ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু, গুরুত্ব যেসব বিষয়ে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইসলামাবাদে ত্রপক্ষীয় বৈঠক শুরু

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই আলোচনা চলছে বলে জানায় আল জাজিরা।

আলোচনা শুরুর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন দেশ দুটির প্রতিনিধি দল। এর আগে, আলোচনায় বসতে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছান উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনায় তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। আর ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।

যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে শান্তি বৈঠকে

বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে তেহরানের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি না পেলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে না তারা।

লেবানন পরিস্থিতি বৈঠকের অন্যতম প্রধান ইস্যু। মার্চ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অভিযানকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির বাইরে বলে মনে করলেও ইরান তা মানতে নারাজ।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইরান চায়, তাদের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা হোক এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ছাড় দিলে তবেই তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে প্রস্তুত।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ইরান এ অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও ট্রানজিট ফি আরোপের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, কোনো ধরনের বাধা বা শুল্ক ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকুক।

এ ছাড়া, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অবস্থান জানায়নি ওয়াশিংটন।

পারমাণবিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র তা একেবারেই নাকচ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়টিকে আলোচনাতীত বলে উল্লেখ করেছেন।

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে চায়। তবে তেহরান জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে তারা কোনো আপস করবে না।

এ ছাড়া ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ এবং আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা চাইছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে। শর্ত মানা না হলে যুদ্ধ আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যেভাবে চলবে আলোচনা

শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন। মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে বসবেন, আর পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বার্তা আদান-প্রদান করবেন।

সম্পর্কিত