যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তলানিতে, জ্বালানির বাজারে উৎকণ্ঠা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৫৫
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। খবর আলজাজিরা।

সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে সমন্বিত রুট ব্যবহার করে কোনো বড় জাহাজ এআইএস (অবস্থান শনাক্ত করার ট্র্যাকার) চালু রেখে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি। ওমানের উপকূল ঘেঁষা নৌপথে শনাক্তযোগ্য জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে। অথচ গত সোমবার এই সংখ্যা ছিল ৪৫টি।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। পারস্য উপসাগর ও বিশ্ববাজারের মধ্যে জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ইয়োকোসুকা কাউন্সিল অন এশিয়া প্যাসিফিক স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যাডফোর্ড আলজাজিরাকে বলেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে এবং বারবার জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প বন্দর ও রুট ব্যবহারের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের সক্ষমতা রয়েছে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং ওমান উপসাগর পর্যন্ত জাহাজে হামলা চালানোর। এতে পুরো অঞ্চলের নৌপরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়ে।’

তেলের দাম স্থিতিশীল

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) তেলের দাম বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই স্থিতিশীল ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ৫টায় ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ৫৮ ডলারে ছিল। এটি গতকাল বৃহস্পতিবারের শেষ দামের কাছাকাছি এবং গত বুধবারের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করার পর ব্রেন্টের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় এখনো ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলারের বেশি রয়েছে।

কানাডার টরন্টোভিত্তিক টিডি সিকিউরিটিজের পণ্য কৌশল বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, ‘বাজারের আস্থা রয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। তবে সর্বশেষ সংঘাত আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের মজুত কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার চাপ তৈরি করবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি আরও ১০ থেকে ১৫ ডলার বাড়তে পারে। তেল ও তেলজাত পণ্যের মজুত কমে গেলে সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে।’

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, ‘অপরিশোধিত তেলের চেয়ে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য, বিশেষ করে ডিজেল, বেশি চাপের মুখে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে।’

এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ রাতারাতি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পর আজ শুক্রবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ের বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচক দুপুরের পর ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। সিউলের কোস্পি সূচক বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত