ad

ভোটে বিজয়ী কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান কি এবার সভাপতি হতে পারবেন

রুদ্র আল মুত্তাকিন
রুদ্র আল মুত্তাকিন

স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

টান টান উত্তেজনায় গতকাল সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পেইজের ‘জুরিখ প্রবাসী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬’ শেষ হয়েছে। জানেন তো, বাঙালির মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল আছে! সেটা সুষ্ঠু হোক কিংবা ভেজাল, আগ্রহ তার ষোল আনা! ফলাফল জানা সত্ত্বেও আগ্রহের যেনো কমতি নেই। সুইজারল্যান্ড প্রবাসীর নির্বাচনটা আবার সেটা প্রমাণ করল!

ফেসবুক পোলের মাধ্যমে হওয়া ভোটে কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান ওরফে ডাবল কাম্রু বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু জাকারিয়া তাকে সভাপতি ঘোষণা করেন নাই! এখনো শপথ পাঠও হয়নি। কেননা শানু মেরদাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাম্রু সভাপতি ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত নেটিজেনদের আগ্রহ থামার কোনো লক্ষণই নেই। কেননা ব্যাপারটা সমিতির বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন বলে কথা! তাই এই লেখার ফোকাসও নির্বাচনকেন্দ্রিক এবং কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানের দশা!

সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পেজে যা আছে

সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পেজটা নিয়ে একটু বলা দরকার। এটা ফেসবুকভিত্তিক স্যাটায়ার বা ব্যাঙ্গাত্মক পেজ। ফলোয়ার প্রায় চার লাখের কাছাকাছি। পেজের বায়োতে স্পষ্ট বাংলা হরফে লেখা ‘মাতৃভূমি সুইজারল্যান্ডকে ভালোবাসি। হৃদয়ে সুইজারল্যান্ড’। পেজে বিভিন্ন নামধারী ক্যারেক্টার আছে। যেমন কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান, জাকারিয়া এম চৌধুরী, ওসমান গণি, আবুল কালাম প্লাম্বার, শানু মেরদা, গোলাপ মাহবুব, আবুল কালামের মেয়ে শামসুন্নাহার, ওসমান গণির আম্মো, লোকমান হোসেন কবিতা, সাইদুল ইসলাম (রুমার হাজবেন্ড), মা টেলিকমের মামুন প্রমুখ।

মূলত এই চরিত্রগুলোর নিত্যদিনের কাজকর্মের খুঁটিনাটি বিষয় ব্যাঙ্গাত্মকভাবে পেইজে প্রকাশ পায়। অত্যন্ত সাদামাটাভাবে চরিত্রগুলোর মনোজগৎ, চিন্তা-ভাবনা, আশা-হতাশা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, হীনমন্যতা, বিদ্বেষমূলক আচরণ পাঠকের সামনে আসে। এদের মধ্যে কেউ রক্ষণশীল, কেউ উদারপন্থী, কেউবা ছোটলোক-বড়লোক টাইপেরও আছে। এইসব শব্দ তারা হরদম ব্যবহারও করে। সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পেজের অ্যাডমিন পরিচয় প্রকাশ না করে বিবিসি বাংলায় বলেছিলেন, ‘পাতাটির সাথে যারা সংশ্লিষ্ট, তারা কেউ দেশবিরোধী, সাম্প্রদায়িক বা নারী বিদ্বেষী নন। শুধু তারা এই ধরনের মানুষদের মানসিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।’

যা-ই হোক পেজের চরিত্রগুলোর কারও আবার থাকা-খাওয়ার নিদারুণ কষ্ট! কিন্তু এইসব কষ্টের দুই-চার লাইনের বর্ণনা এত মজার ছলে প্রকাশ পায় যে পাঠকের ঠোঁটের কোণে দুঃখভরা হাসি ফুটে উঠে। এই যে কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানের কথাই ভাবেন! লোকটাকে নির্বাচনের মাত্র তিন-চার দিন আগে সমিতির মেসবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হইছে। কারণ কী? কারণ হলো সে চার মাস মেসের ভাড়া পরিশোধ করেনি। করবে কীভাবে? তার তো চাকরি চলে গেছে! নানা ফন্দি-ফিকির করে বেচারা তেলের ব্যবসায় নেমেছিল; সেটাও চলেনি। ব্যাপক লস হইছে। পেজে ঢু মারলে এরকম বা আরও বিচিত্র চরিত্রের দেখা পাওয়া যাবে।

২০২৬-এর সমিতি নির্বাচন

এবারে নির্বাচনে ফেরা যাক। এতে করে পাঠকরা আরেকটা চরিত্রের ধারণা পাবেন। ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে সমিতির ৩ বছর ধরে ‘রানিং’ সভাপতি জাকারিয়া এম চৌধুরী ঘোষণা দেন, তিনি ‘জীবদ্দশায় সুষ্ঠ নির্বাচন’ দেখে যেতে চান! সভাপতি পদ তার আর ভালো লাগে না। সে এখন ‘রিলেক্সে থাকতে চায়’। তিন বছর আগে তার সভাপতি হওয়াটাও ছিল বেশ নাটকীয়! নাটকের ট্র্যাজেডি হলো, জাকারিয়ার স্ত্রী তার সঙ্গে প্রতারণা করে সুইজারল্যান্ডে না এসে নৌকা করে চলে গেছে সাউথ আফ্রিকা। সেই ঘটনার পর থেকে জাকারিয়াকে জোর করে সমিতির সভাপতি বানিয়ে দেওয়া হয়। যাতে সে সবসময় ব্যস্ত থাকতে পারে। মন খারাপ করার সুযোগ না পায়। জাকারিয়া নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সময় এরকম স্মৃতিই রোমন্থন করেন।

তিন বছর আগের নির্বাচনটা নিয়েও একটু বলা দরকার। নাহলে বিরাট কিছু মিস হয়ে যাবে। ব্যাপার হলো, তিন বছর আগের নির্বাচনেও কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান ওরফে ডাবল কাম্রু বিপুল ভোটে জয়ী হয়। কিন্তু তাকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়নি। শুধু এই নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তখন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

এবার নেটিজেনরা কি ভাবছে

২০২৬ সালের নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে যেতে পারে বলে আশংকা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে ফেইসবুকে জাকারিয়াকে গালমন্দ করে লিখছেনও। তাছাড়া জাকারিয়াকে নেটিজেনরা মজা করে ডিপ স্টেটের লোক বলে থাকে। কেননা সে পল্টি মারতে ওস্তাদ! এবারের নির্বাচনে কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান যেন অংশগ্রহণ না করতে পারে তার সকল ব্যবস্থা সে করেছিল। কঠিন কঠিন নির্বাচনী নীতিমালা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটা হলো ১০০ কেজি ওজনের বেশি কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানকে এইসব নানাবিধ কারণে ফেসবুকবাসী বেশ পছন্দ করে। তার প্রতিফলন গতকালকের পোলেও দেখা গেছে। বিশাল ব্যবধানে জিতেছে কিন্তু সে কি সভাপতি হতে পারবে? নেটিজেনরা এই বিষয়ে জানতে বেশ সিরিয়াস!

এদিকে ডাবল কাম্রুর ওজন ১০০-এর বেশি। সে দুই দিন না খেয়ে নির্বাচনী নীতিমালা পূরণ করেছিল! লাল প্যান্ট নিয়েও তাকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা হয়। মানে কয়েকদিন বিরাট নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল! কাম্রুর ভক্তরা অবশ্য ভোট দিয়ে এর বদলা নিয়েছে। তার ফলাফল নির্বাচনী পোলে দেখা গেছে। তাকে বিজয়ী মুকুট দেওয়া হয়েছে কিন্তু সভাপতির শপথ পড়ানো হয়নি। নেটিজেনরা এর শেষ দেখে ছাড়বেন বলে ঘোষণা দিয়েছে।

ষড়ষন্ত্র রুখে দিয়ে নির্বাচনে কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান কি সভাপতি হবেন

বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে ৮৬ শতাংশ (৪৩৫৯১ ভোট) ভোট পেয়ে কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানকে বিজয়ী ঘোষণা করেন জাকারিয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওসমান গণি। সে মাত্র ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অথচ কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানকে শপথ পড়ানো হচ্ছে না। কারণ শানু মেরদাকে না পাওয়া পর্যন্ত শপথ হবে না।

এদিকে শানু মেরদা সর্বশেষ দিনে যে কালারের প্যান্ট পরেছিল কাম্রুকে সেই প্যান্টে দেখা গেছে। এতে নেটিজেনদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধা শুরু করেছে যে ‘চুরির অপরাধে’ তাকে সভাপতি বানানো হবে না। তারা বিজয়ীর পোস্টে কমেন্ট করা শুরু করেছে। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানের এত জনপ্রিয়তার সুলুকসন্ধান

কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান আসলে বহুরূপী চরিত্র। ডাইনামিকও। তার চরিত্রের নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডি নাই। কখনো সে প্রবাসী বাঙালির মুখচ্ছবি হিসেবে হাজির হয়। আবার কখনো প্রচন্ড আত্মপ্রচারী, অহংকারী; যে শ্বশুরের টাকা বিদেশে এসে তাদেরকেই প্রায় ভুলতে বসেছে! কখনো তাকে নিদারুণ বৈষম্যের শিকার হতে দেখা যায়! খেতে পরতে পারে না এমন হয়! কখনো রাজনৈতিকভাবে সুবিধাবাদী মনে হতে পারে, আবার কখনো নিজের সমাজেরই কোনো অস্বস্তিকর বাস্তবতার ব্যঙ্গচিত্র!

এই ধরেন যে ষড়যন্ত্র করে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মেসবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলো অথচ কেউ তার পাশে দাঁড়াচ্ছে না এই নির্মমতায় কি কোনো প্রবাসী পড়ে নি! অনেকে প্রবাসে থাকার জায়গার কষ্টে ভোগে কিংবা আধপেটা থাকে। আমাদের পরিচিত অনেকেই এমন আছে না! সেসব ঘটনাকে নিয়মিত হাস্যরসে প্রকাশ করে কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান। সে প্রবাসী পরিচয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীককে ভেঙে দিতে পেরেছে। এটা নিয়ে সে প্রায়ই ব্যঙ্গ করে। তাছাড়া তার মধ্যে একধরনের শিশুসুলভ সততা আছে। আবার কারো ক্ষতি করলে দুঃখ হয় তার।

তো যাইহোক কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানকে এইসব নানাবিধ কারণে ফেসবুকবাসী বেশ পছন্দ করে। তার প্রতিফলন গতকালকের পোলেও দেখা গেছে। বিশাল ব্যবধানে জিতেছে কিন্তু সে কি সভাপতি হতে পারবে? নেটিজেনরা এই বিষয়ে জানতে বেশ সিরিয়াস!

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত