পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রাসেলস সফর: বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার শুরুর আহ্বান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৫৪
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ঢাকার আগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্রাসেলস সফরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের সঙ্গে আলোচনাকালে আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

একইসঙ্গে তিনি বাজার প্রবেশাধিকারসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় তুলে ধরেন এবং ইইউ-এর সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

বিবরণীতে জানানো হয়, সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের উপস্থিতিতে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) সদরদপ্তরে বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারত্ব চুক্তি (পিসিএ) অনুস্বাক্ষরিত হয়, যা বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ড. খলিলুর রহমান এবং কায়া কালাস পিসিএ’র এই অনুস্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। তাঁরা এই চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা হিসেবেও উল্লেখ করেন। চুক্তিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

এই চুক্তি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে বলেও যৌথভাবে তাঁরা মতপ্রকাশ করেন।

পরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউ-এর উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস-প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের চলমান সংস্কার, পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে ইইউ-এর একটি শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য কালাসকে ধন্যবাদ জানান।

কায়া কালাস একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিবাসন, ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে ইইউ-এর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য ইইউ-এর অব্যাহত সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী বৈঠক

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র, ইউরোপীয় বিষয়ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়কমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এ সময়ে উভয়পক্ষই বাংলাদেশ-বেলজিয়ামের কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, উদ্ভাবন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরোওসুসংহত করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।

উভয়পক্ষ চলতি বছরের শেষে ব্রাসেলসে তৃতীয় বাংলাদেশ-বেলজিয়াম দ্বিপাক্ষিক কন্সাল্টেশনস আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলেও বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনাসহ যেসব ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের দক্ষতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে বেলজিয়ামের আরও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান। উভয়পক্ষ অভিবাসন, ভিসা ও কনস্যুলার বিষয় এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয়পক্ষই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা উত্তোরত্তর বৃদ্ধির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করে।

এক দিনের এ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এবং বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইইউ মিশনের প্রধান খন্দকার মাসুদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত