মূল শর্তে দুই মেরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ম্যারাথন বৈঠকেও হলো না সমঝোতা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পেছনে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ছবি: রয়টার্স

দীর্ঘ আলোচনায়ও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন শর্তে আলোচনা করে দু’পক্ষ। তবে মূল শর্তগুলোতে একমত হতে না পারায় সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়ে ঐতিহাসিক এই বৈঠক। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।

রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমানা স্পষ্ট করে দিয়েছিল, কিন্তু ইরান শর্তগুলো মেনে নেয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানিরা আমাদের শর্ত মানবে–এমন কোনো অবস্থানে আমরা পৌঁছাতে পারিনি।’

অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এই আলোচনাকে ‘নিবিড়’ উল্লেখ করলেও এর সফলতা নির্ভর করছে ‘প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর’ বলে জানান।

বাঘাই ওয়াশিংটনকে ‘অত্যধিক দাবি এবং বেআইনি অনুরোধ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান এবং ইরানের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ মেনে নিতে বলেন।

হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়েছি। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।’

যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়েই আলোচনায় যোগ দিয়েছিল দাবি করে ভ্যান্স বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একটি সাধারণ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি এবং এটিই আমাদের চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরানিরা তা গ্রহণ করে কিনা।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, ‘আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, পাকিস্তানিরা অসাধারণ কাজ করেছে।’

এ সময় তার পেছনে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। মার্কিন এ প্রতিনিধিদল আজই পাকিস্তান ছাড়বেন বলেও জানা গেছে।

ইরানের পরমাণু সক্ষমতা বন্ধ করাই ‘মূল লক্ষ্য’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, ‘সহজ সত্য হলো, আমাদের এমন একটা ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দরকার যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও খুঁজবে না যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম করে তোলে।’

তিনি একে ট্রাম্পের ‘মূল লক্ষ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করার দাবি করে বলেন, তবে ভবিষ্যতে তারা যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে একটি ‘মৌলিক সদিচ্ছার প্রতিশ্রুতি’ প্রয়োজন। আমরা এখনও তেমন কিছু দেখিনি। তবে আমরা আশা করছি তা দেখতে পাব।

বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে

ভ্যান্স জানিয়েছেন, আলোচনায় ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদসহ আরও অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তবে এমন কোনো পরিস্থিতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি ছিল।’

আলোচনার টেবিল ছাড়ার ‘অজুহাত খুঁজছিল’ যুক্তরাষ্ট্র

ইরানি প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দেশটির সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিল ছাড়ার জন্য একটি অজুহাত খুঁজছিল।

সূত্রটি দাবি করেছে, ‘আমেরিকানদের এই আলোচনার প্রয়োজন ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার জন্য। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয় এবং অচলাবস্থা সত্ত্বেও তারা তাদের প্রত্যাশা কমাতে রাজি ছিল না।’

পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য ইরানের বর্তমানে কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত