দিল্লিতে ভোটার তালিকা যাচাই/নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, কেজরিওয়াল
স্ট্রিম ডেস্ক

দিল্লির ভোটার তালিকা যাচাইয়ে চমকপ্রদ এক ঘটনা সামনে এসেছে। এসআইআরের আওতায় নোটিশ পাওয়া ৩৩ লাখ ১০ হাজার ভোটারের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কেজরিওয়ালের সঙ্গে তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী ও ছেলের নামও রয়েছে তালিকায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার দপ্তর বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিশ পাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করে। তাঁদের কারও ভোটার তথ্যে ‘যৌক্তিক অসংগতি’ ধরা পড়েছে। আবার কারও তথ্য আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়নি।
তালিকায় বিজেপিশাসিত দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নাম রয়েছে শালিমারবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৩ নম্বর পার্টে। তাঁর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম দেখিয়েছে। এই অসংগতির কারণেই তাঁর নামে নোটিশ তৈরি করা হয়।
তবে তাড়াহুড়া করে নথি ও তথ্য যাচাইয়ের পর রেখা গুপ্তার ভোটার তথ্য সঠিক বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাখার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ‘নো ম্যাপিং’। কেজরিওয়ালের সঙ্গে তাঁর বাবা গোবিন্দ রাম কেজরিওয়াল, মা গীতা দেবী, স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়াল ও ছেলে পুলকিত কেজরিওয়ালের নামও এই শ্রেণিতে রয়েছে।
‘নো ম্যাপিং’ বলতে বর্তমান ভোটার তালিকায় থাকা কোনো ভোটার বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত আত্মীয়ের তথ্য আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়নি বলে বোঝানো হয়েছে। এ ধরনের ভোটারদের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১২ ধরনের নথির মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার বিধান রয়েছে।
শুধু রেখা গুপ্তা ও কেজরিওয়াল নন, দিল্লির মন্ত্রী পরভেশ সাহিব সিংয়ের ভোটার তথ্যেও অসংগতি ধরা পড়েছে। তাঁর ক্ষেত্রে বর্তমান ও আগের ভোটার তালিকায় নিজের নামের মধ্যে অমিলকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দিল্লিতে এ ধরনের অসংগতির জন্য মোট ১১টি শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান ও আগের ভোটার তালিকায় নামের অমিল, বাবা বা সংশ্লিষ্ট আত্মীয়ের নামের সঙ্গে অসংগতি, একই অভিভাবকের সঙ্গে ছয়জনের বেশি সন্তানের তথ্য যুক্ত থাকা এবং ভোটার ও দাদা-দাদির মধ্যে বয়সের ব্যবধান ৪০ বছরের কম হওয়ার মতো বিষয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ লাখ ৩০ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে ‘যৌক্তিক অসংগতি’ ধরা পড়েছে। আর মোট ৩৩ লাখ ১০ হাজার ভোটার নোটিশের আওতায় এসেছেন। সংখ্যাটি দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকায় থাকা ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৭ ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
তবে নোটিশ পাওয়া মানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের তথ্য ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার সুযোগ দিচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও পরিচিত ব্যক্তিদের শুনানি কেন্দ্রে সরাসরি যেতে হবে না। তাঁদের ক্ষেত্রে নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা বুথ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে তথ্য ও নথি যাচাই করতে পারেন।
এসআইআরের আওতায় এসব নোটিশের যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ ২৯ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার কথা। এরপর ৪ নভেম্বর দিল্লির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
.png)






