ফিরে দেখা
হুমায়ূন শফিক

ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানে স্মরণীয় ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেছিলেন এক দফা। এটিকে বলা হয়েছিল,শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত অবসান এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা।
দুই বছর পরে গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের পর্যালোচনা, এক দফা ঘিরে যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, তার মধ্যে শুধু শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়েছে। তবে দেড় যুগের বেশি জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন অধরাই রয়ে গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার স্ট্রিমকে বলছিলেন, ৩৪ জুলাই বা ৩ আগস্টের সেই এক দফা ছিল দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য। ফ্যাসিবাদবিরোধী জনতার হয়ে এই দফা ঘোষণা করেছিলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, কেবল সরকার পতন নয়, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের ঘোষণা ছিল এই দফায়, যা ‘অমুক তুই কবে যাবি’–কে ছাপিয়ে ব্যবস্থা বদলের ইশতেহার হয়েছিল। দুর্ভাগ্য, শেখ হাসিনার পতন হলেও তাঁর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা অটুট।
শহীদ মিনারে যখন জনতার গর্জন চলছিল, তখন ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আরিফ সোহেল। পরে তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’ গঠন করেন। আরিফ সোহেল স্ট্রিমকে শুনিয়েছেন, সেই সময়ে তাঁর আদালতের হাজতখানার স্মৃতি।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ক্যাম্পাসে সক্রিয় থাকলেও, ঢাকার সেতু ভবনে হামলার মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার এবং ছয় দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ৩ আগস্ট রিমান্ড শেষে সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয়।’
২ আগস্ট আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই– ৩ আগস্ট এক দফা ঘোষণা করব। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, এক দফা ঘোষণার সিচুয়েশন যথেষ্ট ম্যাচিউর। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখপাত্র, এনসিপি
আরিফ সোহেল জানান, হাজতে বসেই তিনি দেখলেন– একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে আন্দোলনকারীদের। কাউকে কাউকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তিনিও জেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দীর্ঘ মেয়াদে বন্দি থাকার প্রস্তুতির মাঝেই আরিফ সোহেল আন্দোলন সচল রাখার ছক দাঁড় করান।
তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের সঙ্গে বাইরে থাকা পরিবারের মাধ্যমে কেনাকাটার প্রস্তুতির পাশাপাশি বাবার কাছে একটি চিরকুট পাঠাই। তাতে লিখেছিলাম– আন্দোলন যাতে যেকোনো মূল্যে চলমান থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের কাছে এর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম।’
আন্দোলনকারী জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ জানান, সারা দেশের মানুষের মতো তিনিও মুখিয়ে ছিলেন ছাত্রনেতারা কী কর্মসূচি দেন, তা জানতে। তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের এক দফা ঘোষণা তখন না এলে আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হতো। তবে শেখ হাসিনার বিদায় ততক্ষণে সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ, আন্দোলনকারী এবং দেশের অসংখ্য মানুষের আর ঘরে ফেরার সুযোগ ছিল না। ৫ আগস্ট না ঘটলে সবার অনিবার্য ঠিকানা হতো আয়নাঘর কিংবা কবর।
হাজতখানার স্মৃতি হাতড়ে আরিফ সোহেল জানান, হঠাৎ পুলিশের এক সদস্য তার হাতের কাগজ এবং মুখের দিকে তাকাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় জামিন কীভাবে?’ দুবার বলে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সদস্য।
হাজত থেকে বের হয়ে সিএমএম কোর্টের ডেস্কে বিএনপি নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে পান আরিফ সোহেল। সেখানে আরিফকে দেখিয়ে এ্যানি পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে রসিকতা করেন, ‘ওরে ছাড়লেন কেন? ও তো এখনই শহীদ মিনারে যাবে।’
৩ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এনসিপির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এক দফার ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। ওইদিন আমরা ডিবি থেকে ছাড়া পেয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মানুষের সেন্টিমেন্ট বোঝার চেষ্টা করছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলন পরিচালনা করা রিফাত, মাসুদ, কাদের ও মাহিনদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বোঝার চেষ্টা করি– আসলেই বাইরে কী হচ্ছিল এবং কীভাবে ওরা আন্দোলন পরিচালনা করছিল? এরপর ২ আগস্ট আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই– ৩ আগস্ট এক দফা ঘোষণা করব। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, এক দফা ঘোষণার সিচুয়েশন যথেষ্ট ম্যাচিউর।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যত বাধা বা রিস্ক থাকুক, তা ডিঙিয়ে ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে আমরা এক দফা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিলাম। এরপর তো নাহিদ ইসলামের কণ্ঠে ঐতিহাসিক সেই ঘোষণা আসল। আমি অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এক দফার মূল ছিল– শেখ হাসিনার পতন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ। খুব সচেতনভাবেই আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে বিভিন্ন ধরনের কালাকানুনের মাধ্যমে যে কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা রাখা যাবে না। এটা রাখলে যে কেউই ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারে। এক দফা থেকেই পরে এই রাষ্ট্রটাকে পুনর্নির্মাণ বা বিনির্মাণের এক ধরনের প্রস্তাব আমরা নিয়ে আসি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই সংস্কার এখন সুদূরপরাহত।’
এক দফাকে নিজের রাজনৈতিক ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে দেখেন তৎকালীন সমন্বয়ক আরিফ সোহেল, ‘আন্দোলন চলাকালেই বুঝেছিলাম– কোটা সংস্কার দিয়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নিরাময় সম্ভব নয়। এই কারণে আন্দোলনের নাম হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার একটাই দাবি, এক দফা। কারণ, এখানেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত রয়েছে।’
নাঈমের ভাষ্যে, আমরা এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হতে পারিনি। তবে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা এখন কথা বলতে পারছি। গণতান্ত্রিক পরিবেশ খানিকটা ফিরে এসেছে। আয়নাঘর কিংবা গুমের ঘটনা আগের মতো নেই। কিন্তু আমাদের নেতাদের একাংশের লোভ ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত অর্জনে পৌঁছাতে পারিনি।
আরিফ সোহেল মনে করেন, শেখ হাসিনার রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথগ্রহণের মাধ্যমে পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোকে বাস্তবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ছাত্র নেতৃত্বের একাংশ সরকারে গিয়ে ভেতর থেকে এবং অন্য অংশ বাইরে থেকে রাজপথে কাজ করার যে কৌশল নিয়েছিল, তা দিন শেষে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ভুল কৌশল ছিল এবং দিন শেষে ক্ষমতা বা ফ্যাসিবাদী ক্ষমতার সঙ্গে একপ্রকার আপস হয়েছে। গণক্ষমতা নির্মাণের দিকে আমরা যেতে পারিনি। অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়ে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর অংশ হয়, সঙ্গে ছাত্রনেতৃত্বকেও নেয়। এখন দেখা গেল, সেই কাঠামোকে কবুল এবং সাহাবুদ্দিনকে ধরে নিয়েই রাজনীতি চলছে।’
তবে আরিফ সোহেল মনে করেন, এক দফা জনগণের রক্তের ভেতরের দাবি। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর আমূল গণতান্ত্রিক রূপান্তর জনগণই চেয়েছিল এবং ছাত্রনেতৃত্ব তা মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল মাত্র। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই তাই সমাজ থেকে আবার গড়ে উঠবে। বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা পাবে।

ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানে স্মরণীয় ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেছিলেন এক দফা। এটিকে বলা হয়েছিল,শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত অবসান এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা।
দুই বছর পরে গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের পর্যালোচনা, এক দফা ঘিরে যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, তার মধ্যে শুধু শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়েছে। তবে দেড় যুগের বেশি জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন অধরাই রয়ে গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার স্ট্রিমকে বলছিলেন, ৩৪ জুলাই বা ৩ আগস্টের সেই এক দফা ছিল দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য। ফ্যাসিবাদবিরোধী জনতার হয়ে এই দফা ঘোষণা করেছিলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, কেবল সরকার পতন নয়, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের ঘোষণা ছিল এই দফায়, যা ‘অমুক তুই কবে যাবি’–কে ছাপিয়ে ব্যবস্থা বদলের ইশতেহার হয়েছিল। দুর্ভাগ্য, শেখ হাসিনার পতন হলেও তাঁর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা অটুট।
শহীদ মিনারে যখন জনতার গর্জন চলছিল, তখন ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আরিফ সোহেল। পরে তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’ গঠন করেন। আরিফ সোহেল স্ট্রিমকে শুনিয়েছেন, সেই সময়ে তাঁর আদালতের হাজতখানার স্মৃতি।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ক্যাম্পাসে সক্রিয় থাকলেও, ঢাকার সেতু ভবনে হামলার মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার এবং ছয় দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ৩ আগস্ট রিমান্ড শেষে সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয়।’
২ আগস্ট আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই– ৩ আগস্ট এক দফা ঘোষণা করব। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, এক দফা ঘোষণার সিচুয়েশন যথেষ্ট ম্যাচিউর। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখপাত্র, এনসিপি
আরিফ সোহেল জানান, হাজতে বসেই তিনি দেখলেন– একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে আন্দোলনকারীদের। কাউকে কাউকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তিনিও জেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দীর্ঘ মেয়াদে বন্দি থাকার প্রস্তুতির মাঝেই আরিফ সোহেল আন্দোলন সচল রাখার ছক দাঁড় করান।
তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের সঙ্গে বাইরে থাকা পরিবারের মাধ্যমে কেনাকাটার প্রস্তুতির পাশাপাশি বাবার কাছে একটি চিরকুট পাঠাই। তাতে লিখেছিলাম– আন্দোলন যাতে যেকোনো মূল্যে চলমান থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের কাছে এর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম।’
আন্দোলনকারী জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ জানান, সারা দেশের মানুষের মতো তিনিও মুখিয়ে ছিলেন ছাত্রনেতারা কী কর্মসূচি দেন, তা জানতে। তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের এক দফা ঘোষণা তখন না এলে আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হতো। তবে শেখ হাসিনার বিদায় ততক্ষণে সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ, আন্দোলনকারী এবং দেশের অসংখ্য মানুষের আর ঘরে ফেরার সুযোগ ছিল না। ৫ আগস্ট না ঘটলে সবার অনিবার্য ঠিকানা হতো আয়নাঘর কিংবা কবর।
হাজতখানার স্মৃতি হাতড়ে আরিফ সোহেল জানান, হঠাৎ পুলিশের এক সদস্য তার হাতের কাগজ এবং মুখের দিকে তাকাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় জামিন কীভাবে?’ দুবার বলে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সদস্য।
হাজত থেকে বের হয়ে সিএমএম কোর্টের ডেস্কে বিএনপি নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে পান আরিফ সোহেল। সেখানে আরিফকে দেখিয়ে এ্যানি পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে রসিকতা করেন, ‘ওরে ছাড়লেন কেন? ও তো এখনই শহীদ মিনারে যাবে।’
৩ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এনসিপির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এক দফার ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। ওইদিন আমরা ডিবি থেকে ছাড়া পেয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মানুষের সেন্টিমেন্ট বোঝার চেষ্টা করছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলন পরিচালনা করা রিফাত, মাসুদ, কাদের ও মাহিনদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বোঝার চেষ্টা করি– আসলেই বাইরে কী হচ্ছিল এবং কীভাবে ওরা আন্দোলন পরিচালনা করছিল? এরপর ২ আগস্ট আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই– ৩ আগস্ট এক দফা ঘোষণা করব। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, এক দফা ঘোষণার সিচুয়েশন যথেষ্ট ম্যাচিউর।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যত বাধা বা রিস্ক থাকুক, তা ডিঙিয়ে ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে আমরা এক দফা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিলাম। এরপর তো নাহিদ ইসলামের কণ্ঠে ঐতিহাসিক সেই ঘোষণা আসল। আমি অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এক দফার মূল ছিল– শেখ হাসিনার পতন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ। খুব সচেতনভাবেই আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে বিভিন্ন ধরনের কালাকানুনের মাধ্যমে যে কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা রাখা যাবে না। এটা রাখলে যে কেউই ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারে। এক দফা থেকেই পরে এই রাষ্ট্রটাকে পুনর্নির্মাণ বা বিনির্মাণের এক ধরনের প্রস্তাব আমরা নিয়ে আসি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই সংস্কার এখন সুদূরপরাহত।’
এক দফাকে নিজের রাজনৈতিক ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে দেখেন তৎকালীন সমন্বয়ক আরিফ সোহেল, ‘আন্দোলন চলাকালেই বুঝেছিলাম– কোটা সংস্কার দিয়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নিরাময় সম্ভব নয়। এই কারণে আন্দোলনের নাম হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার একটাই দাবি, এক দফা। কারণ, এখানেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত রয়েছে।’
নাঈমের ভাষ্যে, আমরা এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হতে পারিনি। তবে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা এখন কথা বলতে পারছি। গণতান্ত্রিক পরিবেশ খানিকটা ফিরে এসেছে। আয়নাঘর কিংবা গুমের ঘটনা আগের মতো নেই। কিন্তু আমাদের নেতাদের একাংশের লোভ ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত অর্জনে পৌঁছাতে পারিনি।
আরিফ সোহেল মনে করেন, শেখ হাসিনার রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথগ্রহণের মাধ্যমে পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোকে বাস্তবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ছাত্র নেতৃত্বের একাংশ সরকারে গিয়ে ভেতর থেকে এবং অন্য অংশ বাইরে থেকে রাজপথে কাজ করার যে কৌশল নিয়েছিল, তা দিন শেষে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ভুল কৌশল ছিল এবং দিন শেষে ক্ষমতা বা ফ্যাসিবাদী ক্ষমতার সঙ্গে একপ্রকার আপস হয়েছে। গণক্ষমতা নির্মাণের দিকে আমরা যেতে পারিনি। অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়ে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর অংশ হয়, সঙ্গে ছাত্রনেতৃত্বকেও নেয়। এখন দেখা গেল, সেই কাঠামোকে কবুল এবং সাহাবুদ্দিনকে ধরে নিয়েই রাজনীতি চলছে।’
তবে আরিফ সোহেল মনে করেন, এক দফা জনগণের রক্তের ভেতরের দাবি। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর আমূল গণতান্ত্রিক রূপান্তর জনগণই চেয়েছিল এবং ছাত্রনেতৃত্ব তা মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল মাত্র। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই তাই সমাজ থেকে আবার গড়ে উঠবে। বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা পাবে।

বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল ছাড়া ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, যতদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগও থাকবে।
২০ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, 'আগের ফ্যাসিস্ট যা করেছে, এই সরকারও তাই করছে।'
২১ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ের প্রতিনিধি না থাকা নজিরবিহীন এবং সরকারের জবাবদিহির অভাবের প্রতিফলন।
২১ ঘণ্টা আগে
নভোকালচার নামে সংগঠনটির পরিচালক আবার রাবি ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতা এই পোস্টারে রাকসুর অর্থায়নের অভিযোগও তুলেছেন।
০২ আগস্ট ২০২৬