চার বছর শান্তির পর সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯: ২৮
সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত

চার বছরের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৩ জুলাই) সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে পাল্টা এই হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। এতে নতুন করে সৌদি আরব-হুতি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে।

অন্যদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এই পার্বত্য অঞ্চলটি সৌদি নাগরিকদের জনপ্রিয় অবকাশকেন্দ্র।

২০২২ সালের মার্চে হুতিদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর এই প্রথম সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করল হুতি বিদ্রোহীরা।

সোমবারের এই হামলার ফলে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত এপ্রিলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে গেলে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমে এসেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজে হামলা চালানো হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হলে সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানিও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে, পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানির সক্ষমতা ধরে রেখেছে দেশটি।

সানা বিমানবন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সোমবার হুতিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা এই হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে জানায়, এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সময়ের সমাপ্তি ঘটেছে। একই সঙ্গে, সানা বিমানবন্দরের ওপর ‘অবরোধ’ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবের আকাশসীমায় বিমান চলাচলের বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা দেয় হুথি বিদ্রোহীরা।

তবে সানার বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার। তারা জানায়, একটি ইরানি বিমানের সানায় অবতরণ ঠেকাতেই বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী যেকোনো বৈরী উড়োজাহাজের বিরুদ্ধে ‘সব ধরনের উপায়ে’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে তারা।

পরে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ইরানি বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

ইয়েমেন সরকারের আরেক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট কমিটির (আইসিআরসি) একটি বিমান আটকে রেখেছে হুতিরা।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে আইসিআরসির মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান রয়টার্সকে বলেন, তাদের সব কর্মী ও বিমানের ক্রুরা নিরাপদে আছেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সম্প্রতি আইসিআরসির মধ্যস্থতায় হুতি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের একটি চুক্তিও ভেস্তে গেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রক্সি সংঘাতের মধ্যে রয়েছে ইয়েমেন। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর হুতিরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করে। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়, যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত