
আধুনিক শহরের চিত্র কল্পনা করলে চোখে ভাসে চওড়া পিচঢালা রাস্তা, সারিবদ্ধ যানবাহন, আকাশছোঁয়া বহুতল ভবন, ঝলমলে শপিং মল, এবং সবুজে ঘেরা দৃষ্টিনন্দন উদ্যান। এ যেন মধ্যবিত্তের সাজানো-গোছানো সংসারেরই নগর সংস্করণ। রাষ্ট্র ও সমাজের চোখেও ‘উন্নত শহর’-এর প্রচলিত সংজ্ঞা অনেকাংশে এমনই। পরিচ্ছন্ন ফুটপাত, নিয়ন্ত্রিত যানবাহন, নির্দিষ্ট পার্কিং, পরিকল্পিত ভবন, নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক এলাকা—সবকিছু যেন একটি নির্দিষ্ট ছকে সাজানো থাকবে।
মূলত, এই প্রবণতার সূচনা হয় উনিশ ও বিংশ শতাব্দীতে, ইউরোপ-আমেরিকার শিল্পায়নের হাত ধরে। তখন থেকেই বড় বড় শহরের স্বতঃস্ফূর্ত নগর কাঠামো ভেঙে, তাকে আমূল বদলে ফেলার এক তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ঢাকা সহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোও ঠিক একই ধারায় গড়ে উঠছে।
কিন্তু শহর নিছক ভৌত অবকাঠামোর সমষ্টি বা ব্যবস্থাপনাযোগ্য কোন পরিসর নয়। বরং, এটি হলো বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও আকাঙ্ক্ষার মানুষের সহাবস্থান ও মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্র। তথাকথিত এই ‘আদর্শ শহর’-এর প্রচলিত ধারণায় বৈচিত্র্যের জায়গা সীমিত, নগরবাসীর বহুমাত্রিক বাস্তবতা সেখানে প্রতিফলিত হয় না। এখানে শহরকে প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক ও প্রশাসনিক ছকে কল্পনা করা হয়। যা সেই ছকে ফিট করে না, তাকে ‘অগোছালো’, ‘অবৈধ’, ‘দখলদার’, ‘বিশৃঙ্খল’ কিংবা ‘নগর সৌন্দর্যের জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
জ্যামিতিক ছকে আঁকা নকশায় শহরের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্রমে বৃহৎ অর্থনৈতিক অবদান রাখা খেটে খাওয়া মানুষের কোনো জায়গা থাকে না। নগর ব্যবস্থাপনায় এই মানুষগুলো হলো শহরের ‘অসংগঠিত’ বা ‘অবৈধ’ অংশ। শহরের চোখে তারা ‘সৌন্দর্য নষ্টকারী’ উপাদান। ফলে, এ ধরনের ছকে আঁকা শহর নির্মাণ প্রবণতা ঢাকার মতো উন্নয়নশীল ও একটি দ্রুত বর্ধনশীল মহানগরীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই নয়; বরং তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আধুনিক রাষ্ট্রের ‘পাঠযোগ্য শহর” গঠনের প্রচেষ্টা
আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানী জেমস সি. স্কট তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “সিয়িং লাইক আ স্টেট (১৯৯৮)”-এ দেখিয়েছেন, আধুনিক রাষ্ট্র জটিল ও বৈচিত্র্যময় সমাজকে প্রশাসনিকভাবে ‘পাঠযোগ্য’ করে তুলতে চায়। মানুষের জীবনযাত্রা, বসতি, জমির ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যত বেশি জটিল ও অনানুষ্ঠানিক হয়, সেগুলোকে প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা তত কঠিন। ফলে রাষ্ট্র অনেক সময় বাস্তবতার জটিলতাকে সরল করে একটি নির্দিষ্ট ছকে নিয়ে আসতে চায়। একেই স্কট বলেছেন ‘লেজিবিলিটি’ বা পাঠযোগ্যতা। আর শহরকে রাষ্ট্রের কাছে ‘পাঠযোগ্য’ করার প্রধান উপায় হলো জ্যামিতিক নকশা।
স্কট উদাহরণ দিয়েছেন কীভাবে উনবিংশ শতাব্দীতে প্যারিস শহরকে নতুন করে সাজানো হয়েছিল। আঁকাবাঁকা, জটিল গলিগুলো ভেঙে সোজা ও প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রাষ্ট্র কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সহজেই শহরকে অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এদিকে আবার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জ্যামিতিক শৃঙ্খলার ওপর হাই মডার্নিজম-এর অনুসারীদের অন্ধবিশ্বাস রয়েছে। বিখ্যাত স্থপতি ল্য করবুসিয়ে মনে করতেন, নিখুঁত জ্যামিতিক শহরই মানুষের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে। তাদের চোখে শহর একটি ‘মেশিন’ বা যন্ত্র; এখানে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও বিনোদন এলাকা সবকিছু আলাদা খোপে সাজানো থাকবে। কিন্তু বাস্তব জীবন যে এই কৃত্রিম বিভাজন মেনে চলে না, হাই মডার্নিস্টরা তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। জীবন স্বতঃস্ফূর্ত ও অনানুষ্ঠানিক। জ্যামিতিক ছকের খাঁচায় যখন জোর করে সেই জীবনকে বন্দি করা হয়, তখন তা আপাতদৃষ্টিতে কিছু সমস্যার সমাধান করলেও অন্যদিকে মারাত্মক সামাজিক ও মানবিক সংকট তৈরি করে।
মধ্যবিত্ত মনন সাধারণত এই 'হাই মডার্নিস্ট' নান্দনিকতাকে পছন্দ করে। তাদের চোখে ফুটপাতের হকার বা বস্তিবাসী এক ধরনের ‘ভিজ্যুয়াল নয়েজ’ বা বিশৃঙ্খলা। অথচ এরা প্রাত্যহিক জীবনে নানা ভাবে অবদান রাখে- খাদ্য, পোশাক, সেবা কিংবা শ্রমের মাধ্যমে। কিন্তু নগর সমাজ ও অর্থনীতির এই প্রয়োজনীয় অংশের বাস্তবতা উপেক্ষা করে তাদের অবৈধ ঘোষণা করাটাই যেন সহজ সমাধান হয়ে দাঁড়ায়।
ফলে জ্যামিতিক ছকে সাজানো শহরে এদের উচ্ছেদ রাষ্ট্রের কাছে যেন একটি টেকনিক্যাল বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নান্দনিক উচ্ছেদ (জেন্ট্রিফিকেশন)’। স্কটের মতে, রাষ্ট্র যখনই কোনো কিছুকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়, তখন সে অনানুষ্ঠানিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। অর্থাৎ, এই অতি পরিকল্পিত জ্যামিতিক শহর গড়ার নিশ্চিত পরিণতিই হলো ছিন্নমূল মানুষের বেঁচে থাকার উপায়কে অগ্রহণযোগ্য বা অবৈধ করে তোলা।
ঢাকার বাস্তবতায় দেখা যায়, ফুটপাতে কিংবা রাস্তার অংশ দখল করে গড়ে ওঠা দোকানসমূহ শহরের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য, পোশাক, দৈনন্দিন জিনিস পত্র ও বিনোদনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম বহু পরিবারের জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে কাজ করছে। নগর ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের কার্যক্রমকে প্রায়শই অবৈধ দখল বা অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে নগর অর্থনীতির দৃষ্টিতে এগুলো একটি জীবন্ত অর্থনৈতিক ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়া । অর্থাৎ, শহরের মানচিত্রে যা ‘দখল’ হিসেবে প্রতীয়মান, বাস্তব জীবনে সেটিই হয়ে ওঠে জীবিকা, সেবা এবং সামাজিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
শহর, একটি নাগরিক অধিকার
মার্ক্সবাদী ভূগোলবিদ ও নগর গবেষক ডেভিড হার্ভে ২০০৮ সালে ‘রাইট টু দ্য সিটি’ ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, শহরের ওপর অধিকার মানে কেবল সেখানে বসবাসের অধিকার নয়; বরং শহর কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকারও। অর্থাৎ, শহর কোনো ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, টেকনোক্রাট, পেশাজীবী, আমলা, ভূস্বামী, কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। শহর তাদেরও, যারা প্রতিদিন নিজেদের শ্রম দিয়ে নগরকে সচল রাখেন।
হার্ভের মতে, ‘রাইট টু দ্য সিটি’ মানে কেবল শহরের রাস্তায় হাঁটার বা পার্ক ব্যবহারের আইনি অধিকার নয়; বরং শহর গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় যৌথ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার।
স্কট তার বইতে খুব দরকারি প্রাচীন গ্রীক দুটি ধারণা ব্যবহার করেছেন, ‘টেকনে’ এবং ‘মেটিস’। টেকনে হলো রাষ্ট্রের ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া তাত্ত্বিক, জ্যামিতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান (যেমন: আর্কিটেকচারাল ব্লুপ্রিন্ট বা মাস্টারপ্ল্যান)। অপরদিকে, মেটিস হলো মানুষের স্থানীয়, প্রায়োগিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞান, যা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। ফুটপাত বা বস্তির নিজস্ব অর্থনীতি ও শৃঙ্খলা, যা কোনো ব্লুপ্রিন্টে ধরা যায় না, এটাই মেটিস। টেকসই ও অভিঘাত সহিষ্ণু শহরের জন্য দুটোই জরুরি। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় না হলে শহরের প্রকৃত চরিত্র ও আকাঙ্ক্ষা বোঝা যায় না।
প্রতিটি শহরের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, অর্থনৈতিক কাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক মেজাজ। শহরকে যদি কেবল উচ্চবিত্তের বিনিয়োগ ও মধ্যবিত্তের নান্দনিকতার ক্ষেত্র হিসেবে কল্পনা না করে একটি যৌথ সামাজিক প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়, তাহলে নগর ব্যবস্থাপনার ভাষাও ভিন্ন হতে হবে। বাংলাদেশের শহরগুলো বিশেষভাবে শ্রমনির্ভর, যেখানে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি নগর জীবনের কেন্দ্রীয় উপাদান। হকার, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহকর্মী, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুর ছাড়া শহরের দৈনন্দিন কার্যক্রম কল্পনা করা যায় না। তবুও নগর ব্যবস্থাপনার আলোচনায় তাদেরকে প্রায়ই সমস্যার অংশ হিসেবে দেখা হয়, সমাধানের অংশ হিসেবে নয়।
সাংস্কৃতিকাধিপত্য ও আকাঙ্ক্ষার ফাঁদ: একই লেন্সে বন্দি শহর
কিন্তু আসল সংকটের জায়গা হলো উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সবাই একই “লেন্সে” শহরকে দেখে। উচ্চবিত্ত চায় শহর তার পুঁজি বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক ও উৎপাদনশীল হোক, যার জন্য শহরকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলতে হবে; মধ্যবিত্ত চায় সবকিছু গোছানো, পরিচ্ছন্ন ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ; আর নিম্নবিত্ত চায় কোনোভাবে এর ভেতরে জায়গা করে নিতে। অর্থাৎ, দিনশেষে আমরা সবাই এই জ্যামিত্যিক শহরকেই আদর্শ মনে করি। আর এ কারণেই হকার উচ্ছেদ কিংবা বস্তি পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আমরা সাময়িকভাবে কষ্ট পেলেও, মনের গভীরে এক ধরনের নীরব আপস তৈরি হয়।
কিন্তু দিনশেষে নিম্নবিত্ত যখন শহর থেকে ছিটকে পড়ে, তখন সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা কমে যায়, সেবা খাতে তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। যা শেষ পর্যন্ত সব শ্রেণিকেই আঘাত করে।
নিম্নবিত্তের এই ‘মধ্যবিত্ত হয়ে উঠতে চাওয়া’ বোঝা যায় গ্রামশির ‘হেজেমনি’ ধারণা থেকে। শাসক শ্রেণী তাদের চিন্তাভাবনা ও জীবনধারা এমনভাবে ছড়িয়ে দেয় যে প্রান্তিক মানুষও বিশ্বাস করতে শুরু করে- এটাই একমাত্র সুন্দর জীবন। উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক একে সাবঅল্টার্নের ‘কণ্ঠহীনতা’ বলেছেন। ছিন্নমূল মানুষ যখন নিজের ভাষা ও পরিচয় হারিয়ে মধ্যবিত্তের জীবনকে অনুকরণ করতে চায়, তখন সে অজান্তেই পাতা ফাঁদে পা দেয়। ফলে অধিকার আদায়ের লড়াই বাদ দিয়ে সে মরিয়া হয়ে ওঠে যেকোনো উপায়ে মধ্যবিত্তের কাতারে নাম লেখাতে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর বিনির্মাণে
সমাজতত্ত্বে ‘মধ্যবিত্তীয় দৃষ্টিভঙ্গি’ বলতে এক ধরনের গড় সামাজিক মনস্তত্ত্ব বোঝানো হয়। এটি কোনো অর্থনৈতিক শ্রেণি নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট মূল্যবোধ, মনন বা সামাজিক চেতনা, যেখানে জীবন ও চারপাশকে এক কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক ছাঁচে দেখা হয়। কোনটি ‘শৃঙ্খলা’, কোনটি ‘উন্নয়ন’ এবং কোনটি ‘বিশৃঙ্খলা’- এই সংজ্ঞাগুলোও অনেকাংশে এই মানসিকতার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়। আধুনিক সময়কালে শহরগুলোকে মূলত এ ধরনের ‘লেন্স’ দিয়ে দেখা হয়, যেখানে সবকিছুই নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা, সাজানো-গোছানো, সুশৃঙ্খল। এখানে মানুষ শুধু কিছু ‘সংখ্যা’ হিসাবে বিবেচিত হয়। এই ‘সংখ্যা’কে কিভাবে শহরের সাজানো গোছানো তথাকথিত নিখুঁত পরিকল্পিত অবয়বে খাপ খাওয়ানো যায়, তারই প্রচেষ্টা চলে অবিরাম।
ঢাকার ফুটপাতের হকার, রাস্তায় চলাচলকারী রিকশা, পাড়া-মহল্লার ক্ষুদ্র দোকান, নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, দিনমজুর কিংবা শহরের বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বসতি- এসবকে আমরা প্রায়ই নগর ব্যবস্থাপনার ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখি। অথচ এই মানুষদের ছাড়া শহরের দৈনন্দিন জীবন একদিনের জন্যও সচল রাখা কঠিন।
নগর ব্যবস্থাপনা শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। শহর শুধু জ্যামিতিক রেখা, চওড়া রাস্তা বা কংক্রিটের ভবনের সমষ্টি নয়; শহর গড়ে ওঠে মানুষের সম্পর্ক, স্মৃতি, শ্রম, আকাঙ্ক্ষা আর যাপিত জীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর বিনির্মাণে আমাদের এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে হবে, যা শৃঙ্খলা ও মানবিকতা, পরিকল্পনা ও বাস্তবতার রূঢ়তা, এবং নান্দনিকতা ও জীবিকার অধিকারের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। তখনই শহর সত্যিকার অর্থে সবার শহর হয়ে উঠে।
- মোহাম্মদ রাসেল কবির: নগর পরিকল্পনাবিদ, গবেষক এবং পরামর্শক
- শাহরিয়ার ফরহাদ: নৃবিজ্ঞানী, গবেষক এবং পরামর্শক
(লেখকদ্বয় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি' (আইডিয়াস)-এর সঙ্গে গবেষক হিসেবে যুক্ত আছেন।)
.png)









