জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩, তাপদাহে ব্যাহত কার্যক্রম

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০: ৪৪
জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারের কাশিমা শহরে ধসে পড়া অ্যায়ন শপিং মলে উদ্ধার অভিযান। ছবি : রয়টার্স

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ধসে পড়া শপিং মল ও বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে এখনো জীবিতদের খুঁজছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে একের পর এক আফটারশক, তীব্র গরম এবং পানি-বিদ্যুতের সংকট উদ্ধার অভিযানকে কঠিন করে তুলেছে।

গত মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ৬২ জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে আবারও ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। রোববার তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সবচেয়ে জটিল অভিযান চলছে কাশিমা শহরের অ্যায়ন শপিং মলে। ভূমিকম্পের সময় সেখানে হাজারো মানুষ ছিলেন। প্রায় তিন হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর মলের একটি অংশে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ওই অংশের ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হলেও তাঁদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। মলের ছাদের বড় অংশ ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনো নিখোঁজদের খুঁজছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ইয়াতসুশিরোসহ আশপাশের এলাকায় বহু বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। পাড়ে থাকা অনেক বাড়ির ধ্বংসাবশেষ সরাসরি নদীতে পড়ে যাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র গরম ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। প্রায় ৩৪ হাজার ৯০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ এবং ১৫ হাজার বাড়িতে এখনো পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ৪০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন প্রায় ৯ হাজার মানুষ। সেখানে অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসানো হচ্ছে। জরুরি সংকট মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী পানির ট্যাংকার বসিয়েছে।

কুমামোতোর ইয়াতসুশিরোর কর্মকর্তা আকিও মাতসুশিতা বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন পানির সরবরাহ। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তাঁদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলছে। সরকার যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। কিউশু অঞ্চলে টয়োটা, হোন্ডা, নিসান, সনি, আইসিন ও তাইওয়ানের টিএসএমসিসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। সরবরাহব্যবস্থা ও কারখানার নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটির কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ২০১৬ সালেও কুমামোতোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৭৩ জন নিহত ও তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত