কলকাতায় ৩ লাখ বোতল ফেনসিডিল গুঁড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
স্ট্রিম ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জব্দ করা ৩ লাখ ১০ হাজার বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নেশামুক্ত ভারত-২০২৯’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কলকাতার নিউটাউনের ইকোপার্ক চত্বরে রোড রোলার চালিয়ে এসব ফেনসিডিল ধ্বংস করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভাষ্যমতে, মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নিষিদ্ধ কফসিরাপ ফেনসিডিলের আনুমানিক মূল্য ৩১ কোটি রুপি।
রাজ্য পুলিশ, বিএসএফ, পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্সসহ (এসটিএফ) বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে এসব ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছিল। ‘নেশামুক্ত ভারত-২০২৯’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এ ধ্বংস কার্যক্রমের আয়োজন করে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে প্রায় ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল ধ্বংসের কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
চলমান কার্যক্রম প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘এটি দ্বিতীয় বড় অভিযান। কেন্দ্রের নেশামুক্ত ভারত অভিযান বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নেশার সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই নারীদের উপর অত্যাচার করে। নেশার জন্য অনেক পরিবার নষ্ট হচ্ছে। নেশা মুক্তির জন্য সরকার ক্ষমতায় আসতেই গুরুত্ব দিয়েছি। বিএসএফ, পুলিশ, সকলে মিলেই এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। বালুরঘাটেও এই অভিযান হয়েছে। এখানেও হলো। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ গেল।’
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিরেক্টর জেনারেল জাভেদ শামিম বলেছেন,‘পশ্চিমবঙ্গে ইয়াবাতে বড় সাফল্য এসেছে। প্রতিদিন কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ মিলিত ভাবে এই নেশামুক্তি অভিযান চালাচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ফেনসিডিল ভারতে নিষিদ্ধ। ২০১৬ সালের মার্চে ভারত সরকার কোডিনযুক্ত ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন কফ সিরাপের তালিকায় ফেনসিডিল ও কোরেক্সের মতো ওষুধগুলোর উৎপাদন, বিক্রি ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ার কয়েক দশক আগেই বাংলাদেশে এই সিরাপ মাদক হিসেবে প্রচলিত হয়ে যায়। ভারতে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাংলাদেশে পাচার করার পর এর দাম কয়েক গুণ এমনকি ১০ গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। এই লোভে চোরাকারবারিরা ঝুঁকি নিয়ে এটি তৈরি ও সরবরাহ করে। সীমান্তের ওপার থেকে দেশে ফেনসিডিল প্রবেশ বন্ধে পশ্চিমবঙ্গের কাছে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
.png)






