ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

দেড় মাসে সরানো গেছে মাত্র ১৬.৫% ধ্বংসস্তূপ, হিসাব নেই নিখোঁজের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার লা গুইরায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনের ড্রোনচিত্র। ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এক মাস ১০ দিনে ৬ হাজার ১২৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটি। সোমবার (৩ আগস্ট) দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৬১ হাজার মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, গত প্রায় দেড় মাসে ধ্বংসস্তূপের ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ সরানো গেছে। তবে বাকি ধ্বংসস্তূপ সরাতে কত দিন লাগতে পারে তা জানাননি তিনি।

এদিকে, ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পের পর নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। দেশটির সরকার একবারও আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানায়নি। তবে প্রথমদিকে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছিল, নিখোঁজের সংখ্যা ৫০ হাজারের মতো হতে পারে। যদিও এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা ১০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

গত ২৪ জুন পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির উপকূলীয় লা গুইরা রাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস। এতে ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও ১৬ হাজার ২০০টির বেশি স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। লা গুইরা ও কারাকাসে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।

লা গুইরা রাজ্যের গভর্নর হোসে আলেহান্দ্রো তেরান স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে সম্প্রতি বলেছেন, তার রাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

যদিও ওই সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। উদ্ধারকারী দল ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের খোঁজে এখনও ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েছে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সরকার ও সামরিক বাহিনী উদ্ধার কার্যক্রমে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়নি।

বিশ্বব্যাংকের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। তবে দেশটির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মাদুরোর সময়ে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও এখনো বহাল রয়েছে। এতে অর্থনৈতিকভাবে আগে থেকেই দুর্বল দেশটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং পুনর্গঠনের অর্থ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত