যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা: পাল্টা যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে কানাডা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: সংগৃহীত
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা। এর পদক্ষেপের প্রভাব পড়তে পারে আমেরিকান ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর।

ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ শুল্কের সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে অটোয়া। তবে এর বাইরেও কানাডার হাতে আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপও রয়েছে।

কানাডা সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে—

প্রথম পদক্ষেপ শুল্ক আরোপ

চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে কানাডার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ইস্পাত, দুগ্ধজাতীয় পণ্য, গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকসের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে। মঙ্গলবার এসব শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসতে পারে।

ইস্পাত ছাড়া এসব খাতের সবই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে। এসব খাতে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের জন্য কানাডা গুরুত্বপূর্ণ বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এসব খাতের বেশির ভাগ বড় গন্তব্য ছিল কানাডা।

কার্নি আরও বলেছেন, ট্রাম্প এরই মধ্যে যেসব শিল্পে আলাদা শুল্ক আরোপ করেছেন, সেসব শিল্পের বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে কানাডা। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও তামা। এতে আমেরিকানদের চিন্তার কারণ হলো, কানাডায় এসব পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হলে চাহিদা কমতে পারে। ফলে নিয়োগদাতারা কর্মীদের কাজের সময় কমাতে বাধ্য হতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাইও হতে পারে।

বিদ্যুৎ ও গাড়ি শিল্প

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে সর্বশেষ শুল্কের বাইরে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প যদি তা করেন, অথবা অন্য কোনোভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল করেন, তাহলে কানাডা আরও কিছু ব্যবস্থা নিতে পারে। নীতি কৌশলবিদ এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা ডায়মন্ড ইজিঙ্গার বলেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি এবং পটাশ নামে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সার উপাদানের রপ্তানি কমিয়ে দিতে পারে।

আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিদ্যুৎ। সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্টারিওর প্রিমিয়ার (প্রাদেশিক সরকার প্রধান) ডগ ফোর্ড বলেছেন, বাণিজ্যযুদ্ধ আরও খারাপ হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ করার জন্য কানাডার প্রস্তুত থাকা উচিত। নিউ ইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটাসহ কয়েকটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সোমবার কার্নিও ফোর্ডের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, কোনো কিছুই আলোচনার বাইরে নয়।

আমেরিকানরা ইতোমধ্যে মূল্যবৃদ্ধির চাপের মুখে রয়েছেন। এ ধরনের পদক্ষেপ মার্কিনিদের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে। জুলাইয়ের ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। গ্যাসের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে বাড়ি চালানোর খরচও। বিদ্যুৎ ও পাইপলাইনের গ্যাস—দুটির দামই গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।

মার্কিনিদের ওপর সরাসরি প্রভাব

শুল্কের কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য কানাডায় পণ্য বিক্রি করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে আমেরিকান কোম্পানি ও ভোক্তাদের খরচ বেড়ে যেতে পারে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে অথবা সেগুলো সংগ্রহ করা কঠিন হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত বছর অন্টারিও সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করেছিল। তখন অন্টারিও সরকার হিসাব করে বলেছিল, এতে ১৫ লাখ আমেরিকান বাড়ির ওপর প্রভাব পড়েছিল। তখন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ লাখ কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার) খরচ করতে হয়েছিল।

ইজিঙ্গার বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ কানাডীয় পণ্যের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব দ্রুতই আমেরিকান ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। এতে তাদের টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত