রুশ ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ

ওমান উপকূলের বিস্তীর্ণ সমুদ্রজুড়ে ছড়াল তেল, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৫৬
ক্যামেরুনের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’। ছবি: রয়টার্স

ওমানের উপকূলে একটি রাশিয়ান তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়ার তেল বহনকারী ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই তেল ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (১০ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্সের।

২৭৪ মিটার এই ট্যাংকারটিতে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ জুন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর মুকাল্লার কাছে জাহাজটির নাবিকেরা সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, জাহাজটির ভেতরে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তবে জাহাজটি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওমানের কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে গতকালই প্রথম প্রকাশ্যে কথা বলেছে ওমান। দেশটির সরকারি পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এই তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে তারা।

গত বছর হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জকে একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করা হয়। এই এলাকায় আরব সাগরের হাম্পব্যাক তিমি ও সকোত্রা করমোর্যান্টসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল।

ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলের আস্তরণ প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকা দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব দিকে মূল ভূখণ্ডের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। উপকূলের সবচেয়ে কাছের তীর থেকে আনুমানিক সাত কিলোমিটার দূরে রয়েছে। তবে ওই এলাকায় থাকা পানি শোধনাগার, পর্যটন স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো নিয়ে আপাতত উদ্বেগের কারণ নেই।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস অবশ্য গত সপ্তাহে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছিল, তেলের আস্তরণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ধরনের বড় আকারের তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিবেশগত অণুজীববিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তির অধ্যাপক টনি গুতিয়েরেজ। তাঁর মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিমান থেকে রাসায়নিক পদার্থ ছিটানোর পাশাপাশি তেল উপকূলে পৌঁছানো কিংবা সমুদ্রতলে যাওয়ার আগে তা সংগ্রহ করতে বুমসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা প্রয়োজন।

গুতিয়েরেজ রয়টার্সের বরাতে জানান, তেল যদি উপকূল থেকে দূরে সমুদ্রে আটকে রাখা যায়, তাহলে এর ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হবে। কিন্তু তা যদি উপকূলে পৌঁছে যায়, তাহলে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর ক্ষতির মাত্রা অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের তেলদূষণের প্রভাব বহু বছর ধরে থেকে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৮৯ সালে আলাস্কায় ঘটে যাওয়া ‘এক্সন ভ্যালডিজ’ তেলদূষণের ঘটনা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ওই দুর্ঘটনার ১০ বছর পরও সেখানে তেলের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গিয়েছিল।

রয়টার্সের স্যাটেলাইট চিত্র এবং জাহাজ চলাচলবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্যাংকারটি থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল গত মাসের শেষ দিকেও বিস্তৃত হচ্ছিল। এ বিষয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা স্কাইট্রুথের প্রধান নির্বাহী বলেন, দুর্ঘটনাটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে চললেও বড় ধরনের দূষণ ঠেকাতে জাহাজটির বাকি তেল সরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারোলিন বেজেঙ্গি গত এপ্রিল মাসে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিয়েস্ক থেকে তেল বোঝাই করে। এরপর মে মাসের শেষ দিকে এটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে নির্মিত এই ট্যাংকারটি রাশিয়ার ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর পুরোনো তেলবাহী জাহাজগুলোর একটি। এসব জাহাজের পশ্চিমা বিমা সুবিধা নেই এবং প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে বিভিন্ন দেশের পতাকা ব্যবহার করে চলাচল করে। জাহাজটির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত