নতুন লাইসেন্স স্থগিত হচ্ছে, বাড়ছে শাস্তির মাত্রা

থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩৪
ননথাবুরির স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় স্বামীকে হারান এই নারী। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশটিতে আপাতত নতুন করে আর বেসামরিক নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা, ক্রয় ও বহনের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। বিদ্যমান লাইসেন্সধারীরাও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবেন না। এছাড়া তারা আইন লঙ্ঘন করলে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফ ও বিবিসি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র মালিকানার হার সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে। প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে। দেশটিতে অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের হারও অনেক বেশি।

সম্প্রতি এক স্কুলছাত্রের বন্দুক হামলার ঘটনার পর থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশকে নতুন লাইসেন্স প্রদান স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রথমে বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে সে নিজের স্কুলে গিয়ে আরও পাঁচ শিক্ষক-কর্মীকে হত্যা করে। হামলায় আহত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর শনিবার মারা যায়। সেই স্কুলছাত্র নিজেও গুলি করে আত্মহত্যা করে।

হামলায় ব্যবহৃত বন্দুকটি তার দাদার মালিকানাধীন ছিল। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্তে কিশোরটির অনলাইনে সহিংস ভিডিও দেখার বিষয় উঠে এসেছে। এর আগেও সে একটি এয়ারগান নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও রাজপরিবারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক জানানো হয়েছে।

এদিকে নিহত দাদা-দাদি ও কিশোরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। কিশোরটির বাবা বলেছেন, ছেলের এমন কর্মকাণ্ডের কারণ তিনি এখনো বুঝতে পারছেন না। স্বজন হারানো ও সন্তানের কৃতকর্মের জন্য তিনি একই সঙ্গে গভীর শোক ও অপরাধবোধে ভুগছেন বলে জানান।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত