ভারতীয় সমকালীন দলিত সাহিত্য একদিকে শতাব্দীপ্রাচীন বর্ণবৈষম্য ও সামাজিক বর্জনের নির্মম বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করেছে। অন্যদিকে ভারতীয় সাহিত্যে নতুন ভাষা, নতুন প্রকাশভঙ্গি ও নতুন সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিরও সূচনা করেছে।
লেখা:

ভারতীয় সাহিত্যে গত কয়েক দশকে শক্তিশালী যেসব সাহিত্যধারার উত্থান ঘটেছে, তার মধ্যে একটি দলিত সাহিত্য। দলিত সাহিত্য বলতে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন-সংগ্রাম, বঞ্চনা, বৈষম্য এবং আত্মমর্যাদার লড়াইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে। এই সাহিত্য মূলত দলিতদের নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
ভারতকে বুঝতে হলে আমাদের উচিত দলিত সাহিত্য পড়া। কারণ, সমকালীন দলিত সাহিত্য একদিকে শতাব্দীপ্রাচীন বর্ণবৈষম্য ও সামাজিক বর্জনের নির্মম বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করেছে। অন্যদিকে ভারতীয় সাহিত্যে নতুন ভাষা, নতুন প্রকাশভঙ্গি ও নতুন সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিরও সূচনা করেছে।
‘দলিত সাহিত্য’ শব্দটি প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয় ১৯৫৮ সালে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত দলিত সাহিত্য সম্মেলনে। এরপর ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে মারাঠি ভাষায় কবিতা, ছোটগল্প, আত্মজীবনী ও প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে নতুন সাহিত্য আন্দোলনের সূচনা করে। পরে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হওয়ার পর এসব রচনা গোটা ভারতের দলিত সম্প্রদায়ের লেখকদের অনুপ্রাণিত করে।
১৯৯০-এর দশকে হিন্দি, বাংলা ও অন্যান্য ভাষায় দলিত সাহিত্য দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং সর্বভারতীয় সাহিত্য আন্দোলনে পরিণত হয়। মূলধারার প্রকাশনা সংস্থাগুলো দলিত লেখকদের আত্মজীবনী, উপন্যাস, কবিতা ও প্রবন্ধ ইংরেজিতে প্রকাশ করতে শুরু করলে এই সাহিত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করে।
দলিত সাহিত্যকে আলাদা সাহিত্যধারা হিসেবে ধরলে ভুল হবে। এই ধারা দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য, বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। এই সাহিত্য এমন সব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে, যা দীর্ঘদিন মূলধারার সাহিত্যে প্রায় অনুপস্থিত ছিল। বিশেষ করে ভারতের বর্ণব্যবস্থায় দলিতরা দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার। শত শত বছরের এই বাস্তবতাই দলিত সাহিত্যে উঠে এসেছে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে। তাই এই সাহিত্যকে অনেকেই ‘সাক্ষ্যদানের সাহিত্য’-ও বলে থাকেন। সমকালীন দলিত সাহিত্যের প্রথম দিকের রচনাগুলোর বেশির ভাগই ছিল আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা। এ কারণে অনেকেই এই সাহিত্যের সঙ্গে আফ্রিকান-আমেরিকান দাসপ্রথার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা আত্মকথা বা স্মৃতিকথার তুলনা করেন।
হিন্দি ভাষার প্রখ্যাত দলিত লেখক ওমপ্রকাশ বাল্মীকি তাঁর আত্মজীবনী জূঠন-এ লিখেছিলেন, নিজের জীবনের অপমান ও যন্ত্রণা আবার নতুন করে মনে করে লেখা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের ছিল। একইভাবে তুলসীরামের আত্মজীবনী মুরদাহিয়া এবং প্রদন্যা দয়া পাওয়ারের দীর্ঘ কবিতাতেও দলিত জীবনের দুঃখজনক অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।

তবে সাহিত্যসমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, দলিত সাহিত্যকে শুধু ‘নিপীড়নের দলিল’ হিসেবে দেখলে এর সাহিত্যিক মূল্য ও নন্দনতাত্ত্বিক শক্তিকে খাটো করে দেখা হয়। কারণ দলিত সাহিত্য ভারতীয় সাহিত্যে নতুন ভাষা, নতুন প্রকাশভঙ্গি এবং ভিন্ন ধরনের সাহিত্যিক ভাবনারও সূচনা করেছে। গত পাঁচ দশকে দলিত লেখকেরা প্রচলিত সাহিত্যরীতিকে নানা দিক থেকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
অনেক দলিত লেখক সচেতনভাবেই প্রচলিত সাহিত্য-ভাষা বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ব্যবহার করেছেন। তামিল লেখক বামা এমন লেখকদের মধ্যে অন্যতম। ভাষা ও প্রকাশভঙ্গির এই পরিবর্তন দলিত সাহিত্যকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। সাহিত্যিক বাবুরাও বাগুলও তাঁর লেখায় দলিত সাহিত্যের এই নতুন ধারার প্রশংসা করেছেন।
দলিত সাহিত্যে যেমন সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের কথা বলা হয়েছে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের অধিকার আদায়ের গল্পও উঠে এসেছে। যেমন বোজ্জা তারাকামের তেলেগু উপন্যাসে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এক দলিত শ্রমিক পরিবারের সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে, তা এই সাহিত্যের শক্তিরই পরিচয় বহন করে। একই ধরনের মানবিক সংগ্রামের গল্প দলিত সাহিত্যের বিভিন্ন রচনায় ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই গল্পগুলো ভারতীয়দের অভিজ্ঞতার ওপর লেখা হলেও সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
দলিত সাহিত্যকে ‘সামাজিক আন্দোলন’ বললেও ভুল হবে না। এটি সমাজকে বদলে দেওয়ার কথাও বলে। এই সাহিত্য বলছে, বর্ণপ্রথা অতীতের কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক রীতি নয়; এর প্রভাব আজও সমাজে রয়েছে। একইভাবে, ‘দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের স্পর্শ করা যাবে না’ বা ‘অস্পৃশ্যতাও’ এখন আর ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সামাজিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দলিত মানুষদের সমাজের মূলধারা থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
দলিত সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ড. বি. আর. আম্বেদকর। তাঁর মতে, ‘বর্ণপ্রথা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে জন্ম পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নির্ধারণ করা হয়।’ তিনি এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে বলেন, জন্ম নয়, মানুষের পরিচয় ও মর্যাদা নির্ধারণ হবে অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে।
আম্বেদকরের সমতার ধারণা, মর্যাদা কিংবা ন্যায়বিচারের দর্শন অনেক দলিত লেখককে প্রভাবিত করেছে। তাঁদের লেখায় বারবার উঠে এসেছে একটি দাবি—দলিতরাও সমান মর্যাদার মানুষ।
দীর্ঘদিন মূলধারার ভারতীয় সাহিত্যে ‘আদর্শ ভারতীয় পরিচয়’ তুলে ধরা হলেও সেখানে দলিত মানুষের বাস্তব জীবন খুব কমই স্থান পেয়েছে। অতীতের উপন্যাসগুলোতে নিম্নবর্ণের চরিত্রদের সাধারণত অসহায় ও আত্মসমর্পণকারী হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু দলিত লেখকেরা এই ধারা বদলে দেন। তাঁদের রচনায় দলিত চরিত্র আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, সচেতন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে উঠে আসে।
এই সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হয়েছে টাচেবল/আনটাচেবল সংকলন। এই বইয়ে পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় সমকালীন দলিত লেখকের নির্বাচিত রচনা অনুবাদের মাধ্যমে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলিত সাহিত্যে যে ভারতের ছবি উঠে আসে, তার কিছু অংশ হয়তো অনেক পাঠকের পরিচিত মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এই সাহিত্য দাঁড় করায়, যা বিস্মিত, আলোড়িত, মর্মাহত এবং ভাবতে বাধ্য করে। বর্ণবৈষম্য, সামাজিক বর্জন, আত্মমর্যাদা ও প্রতিরোধের এই মানবিক গল্প শুধু ভারতের নয়; বিশ্বের যেকোনো সমাজের পাঠকের কাছেই তা অর্থবহ। তাই দলিত সাহিত্য শুধু ভারতের ইতিহাস জানার জন্য নয়, মানুষ ও সমাজকে আরও গভীরভাবে বোঝার জন্যও পড়া উচিত।

ভারতীয় সাহিত্যে গত কয়েক দশকে শক্তিশালী যেসব সাহিত্যধারার উত্থান ঘটেছে, তার মধ্যে একটি দলিত সাহিত্য। দলিত সাহিত্য বলতে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন-সংগ্রাম, বঞ্চনা, বৈষম্য এবং আত্মমর্যাদার লড়াইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে। এই সাহিত্য মূলত দলিতদের নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
ভারতকে বুঝতে হলে আমাদের উচিত দলিত সাহিত্য পড়া। কারণ, সমকালীন দলিত সাহিত্য একদিকে শতাব্দীপ্রাচীন বর্ণবৈষম্য ও সামাজিক বর্জনের নির্মম বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করেছে। অন্যদিকে ভারতীয় সাহিত্যে নতুন ভাষা, নতুন প্রকাশভঙ্গি ও নতুন সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিরও সূচনা করেছে।
‘দলিত সাহিত্য’ শব্দটি প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয় ১৯৫৮ সালে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত দলিত সাহিত্য সম্মেলনে। এরপর ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে মারাঠি ভাষায় কবিতা, ছোটগল্প, আত্মজীবনী ও প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে নতুন সাহিত্য আন্দোলনের সূচনা করে। পরে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হওয়ার পর এসব রচনা গোটা ভারতের দলিত সম্প্রদায়ের লেখকদের অনুপ্রাণিত করে।
১৯৯০-এর দশকে হিন্দি, বাংলা ও অন্যান্য ভাষায় দলিত সাহিত্য দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং সর্বভারতীয় সাহিত্য আন্দোলনে পরিণত হয়। মূলধারার প্রকাশনা সংস্থাগুলো দলিত লেখকদের আত্মজীবনী, উপন্যাস, কবিতা ও প্রবন্ধ ইংরেজিতে প্রকাশ করতে শুরু করলে এই সাহিত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করে।
দলিত সাহিত্যকে আলাদা সাহিত্যধারা হিসেবে ধরলে ভুল হবে। এই ধারা দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য, বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। এই সাহিত্য এমন সব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে, যা দীর্ঘদিন মূলধারার সাহিত্যে প্রায় অনুপস্থিত ছিল। বিশেষ করে ভারতের বর্ণব্যবস্থায় দলিতরা দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার। শত শত বছরের এই বাস্তবতাই দলিত সাহিত্যে উঠে এসেছে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে। তাই এই সাহিত্যকে অনেকেই ‘সাক্ষ্যদানের সাহিত্য’-ও বলে থাকেন। সমকালীন দলিত সাহিত্যের প্রথম দিকের রচনাগুলোর বেশির ভাগই ছিল আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা। এ কারণে অনেকেই এই সাহিত্যের সঙ্গে আফ্রিকান-আমেরিকান দাসপ্রথার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা আত্মকথা বা স্মৃতিকথার তুলনা করেন।
হিন্দি ভাষার প্রখ্যাত দলিত লেখক ওমপ্রকাশ বাল্মীকি তাঁর আত্মজীবনী জূঠন-এ লিখেছিলেন, নিজের জীবনের অপমান ও যন্ত্রণা আবার নতুন করে মনে করে লেখা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের ছিল। একইভাবে তুলসীরামের আত্মজীবনী মুরদাহিয়া এবং প্রদন্যা দয়া পাওয়ারের দীর্ঘ কবিতাতেও দলিত জীবনের দুঃখজনক অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।

তবে সাহিত্যসমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, দলিত সাহিত্যকে শুধু ‘নিপীড়নের দলিল’ হিসেবে দেখলে এর সাহিত্যিক মূল্য ও নন্দনতাত্ত্বিক শক্তিকে খাটো করে দেখা হয়। কারণ দলিত সাহিত্য ভারতীয় সাহিত্যে নতুন ভাষা, নতুন প্রকাশভঙ্গি এবং ভিন্ন ধরনের সাহিত্যিক ভাবনারও সূচনা করেছে। গত পাঁচ দশকে দলিত লেখকেরা প্রচলিত সাহিত্যরীতিকে নানা দিক থেকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
অনেক দলিত লেখক সচেতনভাবেই প্রচলিত সাহিত্য-ভাষা বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ব্যবহার করেছেন। তামিল লেখক বামা এমন লেখকদের মধ্যে অন্যতম। ভাষা ও প্রকাশভঙ্গির এই পরিবর্তন দলিত সাহিত্যকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। সাহিত্যিক বাবুরাও বাগুলও তাঁর লেখায় দলিত সাহিত্যের এই নতুন ধারার প্রশংসা করেছেন।
দলিত সাহিত্যে যেমন সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের কথা বলা হয়েছে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের অধিকার আদায়ের গল্পও উঠে এসেছে। যেমন বোজ্জা তারাকামের তেলেগু উপন্যাসে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এক দলিত শ্রমিক পরিবারের সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে, তা এই সাহিত্যের শক্তিরই পরিচয় বহন করে। একই ধরনের মানবিক সংগ্রামের গল্প দলিত সাহিত্যের বিভিন্ন রচনায় ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই গল্পগুলো ভারতীয়দের অভিজ্ঞতার ওপর লেখা হলেও সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
দলিত সাহিত্যকে ‘সামাজিক আন্দোলন’ বললেও ভুল হবে না। এটি সমাজকে বদলে দেওয়ার কথাও বলে। এই সাহিত্য বলছে, বর্ণপ্রথা অতীতের কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক রীতি নয়; এর প্রভাব আজও সমাজে রয়েছে। একইভাবে, ‘দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের স্পর্শ করা যাবে না’ বা ‘অস্পৃশ্যতাও’ এখন আর ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সামাজিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দলিত মানুষদের সমাজের মূলধারা থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
দলিত সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ড. বি. আর. আম্বেদকর। তাঁর মতে, ‘বর্ণপ্রথা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে জন্ম পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নির্ধারণ করা হয়।’ তিনি এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে বলেন, জন্ম নয়, মানুষের পরিচয় ও মর্যাদা নির্ধারণ হবে অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে।
আম্বেদকরের সমতার ধারণা, মর্যাদা কিংবা ন্যায়বিচারের দর্শন অনেক দলিত লেখককে প্রভাবিত করেছে। তাঁদের লেখায় বারবার উঠে এসেছে একটি দাবি—দলিতরাও সমান মর্যাদার মানুষ।
দীর্ঘদিন মূলধারার ভারতীয় সাহিত্যে ‘আদর্শ ভারতীয় পরিচয়’ তুলে ধরা হলেও সেখানে দলিত মানুষের বাস্তব জীবন খুব কমই স্থান পেয়েছে। অতীতের উপন্যাসগুলোতে নিম্নবর্ণের চরিত্রদের সাধারণত অসহায় ও আত্মসমর্পণকারী হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু দলিত লেখকেরা এই ধারা বদলে দেন। তাঁদের রচনায় দলিত চরিত্র আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, সচেতন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে উঠে আসে।
এই সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হয়েছে টাচেবল/আনটাচেবল সংকলন। এই বইয়ে পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় সমকালীন দলিত লেখকের নির্বাচিত রচনা অনুবাদের মাধ্যমে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলিত সাহিত্যে যে ভারতের ছবি উঠে আসে, তার কিছু অংশ হয়তো অনেক পাঠকের পরিচিত মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এই সাহিত্য দাঁড় করায়, যা বিস্মিত, আলোড়িত, মর্মাহত এবং ভাবতে বাধ্য করে। বর্ণবৈষম্য, সামাজিক বর্জন, আত্মমর্যাদা ও প্রতিরোধের এই মানবিক গল্প শুধু ভারতের নয়; বিশ্বের যেকোনো সমাজের পাঠকের কাছেই তা অর্থবহ। তাই দলিত সাহিত্য শুধু ভারতের ইতিহাস জানার জন্য নয়, মানুষ ও সমাজকে আরও গভীরভাবে বোঝার জন্যও পড়া উচিত।
.png)

১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় মঈদুল হাসানের বই ‘মূলধারা ৭১’। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এর দ্বিতীয় সংস্করণের সপ্তম মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বইটির গুরুত্ব কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে এটি আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে—‘গোপাল ভাঁড়’ কার্টুনটি নাকি শেষ হয়ে গেছে। ‘গোপাল মারা গেছে’, ‘শৈশব শেষ হয়ে গেল’—এমন সব কথা লিখে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন ভক্তরা। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক—সব জায়গায় একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে দেখা যায়, গোপাল মৃত্যুশয্যায় শুয়ে আছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
শুধু শরীর নয়, মনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা হতাশা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২০ ঘণ্টা আগে
বিখ্যাত ‘গ্রেট মাইগ্রেশন’ সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন ভ্রমণপিপাসু তানভীর অপু। এটি মূলত সবুজ ঘাস ও পানির সন্ধানে লাখ লাখ ওয়াইল্ডবিস্ট এবং জেব্রার এক দেশ থেকে আরেক দেশে দলবেঁধে ছুটে চলার বার্ষিক মহাযাত্রা। বিশেষ করে মারা নদী পার হওয়ার সময় বন্যপ্রাণীদের জীবন-মৃত্যুর সেই রোমাঞ্চকর লড়াই তিনি খুব
২৮ জুলাই ২০২৬