leadT1ad

র‌্যাবের নতুন নাম এসআইএফ, আসছে পোশাকেও পরিবর্তন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সংগৃহীত ছবি

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এলিট এই ফোর্সের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

উপদেষ্টা বলেন, ‘র‍্যাব পুনর্গঠনে জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজকে সভাপতি করে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির র‌্যাবের নতুন নাম সুপারিশ করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ। প্রধান উপদেষ্টা সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এটি আজকে থেকেই কার্যকর হবে। এই বাহিনীটির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হবে। এ বিষয়ে সরকারি একটা অর্ডার হবে।’

নাম পরিবর্তন করে কাজের কী পরিবর্তন আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যদি তাদের দেড় বছর আগের কাজের মান দেখেন আর এখন দেখেন, সেটার মধ্যে পরিবর্তন অনেক এসেছে। অনেকের আশা ছিল র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করা হোক, তাই নতুন নামকরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন হয়েছে। খুব দ্রুত তাদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।’

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনী বলেন, ‘মানুষ ওই (র‌্যাব) নামটাকে খারাপ মনে করত, এজন্য নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’

২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি সরকারের আমলে মহান স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) আত্মপ্রকাশ করে। যদিও সূচনালগ্নে এই বাহিনীর নাম ছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম বা র‌্যাট। বর্তমানে সারা দেশে সংস্থাটির ১৫টি ব্যাটালিয়ন কাজ করছে।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র‌্যাব ও র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে র‌্যাবের আলোচিত সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর যে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশও রয়েছে। র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে আসছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে র‌্যাবের অতীত কার্যক্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করে এর প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছে বিএনপিও। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ র‌্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এই বাহিনীকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেন।

২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পুলিশের এই বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়। বিএনপির আমলে গঠিত এই বাহিনীকে সংস্কার না করে কেন বিলুপ্ত করতে চায়—এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ তখন বলেছিলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন একেবারে গ্যাংগ্রিন হয়ে গেলে কেটে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না, এখানেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত