স্ট্রিম ডেস্ক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে ১৪ দফার এই চুক্তি কার্যকর হয়েছে অবিলম্বে।
এর মাধ্যমে খুলছে হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ উঠায় বহির্বিশ্বে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে ইরান। তবে চুক্তির শর্ত প্রকাশের পর থেকে আলোচনায়– কে বেশি সুবিধা আদায় করে নিয়েছে, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র?
এই সমঝোতাকে অনেকেই শুধু যুদ্ধবিরতির দলিল হিসেবে দেখছেন। কিন্তু ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটি শুধু সংঘাত থামানোর চুক্তি নয়। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা দেশটির জন্য এই চুক্তি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিয়ে এসেছে।
সবচেয়ে বড় লাভ হলো যুদ্ধের সমাপ্তি। চুক্তির প্রথম ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা বা হুমকি থেকেও বিরত থাকবে। কয়েক মাসের সংঘাতের পর এটি ইরানের জন্য বড় স্বস্তি, কারণ যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশটির অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ সচল হওয়ায় ইরানের তেল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি সহজ হবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে।
অর্থনৈতিক সুবিধার জায়গাটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। চুক্তিতে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। যদিও এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ইরানে বিনিয়োগ করতে পারবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তবে, ইরানের জন্য সুবিধাজনক হবে কিনা তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা দেশকে কেন বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে, তার ওপর।
সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সুবিধাগুলোর একটি হলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। বছরের পর বছর ধরে এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, তেল রপ্তানি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সহজ হবে।
ইরানের বিদেশে আটকে থাকা বা জব্দ করা সম্পদও ধীরে ধীরে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আটকে রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ ফেরত পাওয়া গেলে সরকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তা ব্যবহার করতে পারবে।
চুক্তির আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান অভিযোগ করে আসছিল, ওয়াশিংটন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। নতুন চুক্তিতে সেই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে এসব সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চুক্তিটিকে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ বলা হয়েছে, অর্থাৎ ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলে, তবেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো কার্যকর হবে। তারপরও ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বহু বছরের বিচ্ছিন্নতা ও চাপের পর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে ১৪ দফার এই চুক্তি কার্যকর হয়েছে অবিলম্বে।
এর মাধ্যমে খুলছে হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ উঠায় বহির্বিশ্বে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে ইরান। তবে চুক্তির শর্ত প্রকাশের পর থেকে আলোচনায়– কে বেশি সুবিধা আদায় করে নিয়েছে, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র?
এই সমঝোতাকে অনেকেই শুধু যুদ্ধবিরতির দলিল হিসেবে দেখছেন। কিন্তু ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটি শুধু সংঘাত থামানোর চুক্তি নয়। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা দেশটির জন্য এই চুক্তি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিয়ে এসেছে।
সবচেয়ে বড় লাভ হলো যুদ্ধের সমাপ্তি। চুক্তির প্রথম ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা বা হুমকি থেকেও বিরত থাকবে। কয়েক মাসের সংঘাতের পর এটি ইরানের জন্য বড় স্বস্তি, কারণ যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশটির অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ সচল হওয়ায় ইরানের তেল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি সহজ হবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে।
অর্থনৈতিক সুবিধার জায়গাটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। চুক্তিতে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। যদিও এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ইরানে বিনিয়োগ করতে পারবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তবে, ইরানের জন্য সুবিধাজনক হবে কিনা তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা দেশকে কেন বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে, তার ওপর।
সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সুবিধাগুলোর একটি হলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। বছরের পর বছর ধরে এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, তেল রপ্তানি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সহজ হবে।
ইরানের বিদেশে আটকে থাকা বা জব্দ করা সম্পদও ধীরে ধীরে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আটকে রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ ফেরত পাওয়া গেলে সরকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তা ব্যবহার করতে পারবে।
চুক্তির আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান অভিযোগ করে আসছিল, ওয়াশিংটন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। নতুন চুক্তিতে সেই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে এসব সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চুক্তিটিকে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ বলা হয়েছে, অর্থাৎ ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলে, তবেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো কার্যকর হবে। তারপরও ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বহু বছরের বিচ্ছিন্নতা ও চাপের পর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হওয়া সত্ত্বেও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যতদিন ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হচ্ছে, ততদিন আমরা দক্ষিণ লেবানন ছেড়ে যাব না।’
৩ ঘণ্টা আগে
‘মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করেছে দেশটির যুদ্ধ বিভাগ। এ সামরিক শাখাটির পুরোনো নাম–‘মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ড’ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নাম থেকে ‘ইন্দো’ শব্দটি বাদ দেওয়া এবং কমান্ডটির ওয়েবসাইটে ভারতের ‘ভুল’ মানচিত্রের প্রদর্শনী নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
৮ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির পর নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযোগ, এই চুক্তি করদাতাদের বিলিয়ন ডলার অপচয় করবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণে খুব একটা কাজে আসবে না। খবর আলজাজিরার।
৯ ঘণ্টা আগে
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। আগামী অক্টোবর মাসে এই নির্বাচন হবে। খবর আলজাজিরার।
১১ ঘণ্টা আগে