হরমুজ নিয়ে সমঝোতার আশা ফিকে, ক্ষতিপূরণ চান ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান-ওমান। তবে নতুন শর্ত দিয়ে আলোচনাকে জটিল করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের কাছে যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর মধ্যে বেসামরিক বিক্ষোভকারী ও মধ্যপ্রাচ্যে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারও থাকবে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে, আমার মনে হয় ইরানেরই সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।’

ইরানের পক্ষ থেকে এর আগে শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি হলেও পরে তা ভেঙে যায়।

ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবির পর ট্রাম্প এই পাল্টা দাবি করলেন। পাল্টা দাবিতে লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির জন্যও ইরানকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন ট্রাম্প।

এ ছাড়া, ২০০০ সালে ইয়েমেনে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ হামলায় নিহত ১৭ মার্কিন নাবিকের পরিবারের জন্যও ইরানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে ওই হামলার জন্য তখন আল-কায়েদাকে দায়ী করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ নিয়ে এগোচ্ছে ইরান-ওমান আলোচনা

ট্রাম্পের নতুন এই দাবির আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আলোচনা ‘সুষ্ঠু ও গঠনমূলকভাবে’ এগোচ্ছে। দুই পক্ষ জাহাজ চলাচলের রুটের মানচিত্র নিয়েও সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে কিছু কারিগরি বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

নিরাপদ নৌচলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা, সামুদ্রিক সেবা ও অপরাধ দমনের মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব সেবার জন্য অর্থ পরিশোধের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলে জানান বাঘাই।

তবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সোমবার ট্রাম্পের নতুন এই দাবির পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।

চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপরও

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় উচ্চ জ্বালানি মূল্যও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য বিল কিটিং সিএনএনকে বলেন, পরিস্থিতি এখন ‘আত্মসমর্পণের শুরুর’ মতো দেখাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, বাস্তবতা ধীরে ধীরে সামনে আসছে।

জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও জুলাইয়ে ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ আরোপ করে। এর পরপরই দেশটিতে কয়েকদফা টানা হামলা চালায় ওয়াশিংটন। তেহরান এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে দাবি করে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাসের সামরিক তৎপরতা এবং জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের হামলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। যদিও ট্রাম্প সোমবারও দাবি করেন, প্রণালিটি খোলা রয়েছে এবং বর্তমানে এর নিয়ন্ত্রণ শুধু মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে।

ফলে একদিকে ইরান-ওমানের মধ্যে হরমুজ নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ট্রাম্পের নতুন ক্ষতিপূরণ দাবিতে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এতে অচলাবস্থা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দ্রুত খুলে দেওয়ার আশা আরও ফিকে হয়ে পড়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত