বাংলাদেশের গবেষকরা কি কেবলই পশ্চিমা বয়ানের বাহক?

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জার্নালগুলোতে প্রবন্ধ রচনার বিষয়টি যে বৈশ্বিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক চর্চার বিষয় সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একাডেমিক পরিসরে শিক্ষক কিংবা গবেষকদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রচার এবং প্রসারের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে জার্নালে প্রবন্ধ লেখা। সেই প্রবন্ধ লেখাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিতর্ক বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক পরিসরে দেখতে পাই। তার মধ্যে অন্যতম দুটি চিন্তার বিষয় হলো গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনৈতিক ব্যবহার।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি করে গবেষণা ও প্রবন্ধ লেখাকে বদলে দিচ্ছে সেই বিষয়গুলো বৈশ্বিক একাডেমিক জগতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। যদিও এই বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের একাডেমিয়ায় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার আলোচনা খুব একটা নেই এবং তার স্বীকৃত কোনো কাঠামোও এখন পর্যন্ত আমরা দেখতে পাইনা। এ নিয়ে আমি বিগত তিনটি লেখায় বিশদ আলোচনা করেছি।
এমন একটি প্রেক্ষাপটে আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো- জ্ঞান উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে পশ্চিমা এবং বাংলাদেশের জ্ঞানজাগতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেকার আন্তঃসম্পর্ক এবং কী করে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র দেশের জ্ঞানজগত পশ্চিম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং নির্ধারিত হয়। এখানে একটি প্রবল প্রভাবের বলয় দৃশ্যমান যার কোনো বিকল্প আমরা এখনো তৈরি করতে পারছি না।
এই আলোচনার শুরুটা আমরা করতে পারি একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে। আমরা যখন বাংলাদেশে গবেষণা করি, একটু খেয়াল করলে দেখতে পাই যে আমাদের গবেষণার বিষয় বাংলাদেশের নানাবিধ সমস্যা ও প্রেক্ষাপট কেন্দ্রিক হলেও অধিকাংশ সময় বাংলাদেশ কেন্দ্রিক কোনো তাত্ত্বিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারিনা যেখানে আমাদের দেয়া তত্ত্ব গুরুত্ব পাবে। এমনকি আমাদের গবেষণা প্রবন্ধের তাত্ত্বিক কাঠামোর দিকে তাকালে আমরা সবসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকাশিত গবেষণার দিকেই মূলত মনোযোগ দিই এবং তাঁকে আদর্শ মানদণ্ড ধরে আমাদের গবেষণা পরিচালিত করি ও প্রবন্ধ লিখি।
অনেকে আবার এর বিপরীতে যুক্তি দেবেন যে আমরা তো সত্যিকার অর্থে সেই জ্ঞান উৎপাদন করতে পারছি না যে জ্ঞানের মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিকে ব্যাখ্যা এবং তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি করতে পারি। সেটি অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হলেও অনেকসময় আমরা বাংলাদেশে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগুলোকে সত্যিকার অর্থে গুরুত্ব দিতে চাই না এবং তার ভিত্তিতে আমাদের তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি করি না। যে চর্চার ফলে সেই পশ্চিমা জ্ঞান দিয়েই আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক উন্নয়নকে ব্যাখ্যা করি। আমাদের দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া কেমন হবে এবং তাঁকে সেই পশ্চিমা জ্ঞানের মধ্য দিয়ে দেখার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পশ্চিমা উন্নয়ন ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে খুব একটা কাজ করে না।
এর ফলে আমরা নিজেদের তত্ত্ব তৈরি করতে পারছিনা বা নিজেদের মতো করে তত্ত্বায়ন করতে পারছিনা। আমাদের অবচেতন মনে ধরেই নিচ্ছি যে আমাদের দিয়ে জ্ঞান উৎপাদনের এই প্রক্রিয়ায় তত্ত্বায়ন সম্ভব নয়। যেটি পশ্চিমা জ্ঞানের হেজেমনির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে হেজেমনি আমরা চোখে দেখতে পাই না, কিন্তু তা আমাদের মনস্তত্ত্বে প্রবলভাবে বিরাজ করে। এটি আমাদের জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি বড় বাধা। যে প্রবল বলয় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমাদের দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে যখন আমরা তাত্ত্বিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারব তখনই আমরা জ্ঞান উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় আমাদের ক্ষমতায়ন দেখতে পাব।
