বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের নেম প্লেট। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের নেম প্লেট। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির মধ্যে বিশ্বজুড়ে সব অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া কবে শুরু হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে আগে থেকেই নির্ধারিত থাকা সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া কিছু আবেদনকারীকে ই-মেইলে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে।

তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রশিক্ষণের অজুহাতে আবেদনকারীদের বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—এমন আবেদনকারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়ানোর প্রস্তাবের এক দিন পর ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের এই খবর এলো। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন এই ভিসার আবেদন ফি প্রায় ৫০ গুন বাড়িয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। নতুন প্রস্তাবটি ৩০ দিনের জনমত গ্রহণের পর কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুনে আদালতের রায়ে সেই উদ্যোগ আটকে যায়।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর মধ্যে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল, অভিবাসন আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের মতো পদক্ষেপ রয়েছে। ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থী ও বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও বহিষ্কার অভিযান চালাচ্ছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এতে বৈষম্য ও জাতিগত ভেদাভেদের ঝুঁকি বাড়ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত