দিনাজপুরে তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দিনাজপুর

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৪
ধর্ষণের প্রতীকী ছবি
ধর্ষণের প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের বিরামপুরে একটি মাদ্রাসায় তিন শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলী হাসান নামে এক শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নুল আবেদীনের কাছে শিশুদের ধর্ষণের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষক আলী হাসান পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার তিখুর বাজার এলাকার বাসিন্দা। এক বছর ধরে তিনি বিরামপুরের চড়াইভিটা রহমানিয়া হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা। এতে তার ছেলেসহ তিনজনকে ধর্ষণের অভিযোগ করেন তিনি। ওই মামলা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবাসহ স্থানীয় লোকজন। এর একপর্যায়ে তিনি লোকজনের সামনে অপরাধের কথা স্বীকার করেন। এতে উত্তেজিত জনতা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরবর্তীতে বিরামপুর থানা পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয় আলী হাসানকে।

এজাহারে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা অভিযোগ করেন, তার ছেলে চড়াইভিটা রহমানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা দেড় বছর ধরে পড়ালেখা করছে। অভিযুক্ত আলী হাসান সেখানে যোগ দেওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে শিশু শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ করে আসছেন। এসব ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখান তিনি। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে আগের পাঁচ দিনে তার ছেলেসহ দুই শিশুকে ধর্ষণ করেছেন তিনি। শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি স্বীকার করেছেন।

মাদ্রাসায় স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক জানান, তিনি বিভিন্ন সময় ওই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছেন। এসবের ভিডিও ধারণ করে রাখতেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, আসামি আলী হাসান তিন শিশুকে ধর্ষণ করার বিষয়টি আদালতে স্বীকার করেছেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত