পাকিস্তানি নয়, ককরোচ পার্টির ৯৪% অনুসারীই ভারতীয়: প্রতিষ্ঠাতা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১২: ০০
অভিজিৎ দীপকের শেয়ার করা স্ক্রিন রেকর্ড থেকে নেওয়া ছবি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে আলোচনায় আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) অধিকাংশ অনুসারীকে পাকিস্তানি বলার প্রতিবাদ করেছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি জানিয়েছেন, ব্যঙ্গাত্মক এই সংগঠনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ হওয়ার আগে ৯৪ শতাংশের বেশি অনুসারী ভারতের। খবর হিন্দুস্থান টাইমস।

ভারতের সংসদীয় ও সংখ্যালঘুবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সম্প্রতি সিজেপির অনুসারীদের ঘুরিয়ে পাকিস্তানি বলেন। এর আগে আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সিজেপির সমালোচনা করে বলেছিলেন, ব্যঙ্গাত্মক দলটির অর্ধেক অনুসারী পাকিস্তান থেকে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশটির কিছু তরুণকে ‘ককরোচ’ বলায় শুরু বিতর্কের জেরে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মকভাবে দলটির যাত্রা শুরু হয়।

মজার ছলে শুরু হওয়া দলটি দ্রুত অনলাইনে ব্যাপক সমর্থন পেতে থাকে। অনেকেই নিজেদের গর্বের সঙ্গে ‘ককরোচ’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে সিজেপি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এমনকি ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজেপিকেও ছাড়িয়ে যায়।

তবে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ তিনি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট নিয়েও করেন।

সিজেপির অনুসারী নিয়ে যা জানালেন দীপক

শনিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে অভিজিৎ দীপক সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের কিছু পরিসংখ্যানের স্ক্রিন রেকর্ডিং শেয়ার করেন। তাতে দেখা যায়, ২২ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটিতে ১.৬ বিলিয়ন ভিউ এবং ১ কোটি ২০ লাখ নতুন অনুসারী যুক্ত হয়েছে।

আরও দেখা যায়, প্ল্যাটফর্‌মটিতে দলটির অনুসারীদের ভেতর ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ ভারত থেকে, ১ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে, দশমিক ৭ শতাংশ যুক্তরাজ্য থেকে এবং কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দশমিক ৬ শতাংশ করে অনুসারী রয়েছে।

দীপক লেখেন, ৯৪ শতাংশেরও বেশি দর্শক ভারত থেকে। তাহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু কেন ভারতীয় তরুণদের পাকিস্তানি বলে আখ্যা দিচ্ছেন? স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের তথ্য ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার আগের।

এর আগে কিরেন রিজিজু সিজেপি বা অন্য কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ না করে পাকিস্তান এবং ‘জর্জ সোরোস গ্যাং’ থেকে সামাজিক মাধ্যমে অনুসারী চাওয়া লোকদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

রিজিজু বলেন, ভারতের নিজস্ব বিপুল জনসংখ্যা এবং অত্যন্ত উদ্যমী তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা প্রকৃত ও মূল্যবান অনুসারী হতে পারে। ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চাওয়ার প্রয়োজন নেই।

আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, সিজেপির অনুসারীদের ৪৯ শতাংশ পাকিস্তান থেকে, আর মাত্র ৯ শতাংশ ভারত থেকে।

এদিকে, ভারতের বিরোধী শিবিরে সিজেপি ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। মহুয়া মৈত্র ও কির্তী আজাদের মতো তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ভারতে দলটির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার নিন্দা জানিয়েছেন।

তবে বিজেপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, এই সংগঠনটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সীমান্তপারের ‘ইনফ্লুয়েন্স অপারেশন’-এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

সম্পর্কিত