পুরো প্রক্রিয়ায় আরও একটি বড় সমস্যা রয়েছে। যখন আমরা কোনো যৌথ গবেষণায় পশ্চিমা বা উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গবেষকের সাথে যুক্ত হই, যাকে খুবই মর্যাদাপূর্ণ ও কাম্য একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে আমাদের অংশগ্রহণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে ‘টোকেনিস্টিক’ বা ‘প্রতীকী’। আমাদের কাজ হয় মূলত গবেষণার মাঠকর্ম সম্পাদনে সহায়তা করা যা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু পুরো কাজের অথরিটি বা কর্তৃত্ব অর্থাৎ প্রকাশনা থেকে শুরু করে সকল ধরনের কাজের নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতেই থাকে।
এমনকি প্রকাশনার কোনো এক জায়গায় আমাদের নাম থাকলেই যেন আমরা খুশি। সে কারণে আমাদের দেশ থেকে যে সকল গবেষকরা বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণা করে থাকেন সেখানে দেখা যায় যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ হয় দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ কিংবা শেষ লেখক হিসেবে। খুব কম ক্ষেত্রেই প্রথম লেখক হিসেবে আমরা আমাদের মতো জায়গা থেকে অবদান রাখতে পারি। এখানে আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাই যে গ্লোবাল সাউথের গবেষক কিংবা লেখকগণ হয়ে ওঠেন একটি গবেষণার অবজেক্টে। এমনও দেখেছি যে আমাদের দেশের গবেষক কেবল তাঁর পিএইচডির গবেষণা আন্তর্জাতিক প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করার জন্যে পিএইচডির তত্ত্বাবধায়ককে তাঁর কাজের লেখকের মর্যাদা দিয়ে প্রকাশ করছে যা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দ হুসাইন আলাতাস নামক একজন বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীর ‘ক্যাপটিভ মাইন্ড’ এর ধারণা নিয়ে আসতে পারি। যার প্রধান বিষয় হলো আমরা নিজেরাই আমাদের মনকে এমনভাবে একটি বৃত্তে আবদ্ধ করে ফেলেছি যেখানে আমরা ধরেই নিই যে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ডাক বেশি ফলে তাঁদের কর্তৃত্বও বেশি হবে। আমাদের দুর্বল মনে তখন এই ধারণা আরো পোক্ত হয় যে পশ্চিমা তাত্ত্বিকদের ব্যবহার ছাড়া আমাদের যুক্তিগুলো যেন অসম্পূর্ণ।
প্রবন্ধ কোথায় প্রকাশ করা হবে এর পরে আসে সেই আলোচনা। এখানেও আমরা দেখি যে পশ্চিমা জার্নালে প্রকাশ করলেই হবে না বরং কিউ ওয়ানসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশ করতে না পারলে নিজেকে একজন সত্যিকার গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বা বিশ্বাসযোগ্য করা যায় না। এমন ধারণা থেকে গড়ে উঠেছে প্রকাশনার ইঁদুর দৌড়, সেটিও একটি সমস্যা যা বিগত লেখায় আলোচনা করেছি।
বিদেশি ভালো জার্নালে প্রকাশিত হলেই সেই গবেষণাকে অধিক মূল্যবান মনে করা হয়। এর প্রমাণ আমরা অনেক সময় দেখতে পাই আমাদের দেশের বিভিন্ন নিউজ মিডিয়াতে। যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা বাংলাদেশের কোথাও প্রকাশিত হলে তাকে অনেক সময় দেশি মিডিয়াতে খুব একটা গুরুত্ব দিতে দেখি না। অথচ তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ লেখা যদি বিদেশি কোনো জার্নালে প্রকাশিত হয় তার প্রচার আমরা অনেক বেশি দেখতে পাই। অনেক সময় আমরা দেখি সেই লেখাগুলোকে হুবহু অনুবাদ করে আমাদের দেশের মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার করা হয়।
তাই প্রবন্ধ কোথায় প্রকাশিত হচ্ছে এবং সেই প্রকাশনায় কারা যুক্ত থাকছে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে একটা লম্বা সময় ধরে যে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নির্ভরশীলতা’ তৈরি হয়েছে একটা দীর্ঘ ঔপনিবেশিক মনস্তত্ত্বের কারণে সেই পরনির্ভরশীলতা থেকে বের না হতে পারলে আমরা কখনোই নিজেদের জ্ঞান উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবো না। আমরা যত বড় গবেষকই হই না কেন সেই বুদ্ধিবৃত্তিক নির্ভরশীলতার মধ্যেই বসবাস করতে থাকব।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আমাদের দেশ থেকে যে সকল গবেষক ও শিক্ষকগণ পশ্চিমা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা করেন তাদের অনেকের মধ্যেও আমরা সেই একই পশ্চিমা জ্ঞানের হেজেমনির প্রকাশ দেখতে পাই। এর ফলে তাঁদের মধ্যে আমরা সেই পশ্চিমা হেজেমনিকে প্রবলভাবে ধারণ করতে দেখি যা তাঁদের মধ্যে সেই একই পশ্চিমা ‘ইন্টেলেকচুয়াল সুপেরিয়োরিটি’ বা ‘বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকৃষ্টতা’ গড়ে তোলে। ফলশ্রুতিতে পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাঙ্গণে কাজ করার সুবাদে তারাও যেন নিজেদের গ্লোবাল সাউথের বুদ্ধিজীবীর চেয়ে পশ্চিমা জ্ঞানজগতের একজন হিসেবেই নিজেকে বিবেচনা করেন। কিন্তু এদের অধিকাংশই যে পশ্চিমা জ্ঞানকান্ডে তত্ত্বায়নে খুব একটা বৈপ্লবিক অবদান রাখতে পারছেন সেটিও জোর দিয়ে বলা যায় না।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমাদের এও মনে রাখতে হবে যে আমরা আসলে এখানে পশ্চিমা জ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করছি না। এটি কেবল ‘এপিস্টেমিক ডিসঅবিডিয়েন্স’, যে ধারণা আর্জেন্টিনার ওয়াল্টার মিগনোলো তার একটি লেখায় প্রথম উত্থাপন করেন, অর্থাৎ অন্যের জ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করা নয় বরং পশ্চিমা জ্ঞানের একচেটিয়া কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করা ও প্রশ্ন করা।
আমাদের চেয়ে পশ্চিমা গবেষকরা অধিক জ্ঞানী সেই ধরনের ঔপনিবেশিক ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তা নাহলে আমরা বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন জ্ঞান তৈরি করতে পারব না যে জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যাকে বুঝতে সহায়তা করতে পারবে। এমন জ্ঞান উৎপাদন করতে হবে যার মাধ্যমে আমাদের নিজ সমাজকে তত্ত্বায়ন করতে পারব ও বুঝতে পারব।
নিজ সমাজের সমস্যাগুলো ধরতে পারা এবং দেশের উন্নয়নে আমার জ্ঞান যেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। ফলে স্থানীয় গবেষকদের ভিত্তিতে একটি একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে নিজের জ্ঞান উৎপাদনকে গুরুত্ব দিতে শিখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহকর্মীদের মধ্যেও একে অপরের কাজকে মূল্যায়ন করার তাগিদ খুব দেখা যায় না। তাঁদের মধ্যেও আমরা পশ্চিমের লেখকদের উৎপাদিত জ্ঞানকে উদ্ধৃতি দেওয়া, স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতি অধিক ঝোঁক দেখি। এই ধরনের চর্চা থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের জ্ঞানের স্বীকৃতি না দিই তাহলে বিদেশিরা সেটা কেন দিবে?
এমন প্রেক্ষাপটে তাহলে আমাদের করণীয় কী হতে পারে? আমাদের যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে সেটি হলো পশ্চিমা জ্ঞানের পুনরুৎপাদন না করে পশ্চিমা জ্ঞানের সঙ্গে আমাদের জ্ঞানের এক ধরনের সংলাপ তৈরির প্রচেষ্টা করা। আমাদের স্থানীয় জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা চালাতে হবে। আমাদের কাজকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরতে হবে আর সেটি করার জন্যে লিখে যাবার কোনো বিকল্প নেই। এখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষণার একটি জাতীয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যা আমাদের গবেষক হয়ে উঠার একটি অনুপ্রেরণা দিবে যাকে হতে হবে প্রায়োগিক ও দেশ এবং সমাজ বদলের জন্যে।
দ্বিতীয়ত, গ্লোবাল সাউথকে শুধু গবেষণার একটি স্থান হিসেবে যেন পশ্চিমা গবেষকরা না দেখতে পারে সেদিকে আমাদের মতো গবেষকদের আরো বেশি সচেষ্ট থাকতে হবে। আমাদেরকে যেভাবে কেবল তথ্য সংগ্রহের একটি ক্ষেত্র ও বাহন হিসেবে দেখা হয়, সেটি যেন কেউ না করতে পারে সেদিকে নজর রেখে যৌথ গবেষণায় যেতে হবে। সেখানে আমাদেরকে বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগী হিসেবে দেখতে হবে। এতে করে তাঁদের উপর থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক নির্ভরশীলতা বা ইন্টেলেকচুয়াল ডিপেনডেন্সি কমে আসবে। এর মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথ হয়ে উঠতে পারে তত্ত্বায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা যেখানে আমাদের অবদানকে তুলে ধরার সুযোগ অনেক।
স্থানীয় পরিসরের বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বে তুলে ধরতে হবে। যে বিষয়গুলো আমরা ভারতের অনেক গবেষক এবং তাত্ত্বিকদের মধ্যে দেখতে পাই। নিজ দেশে বসে তারা এমন সব বৈপ্লবিক ধারণা নিয়ে আসছেন যা বৈশ্বিক একাডেমিয়াকে নানা সময় নাড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে গ্লোবাল সাউথের দেশ হিসেবে ভারত যদি পারে তাহলে বাংলাদেশে বসে বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকরা কেন পারছেন না। তা না করতে পারলে আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা বৈশ্বিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতো তৈরি করতে পারবে না বরং আমরা ক্রমাগত চৌর্যবৃত্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে ধীরে ধীরে এই সংলাপ ও দরকষাকষির জায়গা থেকে আরো বেশি দূরে সরে আসব।
- বুলবুল সিদ্দিকী: নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও আহ্বায়ক, এল্যায়েন্স ফর মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস
.png)



-d66a79.jpeg)


-2b06a0-256x144.webp)