ইসরায়েলের-লেবানন বৈঠক আজ, থাকবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ২৯
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর টায়ারে হামলার পরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে লেবানন। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে দেশ দুটির রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। খবর আল জাজিরার।

বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ইসরায়েলের ইয়েশিয়েল লাইটার এবং লেবাননের নাদা হামাদেহ মাওয়াদকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় বসবেন তিনি।

এই বৈঠকের লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা ইসরায়েলের হামলার কারণে লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও সাড়ে ৬ হাজারে বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

লেবানন সরকারকে আলোচনায় না যাওয়ার আহ্বান হিজবুল্লাহর

এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অন্যতম নেতা নাঈম কাশেম যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে আসন্ন বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা জোরদারের কারণে এই ধরনের প্রচেষ্টাকে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে কাশেম লেবানন সরকারকে পরিকল্পিত আলোচনায় অংশ না নিয়ে ‘ঐতিহাসিক ও বীরত্বপূর্ণ অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নাঈম কাশেম বলেন, ‘এই আলোচনা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে বলেছে আলোচনার লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। তাহলে এমন আলোচনায় কীভাবে যাওয়া যায়, যার উদ্দেশ্য আগেই পরিষ্কার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্রাম নেব না, থামব না বা আত্মসমর্পণ করব না। বরং যুদ্ধক্ষেত্রই নিজের কথা বলবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হিজবুল্লাহ ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন, রাজধানী বৈরুত এবং বেকা উপত্যকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ লেবাননে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযানও শুরু হয়।

গত এক মাসে হিজবুল্লাহ প্রায় ১ হাজার ৮০০ রকেট ছোড়ে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের হামলায় শত শত স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বৈরুতে এক হামলায় হিজবুল্লাহর একজন শীর্ষ কমান্ডারও নিহত হন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা একটি অন্যতম একটি শর্ত ছিল। তবে, ইসরায়েল প্রথম থেকেই এটি অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধবিরতির পরদিন লেবাননে স্মরণকালের ভয়াবহ হামলাও চালায় দেশটি।

সম্পর্কিত