
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনে অংশ নিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পুতিনের সরাসরি অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
নিউইয়র্কে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আমন্ত্রণের কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জি-২০-তে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা মনে করি, এটি শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে নয়, বিশ্বের অন্যান্য নেতার সঙ্গেও তাঁর আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে। আশা করি, তিনি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন।’
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ আমন্ত্রণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ক্রেমলিন। তবে এতে ইউক্রেন ও ইউরোপের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ছড়াতে ইউক্রেনের মিত্রদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর অভিযোগ এনেছেন।
জি-২০ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর জোট। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির দেশ রয়েছে।
রাশিয়া জি-২০-এর সদস্য। তবে ২০১৯ সালের পর পুতিন এই জোটের কোনো সম্মেলনে সরাসরি অংশ নেননি। ২০২৩ সালে তিনি একটি অধিবেশনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছিলেন।
ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনটি মায়ামির ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে রুবিও বলেন, ট্রাম্প ‘প্রায় যে কারও’ সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। সমস্যার সমাধান করতে হলে যাদের সঙ্গে মতের অমিল রয়েছে, তাদের সঙ্গেও বসতে হবে।
.png)






