ছত্তিশগড়ে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের ২৩ শ্রমিক আটক, পরে মুক্তি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪৫
আদালতের আদেশের পর ১৯ জনকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। সংগৃহীত ছবি
আদালতের আদেশের পর ১৯ জনকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। সংগৃহীত ছবি

ছত্তিশগড়ে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক পশ্চিমবঙ্গের ১৯ পরিযায়ী শ্রমিক নাগরিকত্ব যাচাই শেষে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় আদালতের আদেশের পর সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক ২৩ শ্রমিকের ১৯ জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যে গরমিল এবং পশ্চিমবঙ্গের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনে’ (এসআইআর) ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় বাকি ৪ জন এখনো হেফাজতে রয়েছেন।

আটকদের পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, তাঁরা ভারতীয় নাগরিক এবং তাঁদের কাছে বৈধ ভোটার ও আধার কার্ড রয়েছে।

বিলাসপুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) রজনীশ সিং জানান, যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি চারজনের বিষয়ে রিপোর্ট পাওয়ার পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, আটক তেইশের মধ্যে ২২ জন মুসলিম ও একজন হিন্দু। এদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের সুতি, রঘুনাথগঞ্জ ও সামশেরগঞ্জ এলাকার এই শ্রমিকরা গৃহস্থালির জিনিসপত্র বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতে বিলাসপুরে গিয়েছিলেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর কাজ থেকে ফেরার পর নোটিশ ছাড়াই পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

৭ সেপ্টেম্বর বিলাসপুর পুলিশ দাবি করে, মুর্শিদাবাদে বিশেষ তদন্ত দল পাঠিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে আটক সবাই বাংলাদেশি। তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সে সময় তাদের রায়পুরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। পরে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদা ও জঙ্গিপুরে স্থানীয় প্রশাসন ভোটার তালিকা, পারিবারিক নথি এবং স্থায়ী ঠিকানা যাচাই করে আটকদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে।

পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (পিইউসিএল)-এর ছত্তিশগড় শাখা পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানায়, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সময় না দিয়ে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সামিরুল ইসলাম এক্সে লেখেন, ‘এটি বছরের পর বছর ধরে চলছে। এখন ভিনরাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই নাগরিকত্ব প্রমাণের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।’

বিলাসপুরের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোকে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিকদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের ব্যাপক হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই ধরনের আটকের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে। তবে এই হয়রানি থামছে না।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়্যার

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত