ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবার খেয়ে ১,৭০০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

আঞ্চলিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
আঞ্চলিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলে সরকারের বিনা মূল্যের খাবার খেয়ে তিন দিনে ১,৭০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্য জাভার একটি স্কুলের অধ্যক্ষ এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল মধ্য জাভার লাসেমের একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যের খাবার খাওয়ার পর ৭৫২ জন শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জুহারতুতিক বলেন, শিক্ষার্থীদের মুরগি দেওয়া হয়েছিল। ভোর ৩টায় এসব খাবার রান্না করা হয়। পরে দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। আক্রান্ত বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে পরে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মঙ্গলবার পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রান্নাঘরটি বুধবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার পূর্ব জাভার নগানজুক শহরে আরও ৪৯ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রার আগাম অঞ্চলে ২৩৭ জন খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের বরাতে সংসদ সদস্য চার্লস হনোরিস এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এটি পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতা। গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ায় প্রায় ৫০ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন।

শিশুদের পুষ্টিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর এই বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচি চালু করেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারের ১২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে।

তবে শুরু থেকে নানা সমস্যায় পড়েছে কর্মসূচিটি। দুর্নীতির অভিযোগ, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং খাবার খেয়ে ব্যাপক মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে পৌঁছানোয় প্রায়ই খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কর্মসূচিটির তদারককারী জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিয়োনো সংসদীয় শুনানিতে বলেছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে।

জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়ার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই কর্মসূচি নিয়ে সন্তুষ্ট। জরিপে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনাকে অসন্তুষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত