ইরানে নতুন হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, ‘কঠিন জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিষয়ে সতর্ক করে ‘কঠিন পাল্টা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়া’, অর্থনৈতিকভাবে ‘পচতে দেওয়া’ অথবা চুক্তিতে পৌঁছানো- এই বিকল্পগুলোই সামনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কখন এবং আদৌ আমি পুরো দেশটিকে উড়িয়ে দেব কি না?’ এরপর ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘তাদের ভালো আচরণ করাই ভালো।’
অন্যদিকে রোববার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য পেয়েছে তেহরান। ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
রেজাই বলেন, নতুন হামলার জন্য ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্ররা হামলায় যুক্ত হলে তাদেরও সংঘাতের পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।
তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রেখেছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত পাঠানো হয়েছে বলে জানান রেজাই। প্রকাশ্যে আসা শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। এখন ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক হতে পারে। একই অধিবেশনে পেজেশকিয়ান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে নিয়ে একটি প্রতিনিধিদলকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও নিজেদের কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, জুনে হওয়া সমঝোতার শর্তগুলো ইরানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুনরায় খোলা হবে না।
রেজাই জানিয়েছেন, হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। তবে সেটি প্রকাশের আগে আঞ্চলিক সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। তবে ট্রাম্প এ মূল্যবৃদ্ধিকে যুদ্ধের জন্য ‘সামান্য মূল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, জ্বালানির দাম দ্রুতই কমে আসবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ফলে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সামরিক উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
.png)
-3f0d26.jpeg)





