‘নারীবিদ্বেষী’ ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট আবার কেন গ্রেপ্তার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট। ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান টেট শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। যুক্তরাজ্য তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ধর্ষণ, মানবপাচার এবং হামলার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণ (হস্তান্তর) চাচ্ছে। খবর এএফপির।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের উদ্দেশে মানবপাচারসহ মোট ৫৯টি অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে শুরু থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তারা।

কে এই টেট

৩৯ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু টেট একজন ব্রিটিশ-আমেরিকান সাবেক কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়ন। খেলাধুলা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেলফ হেল্প’ ও পুরুষত্বকেন্দ্রিক বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পান।

একসময় তিনি যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদারে’ অংশ নিলেও বিতর্কিত একটি ভিডিও প্রকাশের পর সেখান থেকে বাদ পড়েন। পরে ইউটিউব, টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার নারীবিদ্বেষী বক্তব্য ও বিতর্কিত মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একারণে একাধিক প্ল্যাটফর্ম তার অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে।

অ্যান্ড্রু টেট সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিতর্কিত মতামত প্রচার করেন। এসব মতাদর্শে প্রায়ই ‘আলফা মেল’ ধারণা ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্য উঠে আসে। এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তাঁর কোটি কোটি ফলোয়ার রয়েছে। শুধু এক্সেই তাঁর ফলোয়ার ১ কোটি ৮০ লাখ।

অ্যান্ড্রু টেট নিজেকে তরুণ পুরুষদের সফলতার পরামর্শদাতা হিসেবে তুলে ধরেন। তবে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশেই থাকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর, পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য এবং পশ্চিমা সমাজের সমালোচনা। এসব বক্তব্যের কারণে তিনি যেমন বিপুলসংখ্যক অনুসারী পেয়েছেন, তেমনি মানবাধিকারকর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

অ্যান্ড্রু টেট তথাকথিত ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ নেটওয়ার্কের অন্যতম পরিচিত মুখ। অনলাইনভিত্তিক এসব গোষ্ঠী মূলত প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক ধারণা, নারীবাদবিরোধী মতাদর্শ এবং আত্মউন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

অ্যান্ড্রু টেট সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিতর্কিত মতামত প্রচার করেন। এসব মতাদর্শে প্রায়ই ‘আলফা মেল’ ধারণা ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্য উঠে আসে। এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তাঁর কোটি কোটি ফলোয়ার রয়েছে। শুধু এক্সেই তাঁর ফলোয়ার ১ কোটি ৮০ লাখ।

কেন এত বিতর্ক

অ্যান্ড্রু টেট নিজেকে তরুণ পুরুষদের জন্য সফলতার পরামর্শদাতা হিসেবে তুলে ধরলেও তার বক্তব্যের বড় অংশই নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য এবং পশ্চিমা সমাজের সমালোচনাকে ঘিরে। এসব বক্তব্যের কারণে তিনি যেমন বিপুলসংখ্যক অনুসারী পেয়েছেন, তেমনি মানবাধিকারকর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলোর কঠোর সমালোচনার মুখেও পড়েন।

আইনি জটিলতার শুরু

২০২২ সালের ডিসেম্বরে রোমানিয়ায় অ্যান্ড্রু টেট, তার ভাই ট্রিস্টান টেট এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মানবপাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগ আনা হয়। পরে রোমানিয়ায় মামলাটি বিভিন্ন আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় দীর্ঘায়িত হয়।

এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সাতজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের উদ্দেশে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে দুই ভাই জড়িত ছিলেন।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে যুক্তরাজ্যের প্রত্যর্পণের অনুরোধে অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে। এরপর আদালত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

দুই ভাইয়ের আইনজীবীর দাবি, তাদের মক্কেলরা নির্দোষ এবং আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করবেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত