তিন পর্যটকের মৃত্যু, হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ২৩: ৪২
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

‘এমভি হোন্ডিয়াস’ প্রমোদতরীতে (ক্রুজ শিপ) হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলেও সতর্কতা অবলম্বন করলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই এটিকে আটকে রাখা সম্ভব।

জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রিয়েসুস জানান, এ পর্যন্ত পাঁচজনের শরীরে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তিনজন সন্দেহভাজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আন্দিজ ভাইরাসের এই বিরল স্ট্রেইনটির সুপ্তিকাল বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে আগামীতে আরও কিছু নতুন কেস শনাক্ত হতে পারে।’

ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই জাহাজের যাত্রীদের শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি প্রস্তুতি বিষয়ক পরিচালক মারিয়া ভ্যান কেরখোভ আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘এটি কোনো নতুন মহামারি বা অতিমারির শুরু নয়। হান্টাভাইরাস কোভিডের মতো সংক্রামক নয়।’

হান্টাভাইরাস মূলত বিরল শ্বাসতন্ত্রের রোগ যা সংক্রমিত ইঁদুর বা রোডেন্ট জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগের জটিলতা এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হতে পারে। বর্তমানে এই রোগের কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নেই; কেবল উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ প্রমোদতরী যাত্রা শুরু করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একজন যাত্রী বোর্ডিংয়ের আগেই সংক্রমিত ছিলেন এবং পরে সমুদ্রযাত্রার সময় অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথম মৃত্যুটি ঘটে ১১ এপ্রিল। ৩ মে ওই জাহাজের আরেক জার্মান নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়। ৪ মে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে মারা যান। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের তেনেরিফে দ্বীপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষ সকল যাত্রীর বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছে।

তথ্যসূত্র: এএফপি

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত