যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক সেন্টারে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১২: ৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক সেন্টারে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো শহরের একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে বন্দুকধারীদের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ (হেইট ক্রাইম) হিসেবে তদন্ত করছে। খবর আল-জাজিরার।

সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, সোমবার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ কমপ্লেক্সে এই হামলা চালানো হয়। এই কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি মসজিদ ও একটি স্কুল রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতদের একজন ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তা কর্মী, যিনি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়া থেকে রুখতে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করেছেন। নিহত বাকি দুজনও প্রাপ্তবয়স্ক। স্কুলের শিশুরা অক্ষত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াহল বলেন, ‘ইসলামিক সেন্টারের অবস্থানের কারণে, ভিন্ন কিছু প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এটিকে একটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছি।’

পুলিশপ্রধানের তথ্যমতে, সন্দেহভাজন হামলাকারী দুজনই পুরুষ এবং তাদের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর। হামলার পর তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।

ওয়াহল আরও জানান, শুটিংয়ের দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজনের মা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত (আত্মহননপ্রবণ) এবং বেশ কয়েকটি অস্ত্র ও তার গাড়ি নিয়ে নিখোঁজ হয়েছে।

সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ প্রথমে ইসলামিক সেন্টারে একজন সক্রিয় বন্দুকধারী থাকার কথা জানিয়েছিল এবং পরবর্তীতে হুমকি নিষ্ক্রিয় করার ঘোষণা দেয়।

মসজিদের ইমাম তাহা হাসান এই ইসলামিক সেন্টারটিকে মুসলিম-অমুসলিম সব মানুষের একসঙ্গে আসার, প্রার্থনা করার, শেখার ও উৎসব উদযাপনের একটি জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেন।

হাসান বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য একটি বিষয়। আমাদের এই ইসলামিক সেন্টারটি একটি পবিত্র উপাসনালয়।’

এদিকে, সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, এই শহরে ‘ঘৃণার কোনো স্থান নেই’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুসলিম সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা যেন এই শহরে নিরাপদ বোধ করতে পারেন তার জন্য যা যা করা দরকার সবকিছুই করব। এই সংবেদনশীল সময়ে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানগুলো যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে কোনো কমতি রাখা হবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি) বৃদ্ধির পটভূমিতে এই ঘটনাটি ঘটল, যেখানে রাজনৈতিক নেতা ও ভাষ্যকাররা বারবার মুসলিম সম্প্রদায়ের কড়া সমালোচনা করে আসছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র কংগ্রেস সদস্য র‌্যান্ডি ফাইন গত বছরের শেষের দিকে বলেছিলেন, মুসলিমদের ‘ধ্বংস করা উচিত’।

এদিকে সোমবার ওই হামলার পর ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী কর্মী লরা লুমার বলেন, এফবিআই ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের উচিত ওই ইসলামিক সেন্টারে অভিযান চালানো।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ এনে মসজিদটির ইমামের স্ত্রীর ২০২৩ সালে দেওয়া একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করে লুমার তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘আজ কথিতভাবে যে মসজিদে হামলা হয়েছে, শুধু মনে রাখবেন এই মসজিদে যারা যাতায়াত করে তারা চায় আমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হোক।’

আর ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে এবং তিনি এটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাকে প্রাথমিক কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখব।’

সম্পর্কিত