিতেন অভিব্যক্তিকে। ফলে ক্যামেরা যতই ক্লোজআপে যাক না কেন, দর্শকের চোখ আটকে থাকত তাঁর দৃষ্টিতে।
চুলের সাজেও ছিল বৈচিত্র্য। কখনো মাঝখানে সিঁথি করে খোঁপা, কখনো কাঁধ ছোঁয়া খোলা চুল, কখনো আবার ছোট বব কাট। সেই সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এত ঘন ঘন হেয়ারস্টাইল বদলানো খুব একটা দেখা যেত না। কিন্তু ববিতা প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের চুলের ধরন বদলেছেন। এসব এক্সপেরিমেন্ট তাঁকে ফ্যাশনের দিক থেকেও এগিয়ে রেখেছে।
সত্তরের দশকে যেখানে ববিতা ছিলেন সহজ-সরল বাঙালি নারীর প্রতীক, আশির দশকে এসে তাঁর পর্দার উপস্থিতি হয়ে ওঠে আরও রঙিন, আরও আভিজাত্যপূর্ণ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তখন রঙিন যুগে প্রবেশ করেছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যায় ববিতার পর্দার ভাষাও।

দূরদেশ, মিস লংকা, প্রেমিক, অবুঝ হৃদয়, নাগপূর্ণিমা কিংবা অর্পণ সিনেমায় তাঁকে দেখা যায় আধুনিক কাটের পোশাক, স্টাইলিশ ব্লাউজ, লেয়ার করা চুল, বড় সানগ্লাস, ওয়েস্টার্ন টপ, ট্রাউজার কিংবা গাউনের মতো পোশাকে।
‘মিস লংকা’ ছবির গানে ববিতার পোশাক, স্টেটমেন্ট জুয়েলারি আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি সেই সময়ের দর্শকদের কাছে ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। আবার ‘অবুঝ হৃদয়’ ছবিতে জাফর ইকবালের বিপরীতে তাঁর সাজে ছিল কোমল রোমান্টিক আবেদন। জনপ্রিয় গান ‘তুমি আমার জীবন’-এ কখনো তাঁকে দেখা গেছে পশ্চিমা পোশাকে, কখনো ঝলমলে জর্জেট ধরনের শাড়িতে। চুলের স্টাইলও ছিল দারুণ আইকনিক। কখনো মাথায় পরছেন রঙিন হ্যাট, কখনো চুল সামনের দিকে ফুলিয়ে তাতে ক্লিপ গুঁজে আলাদা ধরনের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন।
অন্যদিকে দহন, জন্ম থেকে জ্বলছি, রামের সুমতি কিংবা বিরাজ বউ-এর মতো সাহিত্যনির্ভর ও ভিন্নধারার ছবিতে ববিতা আবার ফিরে গেছেন সংযত, চরিত্রনির্ভর পোশাকে। অর্থাৎ আশির দশকের ববিতা কেবল গ্ল্যামারের প্রতীক নন, তিনি জানতেন কখন চরিত্রের জন্য নিজেকে আড়ালে রাখতে হয়।
ববিতা কখনো ট্রেন্ড অনুসরণ করেননি, বরং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেন্ডকে নিজের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। তাঁর স্টাইলের মূল শক্তি ছিল বিশ্বাসযোগ্যতা। আজকের দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রেট্রো’, ‘ভিনটেজ’ বা ‘ক্লাসিক’ ফ্যাশনের যে পুনর্জাগরণ দেখা যাচ্ছে, ববিতার বহু লুক তাঁর সঙ্গে মিলে যায়। মাঝখানে সিঁথি, চেকের শাড়ি, ডিজাইনের ব্লাউজ, বড় কাজল আঁকা চোখ কিংবা ছোট বব কাট—এসবই আবার নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে এসেছে নতুন নামে। পর্দায় ববিতার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের বুঝিয়েছে আভিজাত্য মানেই ভারী অলংকার কিংবা চড়া মেকআপ নয়। বরং তা হলো আত্মবিশ্বাস আর সৌন্দর্যবোধের মেলবন্ধন, যা চরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তোলে।
.png)

ভারতীয় সাহিত্যে গত কয়েক দশকে শক্তিশালী যেসব সাহিত্যধারার উত্থান ঘটেছে, তার মধ্যে একটি দলিত সাহিত্য। দলিত সাহিত্য বলতে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন-সংগ্রাম, বঞ্চনা, বৈষম্য এবং আত্মমর্যাদার লড়াইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে। এই সাহিত্য মূলত দলিতদের নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা
১১ ঘণ্টা আগে
১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় মঈদুল হাসানের বই ‘মূলধারা ৭১’। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এর দ্বিতীয় সংস্করণের সপ্তম মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বইটির গুরুত্ব কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে এটি আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
২৯ জুলাই ২০২৬
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে—‘গোপাল ভাঁড়’ কার্টুনটি নাকি শেষ হয়ে গেছে। ‘গোপাল মারা গেছে’, ‘শৈশব শেষ হয়ে গেল’—এমন সব কথা লিখে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন ভক্তরা। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক—সব জায়গায় একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে দেখা যায়, গোপাল মৃত্যুশয্যায় শুয়ে আছে।
২৯ জুলাই ২০২৬
শুধু শরীর নয়, মনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা হতাশা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২৯ জুলাই ২০২৬