যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে ইরানে ‘গুপ্ত’ হামলা চালায় সৌদি আরব

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১০: ৪৪
সৌদি আরবের একটি ফাইটার জেট বিমান। ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধ যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন তেহরানে গোপনে সৌদি আরব সামরিক হামলা চালায়। প্রতিশোধ হিসেবে রিয়াদ এই হামলা চালায় বলে পশ্চিমা ও ইরানি চারটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, সৌদি বিমানবাহিনী মার্চের শেষে ইরানের ভেতর কয়েকটি হামলা চালায়। তবে কোথায় কোথায় হামলা করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি আরব বা ইরান কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সৌদি আরবের বিমানবাহিনী পরিচালিত এসব হামলা মার্চের শেষ দিকে হয়েছিল বলে ধারণা তাদের। সৌদি আরবে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তথ্য সঠিক হলে সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সৌদি আরব প্রথমবার কোনো সামরিক অভিযান চালায়। এতে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে রিয়াদের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ আগ্রাসন চালায়। তেহরান জবাব দিলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরান উপসাগরীয় ছয়টি দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও বিমানবন্দর, তেল অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে বোঝা যাচ্ছে ইরানি হামলার জবাবে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোও পাল্টা আঘাত হেনেছিল।

সৌদি আরবের ভিন্ন কৌশল

ইরানে হামলার ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একই কৌশল নেয়নি। আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিলেও সৌদি আরব প্রকাশ্যে উত্তেজনা বাড়ায়নি। তারা তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, সৌদি আরব সব সময় উত্তেজনা কমানো, আত্মসংযম ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

পশ্চিমা ও ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, হামলার পর সৌদি আরব বিষয়টি ইরানকে জানায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেছেন, এই ঘটনা দেখায় দুপক্ষই বুঝতে পেরেছে– নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগেই সৌদি আরব এবং ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে উত্তেজনা কমাতে সম্মত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব ও ইরান দ্বন্দ্ব রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। এরপর ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকে।

রয়টার্সের হিসাবে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। তবে ১ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে এটি কমে ২৫টির কিছু বেশি হয়।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত