
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসতে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই। খবর আল জাজিরার।
ইরানের দেওয়া শর্তগুলো হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।
রেজাই বলেন, কাতারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে তারা আমাদের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আমরা এখন প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় আছি।
তিনি আরও বলেন, এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের স্বার্থেই জরুরি। ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না। আমরা চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত।
গত মাসে দুই দেশের মধ্যে করা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতার ও পাকিস্তান আবারও আলোচনার উদ্যোগ নেয়। আঞ্চলিক দেশগুলোও যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালাতে পারে—এমন সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত। তবে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে। আগের দুই দফা সংঘাতের পর সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে তেহরান। এখন পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে থাকা মার্কিন নৌসম্পদকে লক্ষ্য হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তোহিদ আসাদি বলেন, ইরানের বার্তায় একদিকে আলোচনায় ফেরার আগ্রহ, অন্যদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি—দুই দিকই স্পষ্ট।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রেজাই বলেন, তেহরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ভবিষ্যতে ইরানকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে।
ইয়েমেনের যুদ্ধে ইরানের জড়িত থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেন রেজাই। একই সঙ্গে বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের সম্ভাবনাও নাকচ করে তিনি বলেন, এটি ইয়েমেনের বিষয়।
.png)






