হোয়াইট হাউসে নিষেধাজ্ঞা

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন-এমএস নাও-পলিটিকোর মামলা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির তিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো। হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তারা এ মামলা করে।

সংবাদমাধ্যম তিনটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘আজ সকালে আমরা সরকারকে জানিয়েছি যে, আমাদের প্রথম সংশোধনীতে (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) থাকা অধিকার রক্ষায় এবং সরকার সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে বা প্রকাশ করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না—এই নীতি রক্ষায় আমরা আজ মামলা করছি।’

তারা জানিয়েছে, প্রতিবেদনে আপত্তি থাকার কারণে কোনো নোটিশ বা প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের সাংবাদিকদের অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটি চ্যালেঞ্জ করা না হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয়ে জনগণের অধিকার হুমকির মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এটি বাক্‌স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ নয়। কারণ, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পকে নিয়ে প্রতিবেদন করতে, সরকারি তথ্য সংগ্রহ করতে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে।

ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন, তা হলো, আমরা আপনাদের হোয়াইট হাউসের ভেতরে বিশেষ প্রবেশাধিকার দেব না।’ তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ‘প্রোপাগান্ডার’ বিরুদ্ধে।

ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনকে নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিবেদনই নেতিবাচক। এটি মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এটি জনমতেরও প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই আপনি যদি কার্যত উগ্র বামপন্থী প্রোপাগান্ডায় যুক্ত হন, তাহলে একজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের হোয়াইট হাউস আপনাকে কেন বিশেষ প্রবেশাধিকার দেবে?’

মামলার বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি তিনটি সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া খবরের লোকজন’ বলে সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ওভাল অফিসে শালীনতা, সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা উচিত। তৃতীয় সারির ভাঁড়দের দিয়ে এর মর্যাদা নষ্ট করা উচিত নয়।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার অর্জন যতই মহান হোক না কেন, তারা সেগুলোকে তুচ্ছ ও খাটো করে দেখায়।’

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর শাস্তি হিসেবে সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

তবে তখন নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি তিনি। সোমবার ট্রাম্প বলেন, এটি মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো আক্রমণ নয়। বরং ‘ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে আক্রমণ’, যা তাঁর ভাষায়, ‘প্রিয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারের মতো বেড়ে উঠেছে।’ ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘এটি দুর্নীতিগ্রস্ত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সর্বব্যাপী, পুরোপুরি সমন্বিত এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই এখনই এটি বন্ধ করতে হবে।’

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান

হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউএইচসিএ) ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ডব্লিউএইচসিএর প্রেসিডেন্ট জ্যাকি হাইনরিখ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়ার যে মানদণ্ড তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে যেকোনো সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতে পারে।’

জ্যাকি হাইনরিখ বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা তা পছন্দ করুন বা না করুন, মার্কিন জনগণকে স্বাধীন ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ক্ষমতায় নির্বাচিত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড যাচাই করার সুযোগ অবশ্যই থাকতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশাধিকার না দিয়ে প্রশাসনের প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল বলে বিবেচিত নতুন সংবাদমাধ্যমগুলোকে বেশি সুযোগ দিয়ে আসছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএসসহ বেশ কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প একাধিক মামলা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা যখন লড়াই করছে, তখন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। নির্বাচনের আগে পরিচালিত জনমত জরিপগুলোতে রিপাবলিকানদের প্রতি জনসমর্থন কমছে এবং ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা ট্রাম্পের টেলিভিশন ‘পুল’ কভারেজ স্থগিত করেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত