যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০ পণ্যে বড় পাল্টা শুল্ক বসাচ্ছে কানাডা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার ক্লেয়ারটনে অবস্থিত ইউ.এস. স্টিল ক্লেয়ারটন কোক প্ল্যান্ট। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার ক্লেয়ারটনে অবস্থিত ইউ.এস. স্টিল ক্লেয়ারটন কোক প্ল্যান্ট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের জবাবে দেশটির ওপর বড় পরিসরে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রসাধনী, দুগ্ধপণ্য, কাঠজাত পণ্য ও আউটডোর সরঞ্জামসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের পণ্যে এসব শুল্ক বসবে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের প্রায় ‘ডলার-ফর-ডলার’ সমান হবে কানাডার পাল্টা শুল্ক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডার অর্থমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী সরকারের এই ‘লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের’ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, কানাডার পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যায্য শুল্ক আরোপের জবাবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যকর হয়।

এর আগে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ৫ শতাংশ রপ্তানির ওপর শুল্ক আরোপ করায় তার সরকারও ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

কানাডার পাল্টা শুল্কের আওতায় পড়বে ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য। এর মধ্যে ইস্পাত, দুগ্ধপণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের পণ্য রয়েছে।

অটোয়া প্রকাশিত তালিকায় ৭০০টির বেশি পণ্য রয়েছে। বেশিরভাগ পণ্যে ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে অল্প কিছু পণ্য, যেমন এয়ারকন্ডিশনার ইউনিট ও যন্ত্রাংশের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। এসব শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হবে।

পাল্টা শুল্ক ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কানাডা ঐক্যবদ্ধ। কানাডা এখনো নিজের ঘরের মালিক।

শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বাণিজ্যযুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের কানাডীয় পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনাদের ক্ষমতা রয়েছে।

সর্বশেষ শুল্কের কারণে কানাডায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর জন্য ৭ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

কানাডার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ায় দুই দেশই বাণিজ্যযুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিল। এ বাণিজ্যযুদ্ধে দুই দেশেরই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত